চট্টগ্রাম থেকে: অস্ট্রেলিয়ার একটি করে উইকেট পড়ে, একটু করে আক্ষেপ বাড়ে। ইশ…! আর কিছু রান হলেই তো হয়ে যেত! তাইতো জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে ভেসে বেড়াল এই ইশ শব্দটা। আফসোস, আক্ষেপ ও আরেটু ভাল ব্যাটিং করতে না পারার হতাশা মেখে থাকল যাতে।
বাংলাদেশের দেয়া ৮৬ রানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে অস্ট্রেলিয়ার উইকেট পড়েছে তিনটি। চতুর্থ দিনের মেঘলা বিকেলে এই রান টপকাতে শুরুতে একটু হোঁচট, কখনও সাবধানী আর শেষদিকে আগ্রাসী মেজাজে খেলেছে অজিরা। শেষে একদিন হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে। সঙ্গে ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করেছে স্টিভেন স্মিথের দল।
মিরপুরে প্রথম টেস্টে ২০ রানে হারের পর ৭ উইকেটের জয় দিয়ে শোধ তুলল সফরকারীরা। আক্ষেপে পুড়ল বাংলাদেশ। জয় ছাড়া অন্যকিছুই নাকি মাথায় আনেনি বাংলাদেশ। শেষে এমন পরাজয়!
তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন যখন বৃষ্টিতে ভাসল, ড্রয়ের সম্ভাবনাও জেগেছিল তখন। কিন্তু বাংলাদেশ সে চেষ্টায় যায়নি। যেতে পারেনি আসলে উইকেটের কারণেই। টিকে থাকায় দায় হয়ে গিয়েছিল টার্ন, বাউন্স বাড়ায়।
প্রথম ইনিংসে ৭২ রানে পিছিয়ে পড়াই কাল হয়েছে টাইগারদের জন্য। চতুর্থ দিনের সকালে দ্বিতীয় ইনিংসে যখন ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, উইকেটে টার্ন-বাউন্স। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা নাথান লায়নকে সামলানো যায়নি বৃহস্পতিবারও। তার স্পিন বিষে নীল স্বাগতিকদের টপঅর্ডার। বাংলাদেশ অলআউট ১৫৭ রানে। প্রথম ইনিংসে লিড থাকায় অজিদের লক্ষ্যটা দাঁড়ায় একশ’র নিচে।
মোস্তাফিজ দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিরিয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নারকে। দলীয় পঞ্চাশের আগেই স্মিথকে তাইজুল আর সাকিব ফেরান রেনশ’কে। খানিক চাপে পড়েও হ্যান্ডসকম্ব-ম্যাক্সওয়েল সময় নিতে চাইলেন না। দ্রুত রান তুলে ১৫.৩ ওভারেই জয়ের বন্দরে নিয়ে গেলেন দলকে। সফরকারীদের বুক থেকে সরে গেল পাথর। সিরিজ সমতা করেই দেশে ফিরতে পারছে তারা।
ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি মোস্তাফিজের স্বরূপে ফেরা। কাঁধের অস্ত্রোপচারের পর বোলিংয়ে ধার কম দেখা যাচ্ছিল। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেট নিয়ে জানান দিয়েছেন নতুন করে ফেরার। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শেষ উইকেটটি নিয়েছেন চতুর্থ দিনের প্রথম ওভারেই। সব মিলিয়ে প্রথম ইনিংস থেকে ৪টি ও দ্বিতীয় ইনিংসে একটি উইকেট ফিজের দখলে।
মিরপুরের জয় ভুলিয়ে দিয়েছিল অনেক ভুলকে। সাফল্যের দিনে যে ভুলের প্রসঙ্গ কেউ শুনতে চায় না। চট্টগ্রামেও ঘটেছে ভুলেন পুর্নমঞ্চায়ন। মিরপুরে জয়ের ম্যাচের পরও স্লিপ আর সিলিতে ক্যাচ ধরার প্রসঙ্গ আলোচনায় এসেছিল। বন্দরনগরীতেও আলোচনায় থাকল সেটি। প্রথম ইনিংসে অজিদের লিড পাইয়ে দেওয়া ওয়ার্নার ৫২ ও ৭৩ রানে ‘জীবন’ পান। প্রথমটি ক্যাচ হাতছাড়া, দ্বিতীয়টি মুশফিকের স্টাম্পিং মিস। পরে ১২৩ রানের ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন ওয়ার্নার।
টাইগারদের ব্যাটিংয়ে অদল-বদলের কিছু চিত্রও আলোচনায়। কাঠগড়ায় উঠছে পরিবর্তনগুলো। টপঅর্ডারে ৬০ গড় যার, সেই মুমিনুল ব্যাটিংয়ে নামলেন আট নম্বরে। এই চিত্র বলে দেয় কিছু ভুল তো হয়েছেই!
ছবি: সাকিব উল ইসলাম










