কোম্পানির প্রায় ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের জন্য ছিনতাইকারীদের হাতে রক্তাক্ত হয়ে টাকা ছিনতাইয়ের নাটক সাজায় হুমায়ূন। ঘটনার পর কথিত ভিকটিম হুমায়ূন কবির এটাকে ছিনতাই বলে চালিয়ে দিতে চাইলেও পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হোসেন খান জানান: একটি প্রতিষ্ঠিত সয়াবিন তেলের ডিস্ট্রিবিউটর রুট টু মার্কেট ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানীতে অপারেশন অফিসার হিসেবে চাকরি করে হুমায়ূন কবির।
‘প্রতিদিনে মতো গত ২৬ নভেম্বর সকালে দিয়াবাড়ি এলাকার নিজের অফিস থেকে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্দেশে বের হন তিনি। পথে উত্তরা ১২ নং সেক্টরের ট্রাস্ট ফ্যামিলি নিডস প্রতিষ্ঠান থেকে কোম্পানীর আরো দেড়লাখ টাকা নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে উত্তরা ১৩ নং সেক্টরের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের শাখায় যাচ্ছিলেন।
সকাল ১১টার দিকে ১৩ নং সেক্টরের ১৩ নম্বর রোডে আসলে তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অজ্ঞাত ৩-৪ জন ছিনতাইকারী। তারা হুমায়ূনের পিঠে ক্ষুর দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে টাকার ব্যাগ লুট করে নিয়ে যায়।’
ওসি আলী হোসেন খান বলেন: ঘটনার পর ভিকটিম হুমায়ূন এটাকে ছিনতাই বলে চালিয়ে দিতে চাইলেও পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। তদন্তে জানা যায়, ভিকটিম হুমায়ূনই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অর্থ আত্মসাতের জন্য ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়ে নিজে আহত হন।
‘গত ২৬ নভেম্বর ছিনতাই হয়েছে মর্মে একটি মামলা (নং- ৫৫) দায়ের করা হয়। পরে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহ হলে কথিত ভিকটিম হুমায়ূনকে ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, অন্য আরো পাঁচ আসামীদের যোগসাজসে অর্থ আত্মসাতে উদ্দেশ্যে ছিনতাইয়ের নাটক সাজায় হুমায়ূন। তিন মাস আগে থেকেই তারা এমন পরিকল্পনা করে বলেও সে স্বীকার করেছে।’
বুধবার উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ কথিত ভিকটিম হুমায়ূনসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ছয় লাখ ৬৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, তরিকুল ইসলাম, আল-আমিন, রাজন মিয়া ও খোরশেদ আলম।
পলাতক আরেক আসামী মাসুমকে গ্রেপ্তার করে ছিনতাইয়ের বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।










