ফ্রান্সের জাতীয় দিবসের একটি অনুষ্ঠানে সমবেত জনতার ভিড়ে গুলি চালানোর পাশাপাশি লরি তুলে দেওয়ার ঘটনায় নিহত হয়েছে কমপক্ষে ৮৪ জন। যাদের বেশির ভাগই ওই লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ। ঘটনার পর সংকটকালীন জরুরী বৈঠক ডেকেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের নিস শহরের ওই ঘটনার সঙ্গে জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাসহ বিশ্বনেতারা।
এই ঘটনাকে একটি সন্ত্রাসী হামলা বর্ণনা করে; কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরের ভেতর থাকার জন্যেও অনুরোধ করেছে।
ওই লরিটির ড্রাইভার তিউনিসিয়ান
বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ সংস্থা এএফপি। পুলিশের বরাতে এএফপি জানায়, লরির ভেতরে পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৩১ বছর।
ঘটনার এক পর্যায়ে ওই লরি চালককে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছে। তবে তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
হামলাকারীর
পরিচয় সম্পর্কে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া না গেলেও তার চেষ্টা চলছে বলে
জানিয়েছে সূত্রটি। তবে পরিচয়পত্রে তাকে নিস শহরের বাসিন্দা বলে উল্লেখ করা
হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বাস্তিল দুর্গের দিবস উপলক্ষে একটি আতশবাজি প্রদর্শনী চলছিল, তখন অসংখ্য মানুষের ভিড়ের উপর একটি লরি উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই অনেক মানুষ মারা যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ওই ঘটনার ছবিতে দেখা যাচ্ছে: হতাহতের অনেকে রাস্তার উপর পড়ে রয়েছে।
নিস শহরের প্রসিকিউটরের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে অন্তত ৮০ জন নিহত হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ এখনও আহত হয়ে রাস্তায় পড়েছিল।
ফ্রান্সের গণমাধ্যমের কাছে প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন দাবি করেছেন; সেখানে থেকে তারা গুলির শব্দও শুনতে পেয়েছেন। যদিও এখন পর্যন্ত এ তথ্যের তেমন কোন নির্ভরযোগ্য সত্যতা পাওয়া যায়নি।
শহরটির একজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, আমরা কয়েকটি গুলির শব্দও শুনতে পারি। প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম যে, সেগুলো হয়তো আতশবাজির শব্দ। কিন্তু সবাইকে দৌড়ে পালাতে দেখে আমরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।
সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ পেয়েছে। তাতে দেখা যায়, অসংখ্য মানুষ আতকিংত মুখে শহরের রাস্তা ধরে ছুটে পালাচ্ছে। আবার হতাহতদের অনেককে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
ঘটনার এক পর্যায়ে ওই লরি চালককেও পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছে। তবে তার পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর প্যারিসে ফুটবল স্ট্যাডিয়ামের বাইরে এবং কয়েকটি
রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় শতাধিক নিহত হয়। এর পরেই জাতীয় জরুরি অবস্থা
ঘোষণা করেছিলেন ওঁলাদ।










