জাতীয় দলের পর আইপিএল অভিষেকেও আলো ছড়ালেন আফগানিস্তানের তরুণ স্পিনার মুজিব-উর-রহমান। আইপিএল ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে খেলতে নেমে রেকর্ড গড়া ম্যাচে ২ উইকেট নেন তিনি। আফগান তারকার আলো ছড়ানো ম্যাচে জয় পেয়েছে তার দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবও। দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে প্রীতি জিনতার দল।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৬৬ রান করে দিল্লি। জবাবে ৭ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় পাঞ্জাব।
দিল্লির ১৬৬ রান তাড়া করতে নেমে ঝড় তোলেন ওপেনার লোকেশ রাহুল। ম্যাচের বয়স তিন ওভারের আগেই ৫০ পেরিয়ে যায় পাঞ্জাব। ২.৫ ওভারেই ফিফটি পায় দলটি। আর আইপিএলের দ্রুততম ফিফটি করেন রাহুল। দলীয় ৫৮ রানে যখন আরেক ওপেনার আগরেওয়াল আউট হন, তখন তার নামের পাশে ৭ রান! আর মাত্র ১৪ বলে ৫১ রানে পৌঁছে যান রাহুল।
রাহুলের ইনিংসের আগে আইপিএলে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড ছিল দুজনের। ২০১৪ সালে ইউসুফ পাঠান ও ২০১৭ সালে সুনীল নারিন ১৫ বলে ফিফটি করেছিলেন।
এদিন একটা বিশ্বরেকর্ডও হয়ে গেছে রাহুলের। তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলেই ফিফটি ছুঁয়েছেন রাহুল। টি-টুয়েন্টিতে, হোক সেটা আন্তর্জাতিক কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজি, কোনো ব্যাটসম্যান আগে প্রথম ৩ ওভারে পঞ্চাশ পেরোতে পারেননি।
ফিফটির এক বল পরেই আউট হয়ে যান রাহুল। ১৬ বলে ৫১ রানের ইনিংসে ৬ চার ছাড়া ৪টি ছক্কা ছিল। বাকিটা অবশ্য দলের পরের ব্যাটসম্যানরা ঠিকভাবেই সামলেছেন। ৩৩ বলে ৫০ রান তুলে নায়ার রানরেট ধরে রাখেন। ডেভিড মিলার (২৪*) ও মার্কাস স্টয়নিস (২২*) ৭ বল থাকতেই জয় এনে দেন।
এর আগে মাঠে নেমেই রেকর্ড গড়ে ফেলেন আফগানিস্তানের মুজিব-উর-রহমান। ক্রিস গেইলের বদলে এই অফস্পিনারকে একাদশে রেখে নামে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। তাতেই সবচেয়ে কম বয়সে আইপিএল খেলার রেকর্ড করে ফেলেন আফগান স্পিনার। ১৭ বছর ১১ দিন বয়সে আইপিএল অভিষেক হয়ে গেল এই রহস্য স্পিনারের।
এমন উপলক্ষ রাঙাতে খুব একটা সময়ও নেননি মুজিব। নিজের তৃতীয় বলেই এলবিডব্লু করে দেন কলিন মুনরোকে। পরে ঋষভ পান্টকেও ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। দুটি আউটই ছিল দুই রকমের। মুনরো মুজিবের ক্যারম বল খেলতে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন। আর পান্ট আউট হয়েছেন গুগলি বুঝতে না পেরে।
১৭ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল মুজিবের। আর আইপিএলে অভিষেকের রেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল ১৭ বছর ১৭৭ দিনের। রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবির পর তৃতীয় আফগান হিসেবে আইপিএলে রং ছড়ালেন মুজিব।
মুজিবের সঙ্গে মোহিত শর্মা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রানের গতি খুব বেশি বাড়াতে পারেনি দিল্লি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করে এবছর কলকাতা ছেড়ে দিল্লির দায়িত্ব নেয়া গৌতম গম্ভীর। এছাড়া ঋষভ পান্ট ২৮ ও শেষদিকে ক্রিস মরিস ২৭ রান করেন।










