সাকিব আল হাসানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উইকেট নিয়েছেন। তারপরও কখনো তারকাখ্যাতি পাননি তাইজুল ইসলাম। আড়াল হয়ে থাকতে হয়েছে। রঙ্গনা হেরাথ যেমন ক্যারিয়ারের সুদীর্ঘ সময় মুত্তিয়া মুরালিধরণের ছায়ায় ঢাকা পড়ে থেকেছেন, তেমনি সাকিবের কারণে প্রচারের আলো খুঁজে নেয়নি তাইজুলকে। তাই বলে আক্ষেপ নেই তারকা স্পিনারের। বাস্তবতা মেনে মানিয়ে নিয়েছেন নিজেকে।
সাকিব কোনো ম্যাচে না খেললেই প্রশ্ন উঠত, কতটা মিস করবেন। অথচ কম্বিনেশনের কারণে ফর্মে থাকা তাইজুলকে অনেক সময়ই থাকতে হয়েছে একাদশের বাইরে। তাতে কোনো প্রশ্নও ওঠেনি। আলোচনার বিষয়বস্তু হয়নি।
সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথমদিনের খেলা শেষে ৫ উইকেট পাওয়া তাইজুল আসেন সংবাদ সম্মেলনে। ব্রাত্য থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাংলাদেশের বাস্তবতা তুলে ধরেন ৩২ বর্ষী স্পিনার।
‘সত্যি কথা বলতে কী, আমাদের দেশে দেখবেন অনেককিছুই মুখে মুখে হয় আরকি। এই বিষয়টা হল যে, অনেকে আছে খারাপ করলে অনেক সময় ট্রল হতে হতে স্টার হয়ে গেছে, আবার অনেকে ভালো করেও স্টার হতে পারে না। এরকম অনেক হয়েছে। আমি এগুলো মেনে নিয়েছি। মেনে নেয়া ছাড়া উপায়ও নেই।’
বাদ পড়ার পেছনে অন্যকোনো কারণ দেখেন না তাইজুল। জানালেন কম্বিনেশনের কারণেই তাকে বাইরে থাকতে হয়েছে। যেখানে তার প্রয়োজন ছিল সেখানে সুযোগ পেয়েছেন বললেন।
সাকিবের অনুপস্থিতিতে আবারও বাংলাদেশের বোলিংয়ের হাল ধরেছেন তাইজুল। প্রোটিয়াদের ৬ উইকেটের ৫টিই নিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার। সাকিবের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি বোলার হিসেবে ২০০ উইকেট দখলের মাইলফলকে নামা লিখিয়েছেন।
বললেন, ‘বিশ্বের অনেকেই দুইশ কিংবা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় হয়ত আমি দুই জনের মধ্যে আছি। ভালো লাগছে তবে এটা প্রাউডের বিষয় না।’
সময়টা এখন তাইজুলের। মুরালির বিদায়ের পর টেস্টে উইকেটের ফুল ফোটাতে থাকেন হেরাথ। তাইজুলও হয়ত সেদিকে চোখ রাখবেন।








