র্যাঙ্কিং, রেটিং শব্দগুলো এখন বেশ প্রচলিত বাংলাদেশের ক্রিকেটে। টাইগারা কয় নম্বরে উঠল, রেটিং কত বাড়ল, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের স্থানটা সাকিব ধরে রাখতে পারলেন কিনা; এসব নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই ক্রিকেটপ্রেমীদের। যদি প্রশ্ন করা হয় র্যাঙ্কিংয়ের ব্যাপারটি বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রথম কবে জড়িয়েছে? শুনলে অবাক হতে হয়, সেটি ১৯৯৫ সালে। একজন পেস বোলারের সাফল্যের মাধ্যমে। তিনি সাইফুল ইসলাম।
সে সময় শারজায় এশিয়া কাপের তিন ম্যাচে সাইফুল নিয়েছিলেন পাঁচ উইকেট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ছিল যার চারটি। ম্যাচে ১০ ওভারে ৩৬ রান দিয়েছিলেন। দেশের পক্ষে তখনকার সেরা বোলিং ফিগারের এই রেকর্ড টিকে ছিল ১০ বছর।
এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষেই শুধু উইকেট পাননি। একটি নেন পাকিস্তানের সাথে। ওই আসরে পাঁচ উইকেট নিয়ে বিশ্বের দশ নম্বর বোলার হিসেবে স্বীকৃতি পান সাইফুল। এক নম্বর বোলার তখন পাকিস্তানের আকিব জাভেদ। তখন দেশি পত্রিকায় ছাপা হয় র্যাঙ্কিংয়ে সাইফুলের ১০-এ উঠে আসার খবরটি। তার সাফল্যের মাধ্যমেই তখন দেশের ক্রিকেটভক্তরা র্যাঙ্কিং বিষয়টি নিয়ে আগ্রহী হতে শুরু করে।
সেই পেপার কাটিং এখনও সঙ্গে রাখেন ৪৮ বছর বয়সী সাবে পেসার সাইফুল ইসলাম। বিসিবির হাই-পারফরম্যান্স (এইচপি) ক্যাম্পে বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করছেন তিনি। মিরপুরের একাডেমি ভবনে বর্তমান বাংলাদেশ দল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলার মাঝে উঠে এল তার সুখস্মৃতিগুলোও।
সাইফুল পেপার কাটিং থেকে মোবাইলে ছবি তুলে রেখেছেন। ফটো গ্যালারি থেকে দেখালেন ১৯৯৫ সালে সেই খবরটি- ‘সেরা দশ বোলারের একজন বাংলাদেশের সাইফুল’।
নিজের কীর্তি নিয়ে কথা বলার সময় আবেগে ডুবে গেলেন তিনি। যেন চোখের সামনে ভাসছে সেইসব দিন, ‘ভোরের কাগজের সাংবাদিক জানাল, আপনি তো র্যাঙ্কিংয়ে ১০-নম্বরে। আমি বললাম, কীভাবে? উত্তর এল, পারফরম্যান্স দিয়ে। এখন তো প্রতিদিনকার রেটিং আপডেট করছে। তখন খেলা কম হতো। আপডেট খুব কম হতো। দশ নম্বর বোলার হিসেবে র্যাঙ্কিংয়ে ৫-৬ মাস ছিলাম হয়ত। খুব ভালো লেগেছিল তখন, এখনও ভাবতে ভালোই লাগে।’
বাংলাদেশ ক্রিকেটের অতীত নিয়ে আলোচনার অনুষঙ্গ বাংলাদেশ দলের বর্তমান সাফল্য। মোটাদাগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টাইগারদের সেমিফাইনালেও ওঠা। মাশরাফি-সাকিব-তামিমরা যখন ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে বিশ্বজয়ের সামনে, তখন স্মৃতির ভেলায় চড়ে উঠে আসেন সাবেকরাও। বাংলাদেশ ক্রিকেটের যাত্রার শুরুর সময়টাও চলে আসে সামনে।

১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়, ওয়ানডে স্ট্যাটাস অর্জন ও সেসময়কার নায়কদের কথা। সাইফুল সেই নায়কদের একজন। কুয়ালালামপুরে আইসিসি ট্রফির ফাইনালে কেনিয়ার শুরুর দুই উইকেট নিয়ে জয়ের রাস্তা তৈরি করেছিলেন। যতদিন ক্রিকেট থাকবে সে সময়গুলো বারবার ফিরে আসবে। ফিরিয়ে আনবে এখনকার বাংলাদেশ দল দারুণ কিছুর উপলক্ষ সামনে এনে। সাইফুল তেমনটাই মনে করেন।
‘এখনকার সাফল্য বাঁচিয়ে রেখেছে আমাদের সময়টাকে। বাংলাদেশ দল যখনই কোন বড় সাফল্যে ভাসছে, অতীত কিন্তু উঠে আসছে। ওদের সাফল্যে অতীত এভাবেই বারবার সামনে আসে। সেসব স্মৃতি যখন সামনে আসে, অনেক বড় আনন্দের জিনিস আমাদের জন্য। স্বপ্ন দেখছি সামনের বাস্তবতা আরো সাফল্যময় হবে।’
যে স্বপ্ন নিয়ে সাইফুলরা ক্রিকেট খেলেছিলেন, তারা সেটি পূরণ করেছিলেন তাদের মত করে। পরের প্রজন্মের জন্য রসদ হিসেবে রেখে গিয়েছিলেন ওয়ানডে স্ট্যাটাস। যে পথ ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট এতটা দূরে; শীর্ষে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে খেলেন মাশরাফিরা, ‘এটার পেছনে অনেক গল্প থাকবে। আমরা আমাদের স্বপ্নটা পূরণ করেছি। এখনকার প্রজন্ম আরও বড় স্বপ্ন দেখছে। আগে আমরা সম্মানজনক অবস্থায় গেলেই খুশি হতাম। এখন তৃষ্ণাটা বেড়েছে। সেটা সাফল্যে রূপান্তরিত করার সামর্থ্যওটাও বর্তমান ক্রিকেটারদের আছে।’
বাংলাদেশ ছয় নম্বর র্যাঙ্কিং নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু করে এখন শেষ চারে। ফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে বৃহস্পতিবার এজবাস্টনে র্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বর দল ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামবে। সাইফুলের স্বপ্ন ডানা মেলে অনেকদূর, ফাইনাল গড়িয়ে শিরোপায় যেয়ে ঠেকে যেটি।










