মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান শক্তিশালী ও অহংকারী, তবে শেষ পর্যন্ত তাদের চুক্তিতে আসা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বা স্থায়ী সমঝোতার জন্য চুক্তি করতে সময় লাগছে, কারণ দেশটি এখনো নিজেদের অবস্থানে অনড় ও আত্মবিশ্বাসী। এমন কিছু বিষয় আছে, যা তারা কখনো করবে ভাবেনি, কিন্তু এখন করতে হবে। তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। তবে এসব বিষয়ে সময় লাগে।”
গত এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পরও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালীর কাছে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরান এখনো যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনায় রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মতে, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরানের কাছে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, তাদের সামরিক শক্তিকে আমরা কার্যত ধ্বংস করেছি। তবুও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন এখনো রয়েছে। আমার ধারণা, যুদ্ধ শুরুর সময় যে পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, তার প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ এখনো তাদের হাতে আছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, কয়েক মাস ধরে চলা এই সংঘাত দ্রুত শেষ করতে চাইলেও বাস্তবতা হলো, দীর্ঘদিনের শত্রুতা একদিনে সমাধান করা যায় না। তার মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ কয়েক দশকের পুরোনো, তাই স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে সময় ও ধৈর্য প্রয়োজন।
অন্যদিকে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য। তবে চুক্তি না হলে বিকল্প পথ খোলা রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে চুক্তি হবে, নাকি অন্য পথে যেতে হবে। আর সেই অন্য পথ মোটেও সুখকর নয়।







