প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক সময় মনে হয়েছিল, দেশের উন্নয়নে টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা উচিৎ। কিন্তু এখন আর সেই ইচ্ছা নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ দেশ জুড়ে যে উন্নয়নের কাজ করেছিল; ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসতে না পারায় বন্ধ হয়ে যায়। এ মনকষ্ট থেকে একটা সময় টানা দুই মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকার ইচ্ছে ছিল।
এখন আর সেই ইচ্ছা নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কাছে এখন ক্ষমতাটা হচ্ছে, থাকে লক্ষ্মী; যায় বালাই।’
‘‘আমরা দেশ এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের হারাবার কিছু নেই। আর ক্ষমতা, হ্যাঁ আমার এক সময় আকাঙ্ক্ষা ছিল। অন্তত ‘৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত যে উন্নয়নটা আমরা করেছি ২০০১ থেকে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেটা নষ্ট করে দেয়। সেজন্য একটা সময় ছিল, আকাঙ্ক্ষা ছিল, যদি দুই বার থাকতে পারি উন্নয়নগুলো দৃশ্যমান হবে। মানুষ তার সুফল পাবেন। এখন আমার কাছে ক্ষমতা, থাকে লক্ষ্মী; যায় বলাই। পরিষ্কার কথা, আমার এটা নিয়ে আমার কোনো ভয় নেই। ভয় থাকে তার, যার হারাবার কিছু থাকে। আমার তো হারাবার কিছু নেই।’’
তার পরিবারের সবাই দেশ এবং দেশের জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন: আমাদের ছেলে-মেয়ে যারা আছে, তারা দেশের জন্যই কাজ করছে। প্রত্যেকেই এক-একটা কাজ করছে। তারা যে কাজ করছে তাতে দেশের কল্যাণের জন্যই। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলেন, অটিজম বলেন, একজন তো ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি, একজন তো কাউন্টার টেররিজম’র ওপর মাস্টার্স করে সেখানেই কাজ করে যাচ্ছে। আমি তাকে বলেছি আমাদের এখানে এসে একবার বক্তৃতা করে যাও। কাজেই আমাদের ছেলে-মেয়েরা তারা তাদের মত দেশ এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশে আবারও গণতন্ত্র ফিরেছে জানিয়ে তিনি বলেন: ক্ষমতার লোভ যারা সামলাতে পারে না, তারা দেশটা কিভাবে চালাবে? একুশ বছর পর তো আমরা ক্ষমতায় এসেছি। মাঝে ৭ বছর ছিলাম না। তারা কি করেছে? আপনারা সবাই জানেন।
‘‘আমরা অনেক কষ্টে আজকের গণতন্ত্রটা ফিরিয়ে এনেছি। এটা অব্যাহত থাকলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। নৌকায় ভোট দিলে উন্নয়ন অব্যাহত থাকে। নৌকা ছাড়া কেউ উন্নয়ন করবে না। এটা আমি বলতে পারি একমাত্র নৌকা দিয়ে যারা আসবে তারা উন্নয়ন করবে।’’
যাদের ক্যাবিনেটের মন্ত্রী ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের জন্য এতো মায়াকান্না কেন? এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কি অবস্থায় ছিলে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তো চলে আসছি। আমার বিরুদ্ধে মার্ডার কেস দিয়েছে, ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছে। তাও তো আমি চলে এসেছি। আমি বললাম আমি আসব.. তারা বলল আসতে পারবো না!
‘‘তাও জোর করে আমি দেশে ফিরেছি। আমি ফেস করব আমার মনের জোর আছে। আমার বিশ্বাস আছে সে কারণেই আমি সাহস নিয়ে আসতে পেরেছি। কারাগারে বন্দি হয়েছি তাও আমি চুপ থাকেনি। দেশের মানুষ তার প্রতিবাদ করেছে। আমার দলের লোকেরাও কাজ করেছে, বসে থাকিনি।’’
বিএনপির সমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন: ‘আমেরিকায় থাকতে তারা মিটিংয়ের জন্য অনুমতি চেয়েছে। আমার কাছে জিজ্ঞেস করা হলো, কি করবে? আমি বললাম সবাইকে পারমিশন দিয়ে দিবেন। আমি বলে দিয়েছি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি স্টেজ বানিয়ে দিতে, শুধু মেইনটেনেন্স এর জন্য একটা ভাড়া দিতে হবে। কারণ এত নোংরা হয়ে যায়, ওইটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। কাজেই মেইনটেনেন্স এর জন্য কিছু ভাড়া নিয়ে রাখবেন। জায়গা দিয়ে দেন যে যত খুশি মিটিং করুক বক্তব্য দিক। আমার কোন আপত্তি নেই। এটা গণতান্ত্রিক অধিকার।’
মানুষকে কষ্ট দিয়ে রাস্তায় কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ নয় জানিয়ে তিনি বলেন: কেউ রাস্তা আটকাতে পারবে না। রাস্তা আটকালে মানুষের কষ্ট হয়। বিএনপির মিটিং করেছে, আমাকে কেউ বলছে ৫০ হাজার, কেউ বলছে ৬০ হাজার; আমি ধরে নিলাম এক লাখ। তাও ভাল, তারা মিটিংটা মাঠে করেছে। তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমি বাধা দেবো কেন?








