রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় আপন জুয়েলার্সের মালিকের ‘অবৈধ সম্পদ’ খুঁজতে তাদের প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি বিক্রয়কেন্দ্রে গতকাল অভিযান চালিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। এই অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
অভিযানের বিষয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে সোমবার এক জরুরী বৈঠক ডেকেছে। ওই বৈঠক অভিযানের প্রতিবাদ জানানো হয়।
সোমবার সংগঠনের সভাপতি গঙ্গা চরন মালাকার ও সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এ খবর জানানো হয়।
বাজুস বলেছে, কোনো নোটিস ছাড়াই আপন জুয়েলার্সের ৫টি শো-রুম শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক বন্ধ করে দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাজুসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরী সভা ডাকা হয়। সভায় আপন জুয়েলার্সের শোরুম বন্ধের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আপন জুয়েলার্সের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক হাজার পরিবারের ভরণ পোষণ জড়িত। শোরুম বন্ধ করায় তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এ পরিবারের সাথে জড়িত ৫ হাজার মানুষের দায়ভার কে নেবে? আপন জুয়েলার্স সরকারের সকল নিয়ম কানুন মেনে বৈধভাবে ব্যবসা করে আসছে। কিন্তু হঠাৎ তাদের শো-রুম বন্ধ করে দেয়া কতটা যৌক্তিক বলে প্রশ্ন তোলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়, একটি স্বর্ণের দোকানে যে পরিমাণ স্বর্ণ মজুদ থাকে তার একটি অংশ ক্রেতাদের, যা নতুন স্বর্ণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্রিম হিসেবে গচ্ছিত থাকে।
আপন জুয়েলার্সের সাথে জড়িত নির্দোষ কর্মকর্তা-কর্মচারি, স্বর্ণ শিল্পী ও ক্রেতাদের কথা বিবেচনায় শো-রুমগুলো দ্রুত খুলে দেয়া ও এ ধরণের হয়রানিমূলক অভিযান বন্ধের জোর দাবি জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
আপন জুয়েলার্সের মালিক ও তার ছেলের ডানি মার্নির খোঁজে রোববার আপন জুয়েলার্সের গুলশান, উত্তরা, মৌচাক ও সীমান্ত স্কয়ার শোরুমে অভিযান চালিয়ে ২৮৬ কেজি স্বর্ণ ও ৬১ গ্রাম ডায়মন্ড জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা।
এরপর আজ বিকেল তিনটার সময় গুলশান ২ নম্বরের সুবাস্তু ইমাম টাওয়ারে অবস্থিত আপন জুয়েলার্সের শাখায় অভিযান চালিয়ে শোরুমটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।








