ভংয়কর সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে গ্রীসে যাওয়া সাত বছরের সিরিয়ান একটি মেয়ে শুনিয়েছেন সেই লোমহর্ষক গল্প।
একটা জাহাজে চড়ে এসেছি গ্রীসে। অনেক বড়!প্রথমে দেখে ভয় পেয়েছিলাম। যখন জাহাজের ভেতরে গেলাম, তখন অনেক ভালো লাগলো। ভয়-টয় আর কিছুই থাকলো না। ধীরে ধীরে জাহাজ যখন সমুদ্রের ভেতর ঢুকলো; দেখলাম সমুদ্রের ঢেউ আমাদের জাহাজের ভেতরে আছড়ে পড়ছে! যত বেশি সমুদ্রের ভেতরে ঢুকছি, তত বেশি বড় বড় ঢেউ। আমাদের ওপর আছড়ে পড়তে থাকলো ঢেউগুলো! তখন’ও ভালো ছিলাম।
যখন রাবার-বোটে উঠলাম তখন শুরু হলো ঝামেলা। নৌকার ভার কমানোর জন্য ওরা আমাদের প্রয়োজনীয় সব কিছু যখন সমুদ্রে ছুঁড়ে ফেলে দিলো; তখন আমরা মহা বিপাকে পড়লাম। অনেক বিপদে পড়লাম। একটা সময় ঢেউয়ের তোড়ে আমাদের নৌকা প্রায় ডুবেই যাচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো আমি আর আমার মা হয়তো মরেই যাবো! পরে এক স্থানীয় জেলের সহযোগিতায় আমাদের নৌকা ভেড়ে তীরে। নৌকার তেল ফুরিয়ে গিয়েছিলো।
সেই জেলেই আমাদের নৌকা নিরাপদে পাড়ে নিয়ে যায়। পাড়ে নৌকা থামার পর রাবার নৌকা গুটিয়ে ফেললাম। লাইফ-জ্যাকেটগুলো ছুঁড়ে ফেললাম সমুদ্রে তারপর দ্রুত পাহাড়ের দিকে ছুটলাম।
আহ্ সিরিয়া তে ফিরতে পারলে খুব ভালো হতে! কিন্তু কিভাবে আবার ফিরে যেতে পারবো আমরা? আমার বন্ধুরা যদি এখানে আসতে পারতো! কিন্তু জানি না ওরা কেউ কি আদৌ বেঁচে আছে? অনেক বন্ধুদের রেখে এসেছি সিরিয়ায়।
জানো, আমার অনেক বন্ধু আছে! সিরিয়ায় কতো ভালো ছিলাম! আল্লাহ্ চায় তো আবার সবকিছু আগের মতো হয়ে যাবে। ইনশাল্লাহ্ সিরিয়া আবার ঠিক যেমন ছিলো আগে ঠিক তেমনটাই হয়ে যাবে।






