শুক্রবার গভীর রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক যাত্রীসহ বিপুল পরিমাণ সৌদি রিয়াল ও মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত আটক করে শুল্ক গোয়েন্দা। যা বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা। আটক যাত্রীর নাম কামরুল হোসেন, বাড়ি মুন্সিগঞ্জ।
জুতার মধ্যে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা মানের বিদেশী মুদ্রা পাচারের সময় আটক কামরুল ওই মুদ্রা পাচার করে মালয়েশিয়ায় বিক্রি করতো বলে শুল্ক গোয়েন্দাদের জানিয়েছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ড. মইনুল খান বলেন, শুল্ক গোয়েন্দা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কামরুল নামের যাত্রীকে নজরদারিতে রাখে। ইমিগ্রেশনের পর বোর্ডিং সম্পন্ন করলে শুল্ক গোয়েন্দার দল তার কাছে কোন বৈদেশিক মুদ্রা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। পরে যাত্রীর দেহ তল্লাশি করে যাত্রীর পরিহিত জুতার ভিতর বিশেষ কায়দায় কাগজে মুড়িয়ে লুকায়িত অবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়।
যাত্রীকে ব্যাগেজ কাউন্টারে এনে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে জুতার ভিতর বিশেষ কায়দায় কাগজে মুড়িয়ে লুকায়িত অবস্থায় সর্বমোট ৭০,০০০ সৌদি রিয়াল ও ২২০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত উদ্ধার করে, যা বাংলাদেশি টাকায় এসব মুদ্রার পরিমাণ পনের লাখ ছিয়াশি হাজার দুইশত টাকা।
মইনুল বলেন, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন কামরুল। তার পাসপোর্ট চেক করে দেখা যায়, চলতি বছরে চারবার এবং ২০১৭ সালে ৩৩ বার বিদেশ গিয়েছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে মুদ্রা পাচার করে মালয়েশিয়ায় বিক্রি করেন এবং দেশে আসার সময় ল্যাপটপ, কসমেটিকস, সিগারেট ইত্যাদি নিয়ে আসার উদ্দেশ্যে এসব মুদ্রা অবৈধভাবে বহন করছিলেন। এরআগেও তিনি এভাবে ১০ থেকে ১২ বার মুদ্রা বহন করেছেন কোন প্রকার ঘোষণা ছাড়াই।
ঘোষণা ছাড়া এবং লুকানোর কারণে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ও শুল্ক আইন ভঙ্গ হয়েছে জানিয়ে শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক বলেন এ ব্যাপারে আটক যাত্রীকে শুল্ক আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসাথে অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে ।










