শিশু সৌরভকে গুলির মামলায় গাইবান্ধার এমপি লিটনকে আত্মসমর্পণের নিদের্শনা দেয়া হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আজ এ আবেদনের শুনানির কথা থাকলেও, আসামীপক্ষ সময় আবেদন করায় এক দিন পিছিয়ে আগামীকাল বুধবার শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়।
গতকাল সোমবার এমপি লিটনের আগাম জামিন আবেদন নাকচ করে ১৮ অক্টোবর বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আসামিকে গ্রেফতারের প্রার্থনা থাকলেও, তা না হওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশনার বিরুদ্ধে এই আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
হাইকোর্টের নির্দেশনার ব্যাপারে ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছিলেন, এই আদেশের ফলে এমপি লিটনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে কিনা এ ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে পুলিশ। সেই দ্বন্দ্বের অবসান করতেই মূলত হাইকোর্টের নির্দেশনা স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে।
এ উদ্দেশ্যে প্রথমেই আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদালত থেকে অনুমতি নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। একই বিষয়ে দু’টি মামলা থাকায় একে প্রথমে কার্যতালিকায় ১০৮ এবং ১০৯ নাম্বারে রাখা হয়। পরে তা ৭০-এর সারিতে এসে দাঁড়ায়।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আসামীপক্ষের আইনজীবী মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানকে ডাকা হলে তিনি মামলার শুনানির জন্য আদালতের কাছে সময় আবেদন করেন।অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সময় আবেদনের বিরোধিতা করে বলেছেন, এমপি লিটনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মামলা। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ চায় যেন হাইকোর্টের নির্দেশনাটি শিগগিরই স্থগিত করা হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেন এমপি লিটনের বিরুদ্ধে গ্রেফতার সংক্রান্ত আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।
সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, আসামীপক্ষ একদিন সময় চাওয়ায় আদালত বুধবার চেম্বার জজ আদালত আবার বসবে এবং তখন মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকার প্রথমদিকে রাখা হবে।
২ অক্টোবর ভোরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের গুলিতে দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয় ৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন সৌরভ। শিশুটি এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পরদিন সৌরভের বাবা সংসদ সদস্য লিটনকে আসামী করে মামলা করেন। এছাড়া ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন হাফিজার রহমান নামে সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর শাহাবাজ গ্রামের এক বাসিন্দা।
গুলির ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিলেন লিটন। রোববার লিটনের আগাম জামিনের আবেদন করেন আইনজীবীরা।
সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর অবকাশকালীন বেঞ্চ জামিন আবেদন খারিজ করে সাংসদ লিটনকে ১৮ অক্টোবরের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।







