আজ বুধবার মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ছবি ‘ডুব’ এর ট্রেলার। তার আগে নিজের ভাবনা তুলে ধরলেন ছবির নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। বুধবার নিজের ফেসবুকে পেইজে ফারুকী তুলে ধরেন তার ভাবনা।
ফারুকী ফেসবুকে লিখেছেন,
“ট্রেলার মুক্তির দিনগুলোতে ভাবনা :
আমি একটা ছবি তখনই বানাই, যখন সেটা না বানিয়ে আর থাকতে পারিনা।
একটু খুলে বলি। আমি সাধারণত স্রেফ একটা গল্প বলতে হবে তাই বলা বা একটু হাসাতে হবে তাই একটু কোমর ঝাঁকিয়ে হাসিয়ে দেয়া, বা একটু কাঁদাতে হবে তাই কাঁদিয়ে দেয়া – এই ভাবে দেখি না জিনিসটাকে। আমি যে সময়ে বাস করি, বা যে সময়ে আমার পূর্ব পূরুষ বাস করেছে বা ভবিষ্যত পুরুষেরা বাস করবে, সে সময়ের সাথে আমার একটা কথোপকথন হচ্ছে আমার সিনেমা। সময়ের অনেক কিছু আমাকে স্পর্শ করে, নাড়া দেয়। আমার ছবিকে এসবের এক ধরনের প্রতিক্রিয়া ভাবতে পারেন।
কোনো কোনো ঘটনা বা চরিত্র যখন আমাকে প্রথমে আক্রমণ করে, সাথে সাথেই কিন্তু আমি স্ক্রিপ্ট লিখতে বসে যাই না। আমি ঐ ঘটনা বা চরিত্রের অণুপ্রেরনা আমার বালিশের নীচে রেখে মাসের পর মাস ঘুমিয়ে কাটাই। দেখার চেষ্টা করি, তারে আমি এড়াইতে পারি কিনা। যদি এক সময় দেখা যায় এড়াইতে পারতেছি, তখন আমি বুঝি এই গল্প আমার না বানাইলেও চলবে।
ঐ গল্প বালিশের নীচ থেকে ফেলে নতুন গল্পের খোঁজে নামি তখন। ডুবের গল্পের সাথেও মোটামুটি কয়েক বছর ঘর করেছি আমি। এমনকি দুই হাজার তেরো সালে এই গল্প ফিল্ম বাজার ইন্ডিয়ায় অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পরও আমি কয়েক বছর সময় নিছি চরিত্রগুলার অসহায়ত্ব বোঝার জন্য।
তারপর আরো ম্যালা সময় পার হয়ে আজকে ছবিটা তার দর্শকের কাছে যাচ্ছে। আই ফিল হ্যাপি এন্ড কিউরিয়াস অ্যাট দ্য সেম টাইম। ছবিটা যেনো মানুষ দেখতে না পায় তার জন্য দেশী বিদেশী অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে, নোংরা রাজনীতিও হয়েছে। কিন্তু আজ আর সেসব কথা বলবার দিন নয়। এখন সময় ছবিতে ডুব দেবার। ছবিটা বাইরে দেখানোর পর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তিনটা সিনেমার কাগজেই রিভিউ করেছে এবং রিভিউতে তুমুল প্রশংসাই করেছে। তাতে আমি নিশ্চয়ই আনন্দ বোধ করেছি। কিন্তু তার চেয়ে জরুরী যে কথাটা ঐ রিভিউগুলাতে এসেছে সেটা হচ্ছে, ছবিটার নুয়ান্সড লেয়ারস। এই লেয়ারগুলা বানানো যেমন আনন্দের, দর্শক হিসাবে সেই লেয়ারগুলা আবিষ্কার কম আনন্দের নয়। কার জীবনের সাথে মিল আছে, কতখানি মিল আছে, আরো কি কি মিল থাকতে পারতো, এসবের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলার অসহায়ত্ব বোঝার চেষ্টা করা, জটিলতা বোঝার চেষ্টা করা, লেয়ারগুলা আবিষ্কার করা! কারন জীবন কিন্তু খুব জটিল, ভাই!
আহারে জীবন, আহা জীবন।”










