‘সব ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে খেলার। আমারও সেই স্বপ্ন ছিল এবং এশিয়া কাপের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই ম্যাচে আমার স্বপ্নের মতো অভিষেক হয়েছিলো।’
ইডেনে বাংলাদেশের আরেকটি ম্যাচের আগে আবেগে আপ্লুত হয়ে বলছিলেন ১৯৯০ সালে ইডেন গার্ডেনে অভিষেক হওয়া বাংলাদেশী পেসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খান।
কলকতার ইডেন গার্ডেনে বাংলাদেশের প্রথম ও শেষ ম্যাচ ১৯৯০ সালে ৩১ ডিসেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এরপর চলে গেছে পঁচিশ বছর, আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ থেকে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে টেস্ট খেলুড়ে দেশে, খেলা হয়ে গেছে পাঁচটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ, পাঁচটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও।
কিন্তু, ঘরের পাশের ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ ইডেনে আর কখনোই ফেরা হয়নি বাংলাদেশের! অবশেষে টি-২০ বিশ্বকাপে ইডেনে একজোড়া ম্যাচ খেলার সুযোগ, প্রথমটি বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে।
তার আগে বাংলাদেশের প্রথম ও শেষ ইডেন অভিজ্ঞতার কথা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন একসময় বাংলাদেশের প্রধান পেসার সাইফুল।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এখন ৪৬ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই সময়গুলোতে আমাদের সঙ্গে কোনো দলই খেলতে চাইতো না। এশিয়া কাপ ছিলো একমাত্র ব্যতিক্রম।
‘তারপরও আমরা দলীয়ভাবে মনোবলের তুঙ্গে ছিলাম। দলে ছিলেন ফারুক ভাই, আতহার ভাই, নান্নু ভাই, আকরাম ভাই, প্রিন্স ভাই। আমার অভিষেক ম্যাচ ছিলো, তাই তারা আমাকে নানাভাবে নির্দেশনা দিয়ে সহায়তা করেছিলেন।’
স্মৃতিকাতর হয়ে সাবেক ডানহাতি এ পেসার বলছিলেন: দলের হয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওভারটি করেছিলাম,ওটা ছিল মেডেন ওভার। ওই সময়ে শ্রীলঙ্কার মারকুটে ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বল করে আমি প্রথম ছয় ওভারে মাত্র ছয় রান দিয়েছিলাম। দ্বিতীয় স্পেলে বল করতে এসে অরবিন্দ ডি সিলভার উইকেটটা প্রায় পেয়েই গিয়েছিলাম, কিন্তু মিড উইকেটে ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি ফারুক ভাই।
১৯৯৭ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে নাইরোবিতে শেষ ওয়ানডে খেলা সাইফুল ইসলাম বলেন, ইডেনের ওই ম্যাচে আমরা ৭১ রানে হেরে গেলেও আতহার ভাই ৯৫ বলে ৭৮ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন। আতহার ভাই ম্যাচ সেরাও হয়েছিলেন।
সেই কলকাতার ইডেন গার্ডেনে বুধবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেনের ম্যাচে পাকিস্তানের সঙ্গে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সদ্য এশিয়া কাপের রানার্স আপ বাংলাদেশ ফুটছে টগবগ করে। এশিয়া কাপেও তামিম মাশরাফিরা হারিয়েছে পাকিস্তানকে।
বাংলাদেশের হয়ে সাত ওয়ানডে খেলে ছয় উইকেট নেওয়া পেসার সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: বাংলাদেশ এখন অনেক পরিণত, অনেক ব্যালান্সড দল। বাংলাদেশ এখন দায়িত্ব নিয়ে খেলতে শিখেছে। দলীয় পারফরম্যান্সের জন্য দল জয় পাচ্ছে, এটাই সবচেয়ে বেশি দরকার।
‘একদিন তামিম ভালো না করলে সাব্বির ভালো করছে। তাছাড়া বোলিং-ফিল্ডিং সব কিছু মিলিয়েই অসাধারণ বর্তমান বাংলাদেশ দল,’ উত্তরসূরীদের সাফল্যে গর্বের সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশ দলের প্রশংসা করেন সাইফুল।
ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করা সাবেক এ পেসার বলেন, দলের বর্তমান যে অবস্থা এই সাফল্য নিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। সব সময় মনে রাখতে হবে ম্যাচে হার জিত থাকবেই। আমাদের মাঠে নামতে হবে জয়ের জন্য। হেরে গেলেই যে কিছু হলো না, এমন ধারণাও থাকা যাবে না। উল্টো হারের কারণগুলো খুঁজে পরবর্তী ম্যাচে বেটার খেলা খেলতে হবে।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে কেমন খেলবে বাংলাদেশ? পূর্বসূরী সাইফুলের প্রত্যাশা কতোটুকু?
সাইফুল ইসলাম বলেন: টি-টুয়েন্টিতে যে কোনো কিছুই হতে পারে। গত বছর আমরা ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিলাম, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমি ফাইনালের আশা রাখি আমি। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ অনেক ভালো ক্রিকেট খেলছে।
টি-২০ বিশ্বকাপের এবারের আসরে সুপার টেনে পাকিস্তান ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।







