জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে কুয়েতের আমিরের দেওয়া অনুদানের অর্থ ট্রাস্টে জমা হয়েছিল কি না এবং তা কোন অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছিল, এসব বিষয় খালেদা জিয়ার আইনজীবীর কাছে জানতে চেয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার বকশিবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিশেষ জজ আদালতে সপ্তম দিনের মতো যুক্তিতর্কের এক পর্যায়ে আদালত খালেদা জিয়ার আইনজীবীকে এই প্রশ্ন করেন।
আদালতের এমন প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে টাকা এসেছিল ব্যক্তিগত ফান্ড হিসেবে, পাবলিক ফান্ড হিসেবে নয়।
তিনি জানান: এই তহবিল পাবলিক তহবিল কি না, সেটা আগে নির্ণয় করতে হবে। এই টাকার উৎস নির্ণয় করা জরুরি। এর আগে তিনি সাবেক রাষ্ট্রদূত আবদুস সাত্তারের জবানবন্দি ও জেরার অংশ পড়ে শোনান।
আদালতকে এ জে মোহাম্মদ আলী জানান: বাংলাদেশে কুয়েত দূতাবাস থেকে যে পত্র দেওয়া হয়েছিল, সেখানে বলা আছে, কুয়েতের আমির জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকেই টাকা দেন। এরপরই আদালত তার কাছে কত টাকা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে দেওয়া হয়েছিল তা জানতে চান।
জবাবে তিনি বলেন: এই পত্রে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। তখন আদালত তার কাছে আবার প্রশ্ন করেন, টাকার অঙ্ক যেহেতু উল্লেখ নেই, তাহলে আপনারা কি জানতে চেয়েছিলেন। ওই পত্র কার সাক্ষরিত, এটাও আদালত তার কাছে জানতে চান।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিজের পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নিতে সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে বিশেষ আদালতে হাজিন হন বেগম খালেদা জিয়া। তার পক্ষে ৭ম দিনের যুক্তিতর্কে অংশ নেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জন আসামি। তারেক রহমান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। এ ছাড়া ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়ও খালেদা জিয়াসহ চারজন আসামি।
আগামী ১০ ও ১১ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধায করেছে আদালত।










