সরকার দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের জন্য দ্রুত শিল্পায়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ এবং জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টিই মূল লক্ষ্য, আর কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য শিল্পায়ন অত্যন্ত জরুরি।
বৃহস্পতিবার ইউনিডো’র মহাপরিচালক লি ইয়ং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
বৈঠকে সরকার বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়ে বিভিন্ন আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধাদি প্রদান করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার সারাদেশে একশ’টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে সেখানে বিনিয়োগের জন্য প্লট বরাদ্দ করছে চাইলেই এর সুযোগ নিয়ে নিয়ে বিনিয়োগকারীরা সেখানে নিজস্ব শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার স্থানীয় পণ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি এগ্রো বেজড শিল্প প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার একটি পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করে চলেছে এবং বর্তমানে দেশে-বিদেশে পাট শিল্পের চাহিদার কারণে পাট পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণকে উৎসাহিত করছে।
বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’র (ইউএনআইডিও-ইউনিডো) মহাপরিচালক বাংলাদেশকে তাঁর অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই উন্নয়নের ধারায় সহযোগিতা করতে আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
এ সময় বঙ্গবন্ধুর সময়ে গৃহীত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শিল্প খাতকে সরকারি এবং বেসরকারি উভয়খাতে এবং সমবায়ের মাধ্যমে বিকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর সরকারও সেই পদাংক অনুসরণ করেই এগিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ তার বৃহৎ জনসংখ্যা নিয়েই পণ্য বাজারজাতকরণের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র এবং ক্রমেই এর আভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে বাজার সম্প্রসারণের জন্য এটি ইতোমধ্যেই বিবিআইএন (বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া, নেপাল) এবং বিসিআইএম (বাংলাদেশ, চীন, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার) নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়েছে।
তার সরকার শিল্প খাতের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কারিগরি এবং প্রকৌশল শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে জানান প্রধানমন্ত্রী। যে কারণে দেশে অনেক সারাদেশ এখন ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আসায় শিল্পায়ন আরো বিকশিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে লি ইয়ং বলেন, যে কোন দেশের জন্যই বৃহৎ এই জনসংখ্যা চ্যালেঞ্জ স্বরূপ হলেও বাংলাদেশের এই জনসংখ্যার মধ্যে একটি বড়ো অংশ তরুণ হওয়ায় এটি দেশটির জন্য অমিত সম্ভবনার সৃষ্টি করেছে।
তরুণদের প্রশিক্ষণ,আরো বেশি করে এগ্রো বেজড শিল্প স্থাপন এবং পণ্যেও মানোন্নয়ন ঘটাতে হবে। এ বিষয়ে ইউনিডো বাংলাদেশকে সবরকম সহায়তা দিতে প্রস্তুুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এবং অস্ট্রিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবু জাফর এ সময় উপস্থিত ছিলেন।







