অপহরণের ৪৮ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও এখনও খোঁজ মেলেনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়ের। পুলিশ জানিয়েছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম তাকে উদ্ধারে কাজ করছে। এছাড়াও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা সিসি টিভির ফুটেজ যাচাই বাছাই করছে।
গত রোববার বিকালে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান থেকে বাংলাদেশে বেলারুশের অনারারি কনসাল ও আরএমএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য পরিচয়ে কয়েকজন তুলে নিয়ে যায়।
আরএমএম গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কার্তিক দাস জানিয়েছেন এখন পর্যন্ত কেউ কোনো মুক্তিপণ দাবি করেনি। রোববার বিকেলে হাজারীবাগে একটা মিটিংয়ে স্যারের যাওয়ার কথা ছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকটি টিম অনিরুদ্ধ রায়কে উদ্ধারে ব্যস্ত সময় পার করছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন: অপহৃতকে উদ্ধারে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কী কারণে তাকে অপহরণ করা হয়েছে এবং এই অপহরণের পেছনে কারা জড়িত তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, অনিরুদ্ধ কুমারের সঙ্গে ব্যবসায়িক পার্টনার রয়েছে, ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কারো কারো সঙ্গে দ্বন্দ্বও রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো পক্ষ অনিরুদ্ধ কুমার রায়কে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্তকাজ চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে কাজ করছি। এছাড়াও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি, তদন্ত চলছে।’
অপহরণের পরপরই রোববার বিকেলে গুলশান থানায় জিডি করেছেন অনিরুদ্ধ রায়ের ভাগ্নে কল্লোল হাজরা। জিডি নম্বর-১৭৭৩।
জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে, রোববার বিকেলে গুলশান ১ নম্বরের পাশে ইউনিয়ন ব্যাংকের সামনে থেকে ডিবি পরিচয়ে অনিরুদ্ধ রায়কে তুলে নেওয়া হয়। এসময় তার গাড়িচালকও সঙ্গে ছিলেন। তবে গাড়িচালককে অপহরণকারীরা রেখে যায়। এরপর গাড়িচালক বিষয়টি বাসায় জানালে তারা গুলশান থানায় অবহিত করেন।
গুলশানে বসবাস করা অনিরুদ্ধের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে। অনিরুদ্ধ রায় সাতবার গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্ব (সিআইপি) হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি পেয়েছেন।









