রাজধানীর ওয়ারীতে বিয়ে বাড়িতে উচ্চস্বরে গান-বাজনার প্রতিবাদ করায় নাজমুল হক (৬৫) নামে এক অসুস্থ ব্যক্তিকে মারধর করে হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে চারজন। তাদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে হত্যায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা জানায় তারা।
শনিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে চারজনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে পাঠানোর বিষয়টি চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন ওয়ারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম মিয়া।
তিনি জানান, শুক্রবার রাতে নাজমুলের মৃত্যুর ঘটনায় সাত জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ছেলে নাসিমুল হক। পরে ওই রাতেই গোপীবাগের রাম কৃষ্ণ মিশন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে ওই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হল- আলতাফ হোসেন (৭০), সাজ্জাদ হোসেন (৪২) মির্জা জাহিদ হাসান ( ৩৮) ও রাইয়ান হাসনীম (৩২)।
মো. সেলিম মিয়া বলেন, ওই ভবনের সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে মারধরের ঘটনা দেখা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের তারা নাজমুল হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
বৃহস্পতিবার রাম কৃষ্ণ মিশন রোডের ৪৪ নম্বর বাড়ির সামনে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে জোরেশোরে গান-বাজনার প্রচণ্ড শব্দে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন নাজমুল। এ কারণে নাজমুলের ছেলে নাছিমুল ছাদে গিয়ে গান-বাজনার আওয়াজ কমাতে বলেন। এনিয়ে তাদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা শুরু হয়।
এর জের ধরে শুক্রবার সকালে ভবনের নিচতলায় আলতাফ, বর হৃদয়, নিলয় এবং আরও কয়েকজন মিলে নাজমুল ও নাছিমুলকে ডেকে নিয়ে মারধর করেন। বেধড়ক মারধরের কারণে নাজমুল অচেতন হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে এলাকার আজগর আলী হাসপাতালে নিলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাজমুলকে মৃত ঘোষণা করেন।







