ভারতের উত্তরপ্রদেশের মথুরায় পুলিশের সাথে জনতার ব্যাপক সংঘর্ষে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশে জমি দখলকারীদের উচ্ছেদ গেলে প্রায় পাঁচ ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সুপার (সিটি) মুকুল দ্বিবেদী ও স্টেশন হাউজ অফিসার (এসএইচও) সন্তোষকুমার যাদব নিহত ও আরও ৫ পুলিশ কর্মী আহত হন।
মূখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিকে পুরো ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মৃত দুই পুলিশকর্মীর পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
মথুরার জওহরবাগে ২০১৪ সালের শেষ থেকে আজাদ ভারত বিধিক বিচারক ক্রান্তি সত্যাগ্রাহী নামে একটি সংগঠনের অবৈধভাবে দখলে থাকা ২৮০ একরের সরকারি জমি খালি করতে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট থেকে প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়। সেখানে বসবাসরত প্রায় তিন হাজার লোককে বৃহস্পতিবার পুলিশ উচ্ছেদ করতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়।

চিত্র: মুকুল দ্বিবেদী ও সন্তোষকুমার যাদব (বাম থেকে)
দখলকারীরা প্রথমে ইট-পাটকেল ছুড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও এবং পরে গুলি চালাতে শুরু করে। হ্যান্ড গ্রেনেড ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ পুলিশের। পুলিশও লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের পর পাল্টা গুলি ছুড়ে। সংঘর্ষে ২৪ জন পুলিশ কর্মীসহ ৫০ জন আহত হন।
পরে বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে ৫ ঘন্টার চেষ্টায় জওহরবাগে প্রবেশ করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর কার্তুজ, বারুদ, ৪৫ টি রাইফেল এবং বেশ কিছু দেশি বন্দুক উদ্ধার করা হয়।

সংগঠনের নেতা রামবৃক্ষ যাদব ও তার নিরাপত্তারক্ষী চন্দন গওর হামলায় নেতৃত্ব দেয় বলে অভিযোগ করে পুলিশ। পালিয়ে যাওয়া এই দুজনকে খোঁজা হচ্ছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত দুই বছর আগে অন্য একটি ধর্মীয় সংগঠন থেকে আলাদা হয়ে ভারত বিধিক বিচারক ক্রান্তি সত্যাগ্রাহী প্রতিষ্ঠা করেন রামবৃক্ষ। ধর্নার নামে সংগঠনটি ২৮০ একরের জমি জবরদখল করে রাখে। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও তা খালি করেননি রামবৃক্ষ।









