কক্সবাজার থেকে: টানা দ্বিতীয় জয় তুলে ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। মঙ্গলবার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ২ নম্বর মাঠে নেপাল জাতীয় দলকে ১২০ রানে হারায় মুমিনুল হকের দল। সোমবার প্রথম ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে ৮ উইকেটের জয় পায় স্বাগতিকরা।
আট দলের এই আসরে ‘বি’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দল। হংকংকে ২৪৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয় পায় দলটি। বৃহস্পতিবার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান।
মন্থর উইকেটে বাংলাদেশের করা ২৫৭ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে রাহাতুল ফেরদৌসের ঘূর্ণিতে ১৮০ রানে অলআউট হয় নেপাল। বাঁহাতি টাইগার স্পিনার তুলে নেন চার উইকেট।
নতুন বল পেয়ে মন্থর উইকেটেও গতির ঝড় তোলেন পেসার আবুল হাসান রাজু ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ১৬ রানের মাথায় প্রতিপক্ষের তিন ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠান দুই পেসার। সাইফউদ্দিন দুটি ও আবুল হাসান নেন একটি উইকেট।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন দিলিপ নাথ ও দিপেন্দ্র সিং। ৯৮ রানের জুটিটি ভাঙেন রাহাতুল। ৪২ রান করে বোল্ড হন দিপেন্দ্র। স্পিনে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের উপর জেকে বসেন তরুণ টাইগার স্পিনার। পরের তিনটি উইকেটও তার। ১৩৬ রানের মাথায় ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে নেপাল। ৯ নম্বরে নামা বিনোদ বান্দারি ২৩ বলে ৩৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সাইফউদ্দিনের বলে বোল্ড হন। নেপাল ইনিংসে শেষ পেরেকটি ঠোকেন আবুল হাসান।
নেপালের ইনিংসের মতো শুরুতে বিপর্যয় পড়েছিল বাংলাদেশও। তবে চাপ সামলে নাসির হোসেন, মুমিনুল হক ও আবুল হাসান রাজু এনে দেন লড়াকু পুঁজি। ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৫৭ রান তোলে স্বাগতিকরা। সহ-অধিনায়ক নাসির খেলেছেন ১০৯ রানের অপরাজিত ইনিংস। ৬১ রানের ইনিংস এসেছে অধিনায়ক মুমিনুলে ব্যাটে। আবুল হাসান করেন ২৯ রান।
সকালে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া স্বাগতিক দলকে পথ দেখায় মুমিনুল-নাসিরের পঞ্চম উইকেট জুটি। দলীয় ১১১ রানে ৬১ রান করে মুমিনুল বিদায় নিলে ভাঙে প্রতিরোধের জুটিটি। লেগস্পিনার সন্দীপ লামিচানের গুগলি স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মিডউইকেটে জয়েন্দ্র মাল্লার তালুতে দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন এই বাঁহাতি ‘লোকাল বয়’।
মুমিনুল ফেরার পর জীবন পান নাসির। ব্যক্তিগত ৩৭ রানে সুইপ করতে যেয়ে স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো ফিল্ডার বরাবর ক্যাচ উঠিয়েছিলেন। সহজ ক্যাচটি তালুতে জমাতে পারেননি ফিল্ডার। জীবন পাওয়া নাসির হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করতে বেশি সময় নেননি।
হাফসেঞ্চুরি পেরিয়ে যেতেই ড্রেসিংরুম থেকে নাসিরকে উদ্দেশ্যে করে মুমিনুল চিৎকার করে কয়েকবার বললেন, ‘আবার নতুন করে’। পরে নতুন করেই শুরু করেন নাসির। ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাট চালিয়ে হাঁটেন সেঞ্চুরির পথে। ৯০ রানে মিডউইকেটে সীমানার কাছে আরও একবার জীবন পান। তবে সেঞ্চুরি পেতে বলের সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে নাসিরকে।
সঙ্গী আবুল হাসান রাজু ব্যাট করছিলেন দুর্দান্ত। শেষ ওভারে সেঞ্চুরি করতে নাসিরের দরকার পড়ে ৩ রান। প্রথম বলেই সোজা ব্যাটে ছক্কা হাঁকিয়ে শতক। হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে দর্শকদের অভিনন্দনের জবাব দেন সময় নিয়ে। নাসিরের ১১৫ বলের ইনিংসে ১২টি চার ও দুটি ছক্কা। আবুল হাসান করেন ২৯ রান।
অথচ শুরুর সময়টা ছিল বিপদের। টস জিতে নেপাল দল ফিল্ডিংয়ে, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ব্যাটিংটা আজ উপভোগ করা যাবে ভেবে স্বস্তি পাচ্ছিলেন মাঠে আসা দর্শকরা। মাঠে গ্যালারি নেই। সামিয়ানা টাঙিয়ে করা হয়েছে কিছু দর্শকের বসার ব্যবস্থা। তবে তারা সামিয়ানার তলায় থিতু হওয়ার আগেই বাংলাদেশের চার উইকেট উধাও।
ম্যাচ মাঠে গড়ানোর ৩০ মিনিটের মধ্যেই সাজঘরে ফিরে যান আজমীর আহমেদ, সাইফ হাসান, মোহাম্মদ মিথুন, নাজমুল হোসেন শান্ত। মন্থর উইকেটে স্বাগতিক দলের ব্যাটসম্যানরা আউট হয়েছেন কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে।
ওপেনার আজমীর (০) ও সাইফ (৭) আউট হয়েছেন উড়িয়ে মারতে গিয়ে। বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন মিথুন (০)। আর বল নিচু হয়ে আসায় সরাসরি বোল্ড হন শান্ত (৪)। পরের সময়টা কেবলই প্রতিরোধের।
নেপালের বাঁহাতি পেসার অভিনাশ কর্ণ তুলে নেন প্রথম তিন উইকেট। লামিচান নেন দুটি। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মাহবুব আলম, জয়েন্দ্র মাল্লা ও জিতেন্দ্র সিং।








