মনন রেজা নীড়। বাংলাদেশের দাবায় এক সম্ভাবনার নাম। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বুদাপেস্টে মাত্র ১৪ বছর ৩ মাস বয়সে হন দেশের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক মাস্টার বা আইএম। ২০২৪ সালে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। পরের লক্ষ্য গ্র্যান্ডমাস্টার বা জিএম খেতাব। তবে সম্ভাবনা দেখিয়েও দেশে টুর্নামেন্টের স্বল্পতা-আর্থিক অনিশ্চয়তাসহ নানা কারণে জিএম খেতাবের পথটা মসৃণ হচ্ছে না তার।
চ্যানেল আইকে সাক্ষাতকারে বললেন, ‘বাংলাদেশে আমার বর্তমান রেটিং ২ এবং জাতীয় র্যাঙ্কিং ৪। জিএম হওয়ার জন্য আমার আরও ৩টি নর্ম লাগবে এবং ২৫০০ রেটিং প্রয়োজন হবে। কতদিন লাগবে তা ঠিক করে বলতে পারব না। তবে যদি নিয়মিত টুর্নামেন্ট খেলতে পারি, তাহলে অবশ্যই চেষ্টা করব। যেমন এবার বেশ কাছাকাছি ছিলাম। শেষ রাউন্ডটা জিততে পারতাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত জিততে পারিনি। যদি নিয়মিত এভাবে খেলতে পারি, সুযোগ আসতেই থাকবে।’
বাংলাদেশে গ্র্যান্ডমাস্টার আছেন ৫ জন। ২০০৮ সালের পর দেশ কোন গ্র্যান্ডমাস্টার পায়নি। কারণ হিসেবে মনন নিজের উদাহরণ টেনে বললেন, ‘আমি একটি টুর্নামেন্ট খেলতে যাব, কিন্তু খেলতে পারব কিনা সেবিষয়ে নিশ্চিত নই। আমার মনে হয়, আমি খেলতে পারব কিনা, তা এক সপ্তাহের মধ্যে আমাকে নিশ্চিত হতে হয়।’
‘এখন অন্তত আমরা সরকারের কাছ থেকে মাসিক বেতন পাই। খেলোয়াড়দের জন্য পদক্ষেপ নেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ। তারপরও টুর্নামেন্ট খেলতে আমাদের অনেক খরচ হয়। উদাহরণস্বরূপ, শেষ সেখানে গিয়েছিলাম, আমাকে পকেট থেকে অনেক টাকা দিতে হয়েছিল। মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ১০ লাখ। ভাগ্যক্রমে, টিকিটটা পেয়েছিলাম। বাকিটা আমাকে নিজের পকেট থেকে দিতে হয়েছিল। এটা আমার নিজের খরচ ছিল। আমি হয়তো দু-একবার পারব, কিন্তু সবসময় নয়।’
ফেডারেশনের রয়েছে আর্থিক সীমাবদ্ধতা। ফেডারেশন টুর্নামেন্ট নয় বলে সাহায্যের কথা বলেও পিছিয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে সরকারও এগিয়ে না আসায় সমস্ত খরচ বহন করতে হয় মননকেই। বললেন, ‘এটাই আমাদের খেলোয়াড়দের সমস্যা। বিশেষ করে দাবাড়ুদের, আমরা নিশ্চিত নই যে খেলতে পারব কিনা। ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো, তারা দুই-তিনমাস ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর আমরা খেলার আগে ভাবি যে খেলতে পারব কিনা।’
দেশে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম টুর্নামেন্ট ভেন্যু। মনন বললেন, ‘আমার মনে হয় এই ভেন্যুটা অবশ্যই একটা ভালো ব্যাপার। কিন্তু সরকার যদি পুরো ভেন্যুটা বদলে দেয়, যদি আমাদের একটা নতুন পরিবেশ দেয়, তাহলে খুব ভালো হবে। কারণ যদি যান, ফেডারেশনের বাইরের বিল্ডিংটা খুব খারাপ। ওটা দেখলে অবাক হতে হয় যে কী হবে। অন্য খেলোয়াড়রা এলে তাদের প্রথম ধারণাই খারাপ হয়ে যাবে। ফলে তারা যখন খেলতে আসবে, পরেরবার আর আসতে চাইবে না।’
‘এই ব্যাপারটা কোনভাবে যদি করা যেত, তাহলে আমাদের জন্য খুব ভালো হতো। যেমন আমরা এখন বিদেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলি, আমরা ফ্লাইট ভাড়া, থাকা-খাওয়া ইত্যাদিতে অনেক টাকা খরচ করি। তাই আমাদের যদি এরকম একটা ভালো ভেন্যু থাকত, তাহলে আমরা দেশেই টুর্নামেন্ট করতে পারতাম।’
দাবা ফেডারেশনের নতুন কমিটি দাবাড়ুদের নানাবিধ সমস্যা সমাধানে কাজ করবে বলেও বিশ্বাস মননের।









