সাভারের ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুদকে সম্পদের হিসাব দাখিল না করায় দায়ের করা একটি মামলায় এ দণ্ড। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর বিচারক ইমরুল কায়েস রায় ঘোষণা করেন। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আট তলা রানা প্লাজা ভেঙে নিহত হন এক হাজার ১৩৫ জন, আহত হন আরও হাজারখানেক শ্রমিক, যারা ওই ভবনের পাঁচটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বিপুল সংখ্যক এই হতাহতের ঘটনায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা বিচারাধীন আছে। এর মধ্যে রানা প্লাজা ধসের ঘটনার দুই মামলা এখনো বিচারের প্রাথমিক পর্যায়ে। এসব মামলার মধ্যে রয়েছে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে পুলিশের মামলা, রাজউকের করা ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন এবং নিহত একজন পোশাক শ্রমিকের স্ত্রীর দায়ের করা খুনের মামলা। ঘটনার ৪ বছর পরে শুধু অন্য একটি মামলায় ওই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত রানার ৩ বছরের সাজা হওয়াতে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে আমাদের আশা, আসল মামলায় ঘটনার গুরুত্ব ও ক্ষয়ক্ষতির বিচারে রানাসহ অন্য আসামীদের কঠোর সাজা হবে এবং তা সময়সাপেক্ষ। ঘটনার পরপরই ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালীদের সহযোগী হিসেবে সোহেল রানাকে গ্রেফতার হওয়া নিয়ে যেমন সংশয় ছিল, তেমনি সাজা হওয়া নিয়েও নানা সংশয় ছিল ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে। আইন তার নিজ ধারায় চলে হাজারো শ্রমিকের রক্তের দায় শোধ করবে বলে আমাদের আশাবাদ। সেইসঙ্গে দেশের পোশাকখাতের সংশ্লিষ্টরা এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মনোযোগী হবেন, এই আমাদের প্রত্যাশা।









