বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদেরকে আমাদের পথ বেছে নিতে হবে। আন্দোলন বলে-কয়ে আসবে না। আন্দোলন তার প্রয়োজনে গতি পাবে।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবীতে বাংলাদেশ প্রভাষক সমিতি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, কিসের আইনী লড়াই? নির্বাচনী সকল স্পেস বন্ধ করার জন্যই তে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করা হয়েছে। এটি একটি নীল নকশা। সবাই সেই নীল নকশায় জড়িত। তাই আইনী লড়াই দিয়ে কোনো কাজ হবে না।
তিনি বলেন, পুলিশ, র্যাব, সরকারি-বেসরকারি সন্ত্রাসী সবাই এই নীল নকশার অংশ, নির্বাচন কমিশনও। এই নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমি আশা করি না। এতে দুদক আর বিচার বিভাগও এর নীল নকশার অংশ। সুতরাং এটাকে নির্বাচন বললে ভুল হবে। আমি নির্বাচন বলে কিছু দেখছি না। নির্বাচনে তাদের একটি দ্বিমুখী আচরণ আছে। প্রথমত দখল করে জিততে হবে। আর যেখানে দখল সম্ভব নয়, সেখানে বন্ধ করে দিতে হবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, স্বৈরাচারেরা বুঝতে পারছে যে নির্বাচব না দিয়ে যতো বেশি ক্ষমতায় থাকা যায়, তার চেয়ে বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা যায় নির্বাচন দিয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালে বুঝতে পারবেন, প্রায় সব নির্বাচন হচ্ছে জনগণকে বাইরে রেখে। আমাদের স্বৈরাচার নির্বাচনের মাধ্যমে কিভাবে ক্ষমতায় থাকতে হয় সেটা প্রমাণ করছে। নির্বাচনে ভোট হচ্ছে। কিন্তু ভোট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনগণ। সারা বিশ্বে এটা চলছে। স্বৈরাচারের পথে যেতে তাদেরকে কিছু মিথ্যা তথ্য দিতে হয়। মিথ্যাচার তাদের একটি কৌশল। যেমন স্যাটেলাইটের কথা বলছে। কতো বড় একটি মিথ্যাচার। স্যাটেলাইট একটি প্রাইভেট কোম্পানিও পাঠাতে পারে। এটা কত বড় মিথ্যাচার। যে ধরনের তারা পাবলিসিটি চালাচ্ছে!
একদিকে তারা মিথ্যাচারের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, অন্যদিকে লুঠপাট করছে। তিনগুণ বেশি অর্থ দিয়ে স্যাটেলাইট কেন উৎক্ষেপন করা হয়েছে, তার অনুসন্ধান করতে হবে।
তার মতে, মূলত এধরনের সরকার মিথ্যাচার দিয়ে টিকে থাকে। ৬.৭% শতাংশ নাকি প্রবৃদ্ধি। স্বৈরাচারী সরকার যেসব দেশে আছে তাদের পরিসংখ্যান প্রশ্নবিদ্ধ। এই পরিসংখ্যাব প্রশ্নবিদ্ধ। ওয়াল্ড ব্যাংক বলছে ৫.৭%। আর তারা বলছে ৬.৭%। পুরোপুরি মিথ্যাচার। মূলত এদের প্রত্যেক সিদ্ধান্ত, তথ্য মিথ্যাচারে ভরা। এটা বিশ্বাসের কিছু নেই। এটি তাদের টিকে থাকার কৌশল। টিকে থাকার জন্য তারা আরেকটি কৌশল নেয়, সেটি হলো মেগা প্রজেক্ট। এই প্রজেক্ট আগামী দিনের প্রজন্মকে অনেক বড় ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এদের প্রত্যেকটি কথা অনুসন্ধান করতে হবে। তাদের ধরতে হলে সব কথা অনুসন্ধান করে জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।









