চট্টগ্রামে বিদেশি কুকুর লেলিয়ে দিয়ে মেধাবী ছাত্র হিমাদ্রি মজুমদার হিমু হত্যা মামলায় ব্যবসায়ী শাহ সেলিম টিপু এবং তার ছেলে জুনায়েদ আহমেদ রিয়াদসহ ৫ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ। চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে হিমুর পরিবার।
চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশ এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ২০১২ সালের ২৭ এপ্রিল পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে ‘ফরহাদ ম্যানশন’ নামে একটি বাড়ির চারতলায় হিমাদ্রি মজুমদার হিমুর ওপর হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে ৪তলা থেকে ফেলে দেয়া হয় তাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য প্রথমে চট্টগ্রাম এবং পরে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ২৬ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ২৩ মে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা যায় হিমু। ওই ঘটনায় হিমুর মামা প্রকাশ দাশ অসিত বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামির মধ্যে শাহ সেলিম টিপু, শাহাদাৎ হোসোইন সাজু ও মাহাবুব আলী ড্যানি বর্তমানে কারাগারে থাকলেও অপর দুই আসামি রিয়াদ এবং শাওন জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছে।
রায় শুনে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট অনুপম চক্রবর্তী বলেন, দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী প্রমাণিত হয়ে আসামীদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিজ্ঞ আদালতের যে রায় আমরা পেয়েছি সেটা দৃষ্টান্তমূলক একটি রায়। এই রায় সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।
মামলার রায়ে নিহত হিমুর পিতা প্রবীর মজুমদার এবং মাদকবিরোধী সংগঠন শিখড়ের নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন উচ্চ আদালতে এই সাজা বহাল থাকবে এবং পলাতকদের ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করা হবে। এই রায় আইনী বিচার ব্যবস্থার উপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনবে।
অন্যদিকে রায় শুনে আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেছেন, তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। এই রায় তাদের মর্মাহত করেছে।
কুকুর লেলিয়ে দিয়ে হত্যার এ নৃশংস ঘটনার রায় দ্রুত বাস্তবায়নের আহবান জানিয়েছেন নিহতের স্বজন, আইনজীবী এবং মাদকবিরোধী সংগঠনগুলো।







