ডাম্বুলা, শ্রীলংকা থেকে: ব্যাটে-বলে দারুণ আধিপত্য দেখিয়ে প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলংকাকে ৯০ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি, সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমানের দারুণ ফিফটিতে শ্রীলংকার সামনে ৩২৫ রানের টার্গেট দেয় টাইগাররা। জবাবে ২৩৪ রানে আটকে গেছে লংকানরা।
এদিন শুরুতেই তিন ফরম্যাটে ১০ হাজার রান সংগ্রহের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তামিম। শ্রীলংকার বিপক্ষে বাংলাদেশের পক্ষে সেরা ইনিংস খেলার রেকর্ড গড়ে করেছেন ১২৭ রান। এছাড়া তামিম-সাকিবের চতুর্থ উইকেটে ১৪৪ রান, শ্রীলংকার বিপক্ষে বাংলাদেশের ওডিআইতে সেরা পার্টনারশিপ।
উত্তাল মার্চের ঐতিহাসিকক্ষণে দেশবাসীকে টাইগারদের সেরা-উপহার এই জয়। শ্রীলংকার মাটিতে শ্রীলংকাকে প্রথম ম্যাচে একরকম উড়িয়ে দিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ শূন্যতে এগিয়ে যাওয়া।
সোয়া তিনশোর টার্গেটে ব্যাট করতে নামা শ্রীলংকা প্রথম ওভারেই খেয়েছে জোর ধাক্কা। ইনিংসের তৃতীয় বলেই ওপেনার গুনাথিলাকা’কে ফিরিয়ে আক্রমণের সূচনা কাপ্তান মাশরাফির।
এরপর কুশাল মেন্ডিসকে নিয়ে ওডিআই ক্রিকেটের প্রথম উইকেট শিকার মেহেদী হাসান মিরাজের।
লংকান অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে চালকের আসনে বসিয়ে দেন পেসার তাসকিন। ৩১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে নিজেদের উঠোনে রীতিমতো ধুঁকতে থাকে ৯৬’র ওয়ানডে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা।
মাঝে চান্দিমালের সঙ্গে আসিলা গুনারত্নের ৫৬ রানের পার্টনারশিপ লংকানদের আশা জাগিয়েছিল। তবে সেই আশার প্রদীপ নিভে গেছে গুনারত্নের ২৪ রানে বিদায়ে। চান্দিমাল যতক্ষণ ছিলেন ততক্ষণ অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় ছিলেন লংকান সমর্থকরা। ৫৯ রান করে চান্দিমাল মিরাজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হতেই প্রায় নিশ্চিত হয় টাইগারদের জয়।
এর আগের গল্পটা শুধুই টাইগারদের ব্যাটিং উৎসবের। শুরুতেই তামিমের রেকর্ড। স্কোর বোর্ডকে সচল করেই প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মাইলফলকে তামিম ইকবাল।
এরপর তামিম-সাব্বিরের ৯০ রানের সুপার পার্টনারশিপ। হাফ-সেঞ্চুরি প্রথম পেয়েছেন সাব্বির ৪৮ বলে ৫৪, নিজের ক্যারিয়ারের চতুর্থ।
টাইগার ইনিংসটা জমেছে তামিম ও সাকিবের ১৪৪ রানের পার্টনারশিপে। শ্রীলংকার বিপক্ষে ওডিআই’তে যেকোনো উইকেটে সেরা পার্টনারশিপ। অষ্টম ওয়ানডে সেঞ্চুরির ল্যান্ড মার্কে তামিম।
অলরাউন্ডার সাকিবের ৩৩ নম্বর ওডিআই ফিফটি ৬১ বলে এক বাউন্ডারিতে। এরপরই তার ব্যাটে বৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব। সবমিলিয়ে ৭১ বলে চার বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৭২ রান।
ডাম্বুলায় সেরা ওয়ানডে ইনিংসের রেকর্ড গড়ে তামিমের ১৫ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ১২৭ রান। পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৩২৪ রান, আর তাতেই গড়ে ওঠে লাল-সবুজের ম্যাচ জয়ের ভিত। ৯০ রানের জয় নিয়ে সিরিজ জয়ের পথটা এগিয়ে রাখল মাশরাফির দল।







