যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সেইসঙ্গে তিনি সকল মার্কিন নাগরিককে ভ্যাকসিন নিতে এবং যারা দুই ডোজ নিয়েছে তাদের বুস্টার ডোজ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
বাইডেন বলছেন, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় যারা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেনি, তাদের জন্য গুরুতর অসুস্থতা এবং মৃত্যুর শীতকাল হতে যাচ্ছে এ বছর। তাই যারা টিকার বুস্টার ডোজ নেয়নি এবং এখনো ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নেয়নি তাদের জন্য শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
১ ডিসেম্বর অবধি প্রতিদিন নতুন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ৮৬ হাজার, যা ডিসেম্বর ১৪ তারিখে এসে ৩৫ শতাংশ বেড়ে হয় ১ লাখ ১৭ হাজার।
দ্রুত ওমিক্রনের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জি-৭ এর স্বাস্থ্যমন্ত্রীরা এঅবস্থাকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বৃহত্তম বৈশ্বিক হুমকি বলে দাবি করে বিশ্বব্যাপী সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
বিশ্বে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন এর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫০ জন। তাই দেশটির জন্য আরেকটি কঠিন শীতকাল আসতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সংক্রমণ রোধে অনলাইন ক্লাস এবং পরীক্ষায় ফিরে যাচ্ছে। সপ্তাহের শুরুতেই শতাধিক খেলোয়াড়ের করোনা শনাক্ত হওয়ায় দেশটির জাতীয় ফুটবল লীগ কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। নাট্য সংগঠনগুলো তাদের নাটক ও মহড়া বন্ধ করে দিচ্ছে।
হোয়াইট হাউজেও এর প্রভাব দেখা যায়। কয়েক সপ্তাহ আগে জো বাইডেন বলেছিলেন, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। কিন্তু বৃহস্পতিবার তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, যারা ভ্যাকসিন নিয়েছে তাদের বুস্টার ডোজ এবং যারা ভ্যাকসিন নেয়নি তাদের দ্রুত ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত।
ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হলে দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভ্রমণ স্থগিত করা ছাড়া নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করেনি।
জনহপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মহামারি শুরু থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৮ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা আলাস্কা বা নর্থ ড্যাকোটার মতো প্রদেশের মোট জনসংখ্যার চাইতেও বেশি। শুধু এই বছরেই সাড়ে ৪ লাখ মানুষ মারা গেছে করোনায়, যার বেশিরভাগই ভ্যাকসিন গ্রহণ করেনি।







