মার্কিন সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) পরিচালক জন র্যাটক্লিফ অঘোষিত আলোচনার জন্য রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফর করেছেন। সিআইএ প্রধান হিসেবে এটি র্যাটক্লিফের প্রথম রাশিয়া সফর বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সফরের উদ্দেশ্য কিংবা তিনি কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তা ওয়াশিংটন বা মস্কোর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। তাদের মার্কিন সংবাদ সহযোগী সিবিএসের প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) একটি বড় মার্কিন সামরিক বিমান লাটভিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাশিয়ায় যায়। পরে একই দিন বিমানটি রাশিয়া থেকে ফিরে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সি-১৭ পরিবহন বিমানটিকে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে যেতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া মস্কোর সড়কে একটি কূটনৈতিক মোটর শোভাযাত্রা চলাচলের ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, র্যাটক্লিফের সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে জানিয়েছিল, একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল মস্কো সফর করবে। প্রতিনিধিদলটি রাশিয়ায় অবস্থান করা পর্যন্ত কিয়েভকে হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধও করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ধারণা সামনে এসেছে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মস্কোতে ব্রিটিশ সামরিক অ্যাটাশে হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জন ফোরম্যান বিবিসি রেডিও ৪-এর পিএম অনুষ্ঠানে বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে।
তার মতে, কোনো বিশেষ ঘটনা না ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত এত উচ্চপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তাকে স্বল্প নোটিশে অঘোষিতভাবে মস্কোতে পাঠায় না।
রাশিয়ায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেনকে সমর্থনের অভিযোগে রাশিয়ায় এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা রুশ-মার্কিন নাগরিক ক্সেনিয়া কারেলিনার মুক্তির আলোচনায় এর আগে র্যাটক্লিফের ভূমিকা ছিল।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বন্দী বিনিময়েও সিআইএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই বিনিময়ের মাধ্যমে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক ইভান গার্শকোভিচ, সাবেক মার্কিন মেরিন পল হুইলান এবং রুশ-মার্কিন সাংবাদিক আলসু কুরমাশেভা মুক্তি পান।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর ওয়াশিংটন ও মস্কোর সম্পর্ক ব্যাপকভাবে অবনতি হয়েছে। রাশিয়ার ওপর একের পর এক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কেও তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মস্কো সফর করা সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের মার্কিন কর্মকর্তাদের একজন হতে পারেন র্যাটক্লিফ। গত বছর আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হলেও তা বড় কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এরপর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে চলা শান্তি আলোচনাও কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
র্যাটক্লিফের আকস্মিক মস্কো সফর সেই পরিস্থিতিতে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। তবে সফরটি শান্তি আলোচনা, বন্দী বিনিময় নাকি রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো জরুরি নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।









