এই মুহূর্তে বিশ্বের ক্ষুধার হিসাব হলো, প্রতিদিন ১৭ হাজার শিশুর মৃত্যু ঘটছে শুধু খাদ্যের অভাবে। আর ৮০ কোটি ৫০ লাখ মানুষ চরম ক্ষুধার অভিশাপ নিয়ে বেঁচে আছে। এ যাবৎকালে পরিচালিত সব গবেষণার ফলাফল একটাই। তা হচ্ছে ক্ষুধার প্রধান কারণ দারিদ্র। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এক হিসেবে দেখা যায়, পৃথিবীতে সামগ্রিকভাবে মাথাপিছু প্রতিদিনের খাদ্যের যোগান ১৯৬০ সালে ছিল ২ হাজার ২’শ ২০ কিলোক্যালরি। ২০০৮ সালে এই যোগান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭’শ ৯০ কিলো ক্যালরিতে। খাদ্য যোগানের প্রবৃদ্ধি অনেক বেড়েছে, কিন্তু খাদ্য বন্টন ব্যবস্থার ত্রুটি, বিপুল পরিমাণ খাদ্য নষ্ট করাসহ নানা কারণেই পৃথিবীর বিশাল অংশের মানুষকে ক্ষুধার্ত থাকতে হয়।
ইউরোপিয় ইউনিয়নের একটি হিসেবে দেখা গেছে, বছরে ১০ কোটি টন খাদ্য ইউরোপের দেশগুলো নষ্ট করে। বছরে পৃথিবীতে উৎপাদিত এক তৃতীয়াংশ খাদ্য নষ্ট হয়। বছরে নষ্ট হওয়া এক তৃতীয়াংশ খাদ্য পৃথিবীর ২৮ ভাগ আবাদি জমিতে উৎপাদিত খাদ্যশস্যের পরিমাণের সমান। বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিদিন খাবার নষ্টের হার আরো অনেক বেশি। আমি স্বচক্ষেই আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রেস্টুরেন্ট ও মানুষের বাড়িতে যে পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হতে দেখেছি তা রীতিমত অবাক করার মতোই। খোদ সৌদি আরবে রমজান মাস তো বটেই বছরের যে কোন সময়েই যে পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হয় তা অনুন্নত বা উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক দিনের খাবার। ইউ এ ই থেকে প্রকাশিত দ্য ন্যাশনালের গত ৮ মার্চ প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বছরে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন খাবার নষ্ট করে। অর্থাৎ ১০৩ কোটি টন খাদ্য। যা আমাদের দেশের এক’শ বছরের খাদ্যের সমান।
পৃথিবীর ১০০ কোটি দরিদ্র মানুষের দৈনিক উপার্জন ১ দশমিক ২৪ ডলার বা বাংলাদেশী ১০০ টাকার নীচে। এই দলে পড়েন পৃথিবীর ১৭ ভাগ মানুষ। অবশ্য, এই দরিদ্রের কাতারে গত ১৯৯০ সালে ছিল ৪৩ শতাংশ, ১৯৮১ সালে ছিল ৫২ ভাগ মানুষ। পরিস্থিতি দিনের পর দিন ভালোর দিকে যাচ্ছে একথা বলাই যায়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বিবেচনায় সহ¯্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার হিসেবে ক্ষুধা নির্মূলের প্রশ্নে গত আড়াই দশকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আছে। গত ১ দশকে ১৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র ও ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠির তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। কিন্তু তারপরও খাদ্য ও ক্ষুধার প্রশ্নে আজকের বিশ্ব পরিস্থিতিও যথেষ্টই নাজুক। কারণ, পৃথিবীরর উষ্ণায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাগুলোয় হুমকি আর বাঁধা এসে ভর করছে। বাড়ছে চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছে সবাই। ক্ষুধাপীড়িত আফ্রিকা থেকে শুরু করে খনিজ তেলের অর্থে দীর্ঘকাল নিশ্চিন্তে থাকা মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত। তারাও এখন মরুভূমির বুকে কৃষি উৎপাদনের অসাধ্য সাধনের জটিল পরীক্ষায় নেমেছেন। সাফল্যও অর্জন করছেন বেশ।
ডব্লিউএফপি বা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ক্ষুধার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পৃথিবীর ৭৯ কোটি ৫০ লাখ মানুষ পর্যাপ্ত খাদ্য থেকে বঞ্চিত। এর সিংহভাগ মানুষ বাস করে উন্নয়নশীল দেশগুলোয়। প্রধানত এশিয়ায়। তবে জনসংখ্যার গড় বিবেচনায় পৃথিবীতে বেশি সবচেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষের বাস আফ্রিকা সাহারা অঞ্চলে। সেখানে চার জনের একজন পুষ্টিকর খাদ্য পায় না। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতি ছয়টি শিশুর মধ্যে একটি নিম্ন ওজনের। পৃথিবীর চারটি শিশুর একটি খর্বাকৃতির। আর উন্নয়নশীল বিশ্বে তিনটি শিশুর একটি খর্বাকৃতির। ডব্লিউ এফ পি’র মতে যদি নারী কৃষকদের পুরুষের মতো সম্পদ ও সম্পত্তি ব্যবহারের নিজের ক্ষমতায় কৃষি আবাদে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করার সুযোগ পেত তাহলে বিশ্বের এই ক্ষুধা-দারিদ্র এক ধাক্কায় ১৫ কোটি কমে যেত। আফ্রিকার দেশগুলোতে নারীদের এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। তারা কৃষিতে সিংহভাগ অবদান রাখছে, কিন্তু সম্পদ ও সম্পত্তি ব্যবহারে তাদের মালিকানাসত্ত বা পুরোপুরি স্বাধীনতার অভাব রয়েছে। গ্রামীন জীবন ব্যবস্থার এই সংকট দারিদ্র ও ক্ষুধাকে স্থায়ী রূপ দিয়ে রাখছে। সংকটটি আমাদের দেশেও ছিল। তবে এখানকার নারীরা এখন সে অর্গল ভেঙে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। এক্ষেত্রে আমাদের নারীদের অগ্রযাত্রা একটি আলোচিত ইস্যু। এটিও এক ধরণের ক্ষমতায়ন।
উন্নয়নশীল বিশ্বে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ কোটি ৬০ লাখ শিশু ক্ষুধা পেটে ক্লাসে অংশ নেয়। এর মধ্যে আফ্রিকাতেই এককভাবে রয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ শিশু। পূর্ব আফ্রিকার উগান্ডার রাকাই জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম লুটির সেন্ট হেনরিস প্রাইমারি স্কুলে গিয়েছিলাম সম্প্রতি। সেখানে শিক্ষা কার্যক্রমে এক যাদুকরি উন্নতির সন্ধান পাওয়া গেছে শুধু মধ্যাহ্নের খাবার বা মিড মে মিল এর ব্যবস্থা করার কারণে। সেখানে শিক্ষিতের হার অনেক বেশি। বর্তমান সময়ে প্রবৃদ্ধির হারও বেশি। স্কুলগুলোতে অভিভাভক ও শিক্ষকদের যৌথ উদ্যোগে মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করার কারণেই এক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সাফল্য আসছে।
গ্লোবাল মাল্টিডাইমেনশনাল প্রোভার্টি ইনডেস্ক অনুযায়ী পৃথিবীর দরিদ্র জনগোষ্ঠির ৮৫ ভাগেরই বাস গ্রামাঞ্চলে। এই ৮৫ ভাগের সিংহভাগই ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠি। এবার বিশ্বখাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য গ্রামীন দারিদ্র বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় কৃষি। আজকের দিনে কৃষি অর্থ-বাণিজ্য ও বিনিয়োগমুখি হয়ে ওঠার কারণে গ্রামীন জীবনে কৃষি আবাদে কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন সাধারণ কৃষক। আফ্রিকার অনুন্নত দেশগুলো থেকে শুরু করে এই সত্য আমাদের বাংলাদেশের জন্যও প্রযোজ্য। দেশের অধিকাংশ এলাকার কৃষিজীবী পরিবারগুলো পূর্বপুরুষের পেশা ছেড়ে শহরমুখি হচ্ছে ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত হচ্ছে। এর অনেকগুলি কারণ রয়েছে। প্রধাণত. কৃষিতে ব্যয় বাড়ছে। যারা কৃষি শ্রমিকের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন করেন, তাদের কাছে ফসলের উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি হচ্ছে। এ কারণে, অনেকে স্থানীয় ভূমিহীন ও কৃষি শ্রমিকদের কাছে জমি ভাড়া বা ইজারা দিয়ে শহরমুখি হচ্ছেন ও অন্যপেশায় যুক্ত হচ্ছেন। কৃষিশ্রমিক বা বর্গাচাষীর কাছে কৃষি আবাদ অপেক্ষাকৃত লাভজনক হচ্ছে, ক্ষেতে নিজে শ্রম দেবার কারণে। তাকে কৃষিশ্রমিক বাবদ বাড়তি অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না। অন্যদিকে বছরের তিনটি বা চারটি মৌসুমে ফসল আবাদ করতে পারছে। এতে কোনো মৌসুমে লোকসান গুনলেও আরেক মৌসুমে পুষিয়ে যাচ্ছে।
দিনে দিনে কৃষি যাচ্ছে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি নির্ভরতার দিকে। উপকরণে, বীজে, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে কৃষি যে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও ব্যয়বহুল একটি কার্যক্রম সেকথাই জানান দিচ্ছে ইউরোপের কৃষক। কয়েক মাসে আগে সর্বাধুনিকতম কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের দেশ নেদারল্যান্ডে গিয়ে আমি দেখেছি সুপরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত কৃষি কোথায় পৌঁছে গেছে। সেখানকার গ্রীন কিউ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কৃষি আবাদ চলছে এলইডি লাইট ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে। একইভাবে আধুনিকতম উইন্ড টারবাইন ব্যবহার হচ্ছে কৃষিতে। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহার করা হচ্ছে সর্বোত্তম প্রযুক্তি। যা অনুন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্ব এখনও চিন্তা করে উঠতে পারছে না।
কৃষির উৎকর্ষ যখন এখানে, তখন গ্রামীন দারিদ্র নিরসনের জন্য সবচেয়ে আগে শক্তিশালী করার দরকার সাধারণ কৃষকদের হাতকে। যাতে প্রচলিত সম্পদ ও টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা অব্যাহতভাবে খাদ্য নিরাপত্তায় রেখে যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। হাইব্রিড ধানের জনক চীনের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ইয়াং লংপিং এই কথাটিই বারবার মনে করিয়ে দিতে চান আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশকে।
সময়ের বিবর্তনে বিশ্বব্যাপীই কৃষি আজ পেয়েছে বহু মাত্রিকতা। কৃষি উৎপাদনের গতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের অনিবার্যভাবে ভাবতে হচ্ছে পরিবেশের কথা। ভাবতে হচ্ছে পারিবারিক কৃষি, মাটির স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তনের ইসু্যু এমনকি বিশ্ববাণিজ্য এমনকি রাজনীতির কথাও। স্কটল্যান্ডের বিখ্যাত অর্গানিক খামারের স্বত্তাধিকারী পেটি রিচি বলছিলেন সে কথাই।
তিনি বলছিলেন, জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলা কারোর একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য পৃথিবীর বড় দেশগুলোকে এক হতে হবে। ভূমিকা রাখতে হবে জাতিসংঘকে। সবার ঐক্যমতই আজকের বিশ্বকে রেহাই দিতে পারে জলবায়ুর বৈরী প্রভাব মোকাবিলার প্রয়োজনীয় শক্তি।
ষাটের দশকের সবুজ বিপ্লবের ডাক দেয়া এশিয়ার নায়ক ড. সোয়ামী নাথান আজকের দিনে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন মাটির স্বাস্থ্যকে। গত বছর পূর্ব আফ্রিকার রুয়ান্ডায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা হয় আমার। একান্তে কথাও হয় অনেক বিষয় নিয়ে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, আজকের দিনে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবচেয়ে আগে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন মাটির স্বাস্থ্যের দিকে। মাটির স্বাস্থ্যই কৃষির পূর্বশর্ত। যেখানে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার সবকিছু। অন্যদিকে আজকের পৃথিবী যখন খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজি পুরণের বার্তা দিচ্ছে তখন আরো বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে এসডিজি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) পুরণের দিকে। সেই সঙ্গে চিন্তা করতে হচ্ছে পুষ্টির বিষয়টি। বিশ্বের উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলো টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রায় যোগ করেছে পুষ্টি উন্নয়নের বিষয়টি।
এত পরিকল্পনা, সাফল্য-ব্যর্থতা, শঙ্কার ভেতরেই বিশ্ববাসীর সামনে খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সাফল্য আজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতি বছরের প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ দেশ হওয়ার পরও খাদ্যশস্য উৎপাদনে আমরা অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছি। মাছ উৎপাদনে পৃথিবীতে বাংলাদেশের স্থান চতুর্থ, সবজি উৎপাদনেও এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। সামগ্রিকভাবেই খাদ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে আমাদের অর্জন দৃষ্টান্তমূলক। যদিও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসেবে দেশের ৫ বছরের নীচে ৪১ শতাংশ শিশু খর্বাকৃত্রির, ৩৬ শতাংশ শিশু নিম্ন ওজন ও ৫১ শতাংশ শিশু রক্তাল্পতায় ভুগছে। ৪১ শতাংশ মানুষ খাদ্য গ্রহণ করছে ২ হাজার ১’শ ২২ কিলোক্যালরির নীচে এবং সব মিলিয়ে ৫৭ শতাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠি পুষ্টিকর খাবার পায় না।
তারপরও আমরা আত্মবিশ্বাসী হয়েছি সরকারের ‘ভিশন ২০২১’ শীর্ষক জাতীয় লক্ষ্যমাত্রায়। যেখানে আমরা স্বপ্ন দেখছি, একটি টেকসই ও স্থায়ী খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের। জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলায় গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের স্বীকৃতি হিসেবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে আমাদের জন্য এটি অনেক বড় পুরস্কার। আর এ বছর বিশ্ব খাদ্য পুরস্কারও অর্জন করেছি আমরা। অর্থাৎ বাংলাদেশভিত্তিক বিশ্বের বৃহৎ উন্নয়ন সংগঠন ব্র্যাক এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ পেয়েছেন খাদ্য নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পুরস্কার। এটি জাতির জন্য অনেক বড় অর্জন। এবারের খাদ্য দিবস ও বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে তাদের কার্যক্রমও আমাদেরকে আত্মবিশ্বাসী করে।
প্রিয় পাঠক, ঘুরেফিরে বিশ্বচিন্তাও আজ গ্রামমুখি হচ্ছে। হৃদয়ে মাটি ও মানুষ পথচলার শুরু থেকেই যে কথা দর্শকদের সামনে বারবার উচ্চারণ করেছে। গ্রামই আমাদের গন্তব্য, গ্রামই বাঁচাতে পারে এই বিশ্বসভ্যতাকে। সে কারণে আজ গ্রামীন দারিদ্র মোকাবিলাই বিশ্বের খাদ্য পরিকল্পনার প্রধান ইস্যু। তাই এবারের বিশ্বখাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্যে বলা হয়েছে, গ্রামীন দারিদ্র বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষায় কৃষি।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)






