গাজায় ত্রাণকর্মী জোমি ফ্রাঙ্ককম হত্যার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা না করার ইসরায়েলি সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, এই সিদ্ধান্তে তিনি ‘ক্ষুব্ধ’ এবং এটি জবাবদিহির ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।
বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি প্রকাশিত তথ্যের এক বিবৃতিতে পেনি ওং জানান, বিষয়টি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত হিলেল নিউম্যানকে তলব করা হবে। পাশাপাশি পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সরকার আলোচনা করবে।
জোমি ফ্রাঙ্ককম ছিলেন অস্ট্রেলীয় নাগরিক এবং ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের (ডব্লিউসিকে) ত্রাণকর্মী। ২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় তিনি ও তার ছয় সহকর্মী নিহত হন। নিহত অন্যদের মধ্যে তিনজন ব্রিটিশ, একজন ফিলিস্তিনি, একজন পোলিশ এবং একজন দ্বৈত মার্কিন-কানাডীয় নাগরিক ছিলেন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ওই ঘটনায় ‘গুরুতর ব্যর্থতা’ থাকলেও কমান্ডারদের সিদ্ধান্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যুক্তিসংগত সন্দেহ পাওয়া যায়নি। ফলে এ ঘটনায় ফৌজদারি তদন্তের প্রয়োজন নেই বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আইডিএফের দাবি, ত্রাণবহরের সঙ্গে থাকা একজন সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মীর বিষয়টি যাত্রার আগে তাদের জানানো হয়নি। ওই ব্যক্তিকে ভুলভাবে হামাসের যোদ্ধা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি ত্রাণবহরটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা নির্ধারিত পথ থেকে সরে গিয়েছিল বলেও দাবি করেছে আইডিএফ।
তবে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী নিজেরাই স্বীকার করেছে যে জোমি ও তার সহকর্মীদের গাড়িতে হামলা আইডিএফের নিয়ম অনুসরণে গুরুতর ব্যর্থতা, ভুল শনাক্তকরণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ত্রুটির কারণে হয়েছিল।
পেনি ওং বলেন, বিশ্ব মানবিক সহায়তা দিবসে এই সিদ্ধান্তের খবর পাওয়া বিষয়টিকে আরও ‘অপমানজনক’ করে তুলেছে। অস্ট্রেলিয়া জোমি ফ্রাঙ্ককম ও তাঁর সহকর্মীদের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে ইসরায়েলের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
জোমি ফ্রাঙ্ককমের হত্যায় ইসরায়েলের সিদ্ধান্তকে ‘গভীরভাবে আপত্তিকর’ এবং ‘পূর্ণ সত্যের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন। সংগঠনটি এ ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
ডব্লিউসিকে বলেছে, আইডিএফের পক্ষে নিজেদের কর্মকাণ্ডের বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, হামলার সময় ইসরায়েলি বাহিনী জানত যে তাদের দলটি নিরস্ত্র এবং কারও জন্য হুমকি ছিল না। ত্রাণকর্মীদের গাড়িগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত ছিল এবং তাদের চলাচল, পরিচয় ও কার্যক্রম সম্পর্কেও ইসরায়েলি বাহিনীর আগে থেকেই তথ্য ছিল।
সংগঠনটির অভিযোগ, আইডিএফের তদন্তে বিভিন্ন সময়ের ঘটনা একসঙ্গে মেলানো হয়েছে এবং হামলার দায় ত্রাণকর্মীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান মার্ক বিনস্কিনের নেতৃত্বে করা এক তদন্তে বলা হয়েছিল, আইডিএফের কার্যপ্রণালিতে গুরুতর ব্যর্থতার কারণেই ফ্রাঙ্ককম ও তার সহকর্মীরা নিহত হন। সে সময় আইডিএফ ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
এদিকে একই বিবৃতিতে আইডিএফ জানিয়েছে, গাজায় পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবকে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে হত্যার ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হবে। তাকে উদ্ধারে যাওয়া দুই প্যারামেডিকও হামলায় নিহত হন।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের মার্চে ১৫ ফিলিস্তিনিকে হত্যার ঘটনাও তদন্ত করবে আইডিএফ। নিহতদের মধ্যে চিকিৎসাকর্মী ও জাতিসংঘের এক কর্মী ছিলেন। এক সপ্তাহ পর তাদের মরদেহ চাপা অবস্থায় পাওয়া যায়।










