ফুটবল

জাগালো-বেকেনবাওয়ার থেকে এক কদম দূরে দেশম

জাগালো-বেকেনবাওয়ার থেকে এক কদম দূরে দেশম

২০১৩ সালে জর্জিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচের আগে সংবাদ মাধ্যম ফাঁস করে দেয় ফ্রান্সের একাদশের নাম। ভীষণ খেপে যান কোচ দিদিয়ের দেশম। দেন কঠিন হুমকি, ‘আপনারা আমার গোপনীয়তা জানতে চান। আমিও কিন্তু আপনাদের কিছু কিছু গোপন বিষয় জানি।’

নীরবে সেই হুমকি হজম করেন সাংবাদিকরা। মনে মনে স্বীকার করতে বাধ্য হন দেখতে শান্ত-সৌম্য চেহারার দেশমের মনের ভেতরের আগুনের তেজ। যেই তেজ একদিন হয়ত এই ভদ্রলোককে তুলে আনবে মর্যাদার উচ্চ শিখরে।

পাঁচ বছর পর সাংবাদিকদের সেই মনের কথা প্রায় ফলে যাওয়ার পথে! এমন এক সাফল্যের হিমালয়ে পা ফেলতে এক কদম দূরে দাঁড়িয়ে দেশম, যে শিখরে পায়ের ধুলো পড়েছে মাত্র দুজনের। ব্রাজিলের মারিও জাগালো ও জার্মানির ‘কাইজার’ ফ্রেঞ্জ বেকেনবাওয়ারের।

কী করেছেন এ দুজন? খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ তো জিতেছেনই, পরে কোচ হয়েও নিজেদের নামের পাশে আরও একবার যোগ করেছেন বিশ্বজয়ী তকমা।

প্রথমে আসা যাক জাগালো বন্দনায়। পাঁচবারের বিশ্বসেরা ব্রাজিল তাদের প্রথম বিশ্বসেরার শিরোপা তথা জুলেরিমে ট্রফি ঘরে তোলে ১৯৫৮ সালে। সেই দলের সদস্য ছিলেন জাগালো। পরেরবার অর্থাৎ, ১৯৬২ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা সেলেসাওরা। জাগালো ছিলেন সেই দলেও।

১৯৫৮-৬২ সালে বিশ্বকাপ জিতলেও ফুটবল দুনিয়া এ দুই আসরকে জানে পেলে-গারিঞ্চার বিশ্বকাপ হিসেবে। জাগালো রইলেন পেছনের সারিতে! তাই নিজের নাম ইতিহাসে পাকাপোক্ত করতে ১৯৭০ বিশ্বকাপে অবস্থান পরিবর্তন করলেন। যে পেলেদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলেছেন, হয়ে গেলেন তাদেরই কোচ। আর কোচ হয়েই বাজিমাত। প্রথমবারের মতো খেলোয়াড় ও কোচের আসনে বিশ্বসেরা কোনো কিংবদন্তিকে পেল ফুটবল বিশ্ব।

পরের ইতিহাসটা বেকেনবাওয়ারের। ব্রাজিলের তৃতীয়বার শিরোপা জয়ের পরেরবার, অর্থাৎ ১৯৭৪ সালে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলে ওয়েস্ট জার্মানি। একজন ডিফেন্ডার ছিলেন, ছিলেন অধিনায়ক, পরে শিরোপা উঁচিয়ে ধরায় ইতিহাসেই স্থান পেয়ে যান বেকেনবাওয়ার।

এতটুকু হলেই চলতো। কিন্তু অমরত্বের পথ ধরতে ফুটবল কোচিংকে বেছে নেন দ্যা কাইজার। ওয়েস্ট ও ইস্টকে এক করে অভিভক্ত জার্মানিকে তুলে দিলেন ১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালে। প্রতিপক্ষ ডিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। এরপর ভাগ্যের ছোঁয়াই হোক কিংবা রেফারির বদান্যতায়, সেই ম্যাচে বিতর্কিত এক পেনাল্টিতে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে জার্মান অধিনায়ক লোথার ম্যাথিউসের হাতে ওঠে শিরোপা। যে দলের কোচ ছিলেন কিংবদন্তি বেকেনবাওয়ার।

জাগালো কিংবা বেকেনবাওয়ারের থেকে এমনিতেই বেশ সুবিধাজনক স্থানে ছিলেন দেশম। রেমন্ড কোপা, মিশেল প্লাতিনি কিংবা জিনেদিন জিদানের মতো কিংবদন্তির থেকে আলাদাভাবেই তাকে মনে রাখতো ফুটবল বিশ্ব। কারণ ফ্রান্সের প্রথম ও এখনপর্যন্ত একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক তিনি।

দেশম যখন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক

বিশ্বজয় করে খেলা ছাড়লেন ঠিকই, কিন্তু ফুটবলকে ছাড়লেন না দেশম। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের মাস্টার মাইন্ড কোচ ও গুরু আইমে জাকুয়েটের কাছে দীক্ষা নিলেন, হলেন ফুটবল কোচ। গুরুর দর্শনের সঙ্গে নিজের দর্শন যোগ করলেন। ২০১৬ ইউরো ও ২০১৮ বিশ্বকাপের জন্য বেঁছে নিলেন অপেক্ষাকৃত এক তরুণ দল। তাতে দেশমের নিন্দা হল, কিন্তু সিদ্ধান্ত থেকে টলানো গেল না। তাই ২০১৬ ইউরোর ফাইনাল থেকে যখন খালি হাতে ফিরল ফ্রান্স, দেশমের ব্যক্তিত্ব ও প্রতিজ্ঞা নজর কাড়ল ফেডারেশন কর্তাদেরও। দেশমও দেখিয়ে দিলেন ভুল লোকের হাতে পড়েনি লা ব্লুজদের দল।

দেশমের সামনে এখন অমরত্বের আরেকধাপে পৌঁছার সুযোগ। জাগালো-বেকেনবাওয়ারদের ক্ষুদে অভিজাত তালিকায় নাম লেখাতে পারবেন কিনা রোববারই জানা যাবে। লুঝনিকিতে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় ফাইনাল। কিন্তু এরইমধ্যে অভিজ্ঞতায় তরুণ এক দলকে নিয়ে যা করে দেখিয়েছেন দেশম, সেটার জন্যই একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য ৪৯ বছর বয়সী এ কোচের!

বিষয়:দিদিয়ের দেশম বিশ্বকাপ সর্বশেষ রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…