স্ত্রী হত্যায় ডিবি কার্যালয়ে এসপি বাবুল আক্তারকে ডেকে নেয়ার নাটকীয় ঘটনায় গণমাধ্যমের আরও সময় নেয়া উচিৎ ছিলো। বিশেষ করে পুলিশের ভেতরের কোনো সংবাদ কাভার করার সময় ক্রাইম রিপোর্টারদেরও নৈতিকতার পরিচয় দেয়া উচিৎ বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সাইফুল আলম চৌধুরী।
শিক্ষকতায় আসার আগে দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করা এই শিক্ষক কাজ করেছেন ক্রাইম বিটেও। কাজের অভিজ্ঞতায় তিনি দেখেছেন ক্রাইম রিপোর্টার-পুলিশের সম্পর্ক ।
এসপি বাবুল আক্তারকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নেয়ার বিষয়টি নিয়ে চলমান আলোচনায় এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে সাইফুল আলম চৌধুরী লিখেছেন, ‘ সাল ২০০৪। তখন আমি প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার, বিট ছিল ক্রাইম। গাজীপুরের সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যার ঘটনা প্রথম দিন থেকে কাভার করার কারণে মামলাটির তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল বাতেনের সাথে একটা প্রফেশনাল সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। বাতেন সাহেব শুনেননি তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের কথা।
ফলস্বরূপ প্রথমে খাগড়াছড়িতে বদলি। তারপর বদলি ঠেকানোর জন্য স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে ঘুষ দেয়ার অভিযোগ এনে বাবর সাহেব তাকে তুলে দিলেন পুলিশের হাতে। সেদিন নিউজটা করার দায়িত্ব ছিল আমার আর Parvez Khan – এর। আমার যদ্দুর মনে পড়ে পারভেজ ভাই ও আমি নিউজটা করিনি। অফিস অন্য কাউকে দিয়ে করিয়েছিল, কারণ ওটা একটা সাজানো নাটক ছিল আমরা বিশ্বাস করতাম।
সিনিয়র পুলিশ সদস্যরা তাদের উর্ধ্বতনদের কিংবা সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের কথা না শুনলে তাদেরকে এমনভাবে ফাঁসিয়ে দেয়ার ঘটনা অনেক আছে।
আরেকটি ঘটনার শিকার ছিলেন ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ওসি রফিক (’বানর ধরা ওসি রফি‘ নামে খ্যাত ছিলেন, কারণ ফেনসিডিল চোরাচালানীতে প্রশিক্ষিত এক বানরকে তিনি মামলার আসামী করেছিলেন)।
মজার বিষয় ছিল, বাতেন ভাইয়ের অনেক কাছের বলে দাবি করতেন অনেক ক্রাইম রিপোর্টার অবলীলায় কোন যাচাই-বাছাই ছাড়া শুধু স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবরের কথায় সংবাদ করেছিলেন।
[বিঃদ্রঃ ক্রাইম রিপোর্টারের সবচেয়ে বড় সোর্স পুলিশ। আর ক্রাইম রিপোর্টাররা সবচেয়ে বেশি কলম দাগান পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে কলমটা রয়ে-সয়ে দাগালে নিরাপরাধ পুলিশরা বেঁচে যান।]










