কোপা আমেরিকার প্রস্তুতি সামনে রেখে মাঠে নেমে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভিন্ন স্বাদ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। আকাশী-নীলরা হেরে এবং সেলেসাওরাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল ড্র করে। দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের মিশনে সফল দুদলই। মঙ্গলবার রাতে চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতছে ব্রাজিল। আর মরক্কোকে কোনোমতে ১-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।
প্রাগে ম্যাচের প্রথমার্ধে ব্রাজিল বল দখলে এগিয়ে থাকলেও নিয়ন্ত্রণ ছিল চেকের হাতেই। বেশকিছু সুযোগ পেয়েছিল তারা। ম্যাচের ২২ মিনিটে প্রায় গোল পেয়েই যাচ্ছিল দলটি। পাত্রিক শিকের নিচু ফ্রি-কিকে এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল জালের দিকেই যাচ্ছিল। ঝাঁপিয়ে পড়ে তা ঠেকান গোলকিপার অ্যালিসন বেকার।
৩৭ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলটি পায় চেক। তবে এ গোলের কিছুটা হলেও দায় রয়েছে ডিফেন্ডার মার্কিনহোসের। তার পায়ে লেগে অনেকটা ফাঁকায় পেয়ে যান ডেভিড পাভেলকা। দূরপাল্লার দারুণ এক শটে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এই মিডফিল্ডার।
দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটেই সমতায় ফেরে ব্রাজিল। মারেক সুচির ভুলে ফাঁকায় বল পেয়ে জান রবার্তো ফিরমিনো। আর তা থেকে গোল আদায় করে নিতে কোনো ভুল করেননি লিভারপুল ফরোয়ার্ড।
৮৩ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের মধ্যে বদলী খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল জেসাসকে আড়াআড়ি পাস দেন ডেভিড নেরেস। বল পেয়ে আলতো টোকায় লক্ষ্যভেদ করেন ম্যানচেস্টার সিটির এ ফরোয়ার্ড।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে দলের জয় নিশ্চিত করেন জেসাস। ডি-বক্সের মধ্যে অ্যালানের পাস ধরে শট নিলে প্রথম দফা ফিরিয়ে দেন চেক গোলরক্ষক, কিন্তু বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি বলে দ্বিতীয় দফা শট নিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এ ফরোয়ার্ড।
অন্যদিকে, আগের ম্যাচে মেসির প্রত্যাবর্তনের উপলক্ষকে রাঙাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। উল্টো ডুবতে হয়েছে হারের লজ্জায়। পাশাপাশি হারের যন্ত্রণা আরো বেড়েছে মেসি চোটে পড়ায়। ঊরুর চোটে পড়ে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ থেকে ছিটকে যান ‘এলএম টেন’। মেসি না থাকলেও এ ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সামনে কোপা আমেরিকা অপেক্ষা করে আছে, তাই ঘুরে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময় হিসেবে নেয় মরক্কো ম্যাচ।
আর্জেন্টিনা জিতলেও ম্যাচে পরিষ্কারভাবেই ছিল স্বাগতিকদের আধিপত্য। বলের নিয়ন্ত্রণও ছিল তাদেরই বেশি। গোল করার মতো প্রথম সুযোগটাও পায় স্বাগতিকরা। ১১ মিনিটে বেলহান্ডার পাসে জোরাল শট নিতে পারলে গোল পেতে পারতেন খালিদ বোতায়িব।
২৮ মিনিটে আর্জেন্টিনার রদ্রিগো দি পলকে ফাউল করা নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায় মাঠে। প্রায় হাতাহাতিতে লিপ্ত হন দুই দলের খেলোয়াড়রা। বোতায়িবকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে সে যাত্রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন রেফারি। ম্যাচের ৪২ মিনিটে আরো এক দফা দুই দলের খেলোয়াড়রা হাতাহাতি লিপ্ত হন। এবার ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই দলের দুই খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখাতে হয় রেফারিকে। প্রথমার্ধেই মোট ফাউল হয় ২৫টি। ম্যাচে হয় মোট ৪৯টি।
মাঠের খেলায় উত্তেজনা ছড়াতে পারেনি কোনো দলই। ভালো কোনো আক্রমণ করতে পারেনি। ৭৯ মিনিটে পাওলো দিবালাকে তুলে জিওভানি লো সেলসোকে নামান আর্জেন্টিনা কোচ। তাতে কিছুটা প্রাণ আসে অতিথিদের খেলায়। চার মিনিট পর গোলও পায় দলটি। ম্যাতিয়াস সুয়ারেজের পাস থেকে দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন বদলী খেলোয়াড় কোরেয়া।
এরপর গোল শোধের চেষ্টা করলেও গোলের দেখা পায়নি মরক্কো। ফলে ১-০ গোলের স্বস্তির জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।









