চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হ্যাম্পশায়ারে ট্রেমলেটদের তিন পুরুষ

বিশ্বকাপ দিনলিপি-১০

সাউদাম্পটন থেকে: টিম ট্রেমলেট খেলোয়াড়ি জীবনের পুরোটাই কাটিয়েছেন হ্যাম্পশায়ার কাউন্টিতে। খেলেছেন দুইশর বেশি ফার্স্ট ক্লাস ও লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে স্থানীয় দলে তার বেশ কদর ছিল। দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে এ ডানহাতি পেসার নিয়েছিলেন ৭৫ উইকেট। ব্যাট হাতে করেছিলেন ৩০ গড়ে ৪৫০ রান। তবুও ডাক আসেনি ইংল্যান্ড দলে।

দেশের হয়ে খেলতে না পারার আক্ষেপ অবশ্য নেই টিম ট্রেমলেটের। বাবা মরিস ট্রেমলেট ও ছেলে ক্রিস ট্রেমলেট টেস্ট খেলেছেন। সেটির মাঝেই সান্ত্বনা খুঁজে নেন ৬২ বছর বয়সী ভদ্রলোক। তিনিই একমাত্র ইংলিশ ক্রিকেটার যার বাবা ও ছেলে পা রাখতে পেরেছেন টেস্টের অভিজাত আঙিনায়।

বিজ্ঞাপন

টিম ট্রেমলেট হ্যাম্পশায়ার বোলের পরিচালক। বিশ্বকাপে এই ভেন্যুর অপারেশান্স ম্যানেজার হিসেবেও কাজ করছেন। হ্যাম্পশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাওয়া মাত্রই সাদরে খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুমের পাশের লবিতে নিয়ে গেলেন। দেখাতে শুরু করলেন ছবির গ্যালারি। বলতে লাগলেন সংগ্রহশালায় থাকা একেকটি ছবির পেছনের গল্প।

টিম ট্রেমলেট

‘তোমাদের দেশের সাবেক কোচ গর্ডন গ্রিনিজ ও বর্তমান ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি, ওভারসিস খেলোয়াড় হিসেবে এখানে খুব জনপ্রিয় ছিল। এই দেখ তাদের ছবি।’ টিম ট্রেমলেট বলে চলেন।

একটা ছবির সামনে গিয়ে কিছুক্ষণ থামলেন টিম, ‘ছবিতে যাকে দেখতে পাচ্ছ, সে আমার ছেলে ক্রিস ট্রেমলেট। ২০১১ সালে জুনে এই মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছিল। ড্র হওয়া সেই টেস্টে ম্যাচসেরা হয়েছিল ক্রিস। পিঠের চোটের সঙ্গে লড়াই করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছিল। তাই ক্যারিয়ারটা দীর্ঘ হয়নি।’

বাবার মতো ক্রিস ট্রেমলেটও খেলেছেন হ্যাম্পশায়ারে। ২০১৫ সালে ব্যাট-প্যাড তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ১২ টেস্ট, ১৫ ওয়ানডে ও একটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচেই থেমে যায় সম্ভাবনার ক্যারিয়ার।

বিজ্ঞাপন

হ্যাম্পশায়ারে গর্ডন গ্রিনিজের সেইসব দিন (ডানে)

ক্রিস ট্রেমলেটের দাদা মরিস ট্রেমলেটের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আরও ছোট। ১৯৪৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের একটি টেস্ট সিরিজ খেলেই বাদ পড়েন দল থেকে। আর ফেরা হয়নি ইংল্যান্ড দলে। সাউদাম্পটনে ১৯৮৪ সালে ৬১ বছর বয়সে মারা যান তিনি।

মরিসের জন্ম ম্যানচেস্টারে হলেও পরিবার নিয়ে একসময় পাড়ি জমান সাউদাম্পটনে। সময়ের ধারাপাতে তিন প্রজন্মই হয়ে ওঠেন হ্যাম্পশায়ারের ক্রিকেটার।

টিম ট্রেমলেট যেখানকার দায়িত্বে সেই রোজ বোলে কখনও খেলা হয়নি তার। কেবল ছেলেই খেলেছেন হ্যাম্পশায়ারের নতুন এই ভেন্যুতে। নর্দার্ন রোডের ছোট্ট একটি মাঠে হ্যাম্পশায়ার যাত্রা শুরু করে ১৮৬৩ সালে। ২০০১ সালে নতুন ভেন্যুটি হয় কাউন্টি ক্লাবটির ঠিকানা।

২০১১তে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচসেরা ক্রিস (বাঁয়ের ছবিতে)

এই ভেন্যুতে খেলা হ্যাম্পশয়ারের সবচেয়ে বড় তারকা শেন ওয়ার্ন। লেগস্পিন কিংবদন্তির নামে আছে আধুনিক এ স্টেডিয়ামটির একটি গ্যালারি। ওয়ার্ন ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধিত্ব করেছেন ক্লাবটির হয়ে। শেষ চার বছর দিয়েছেন নেতৃত্বও।

টিম ট্রেমলেট জানান, হ্যাম্পশায়ারে ওয়ার্নের অন্তর্ভুক্তি এখানকার ক্রিকেটকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে। পরে এখানে খেলে গেছেন মাইকেল ক্লার্ক, ম্যাথু হেইডেন, শেন বন্ডের মতো তারকা ক্রিকেটাররা।

পুরনো মাঠে বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় তারকা ছিলেন ম্যালকম মার্শাল, অ্যান্ডি রবার্টস, গর্ডন গ্রিনিজ, ব্যারি রিচার্ডস। ২০০০ সাল পরবর্তী সময়ে ভেন্যু বদলালেও সোনালী অতীতের সবটাই সংরক্ষিত আছে এখানকার গ্যালারিতে। আর বংশ পরম্পরায় ট্রেমলেট পরিবার এভাবেই হয়ত আগুন্তকের কাছে নিজেদের গল্প বলে চলবেন। আদতে বলা হয়ে যাবে হ্যাম্পশায়ারের ক্রিকেট ইতিহাসও।

Bellow Post-Green View