চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘সাম্প্রদায়িক’ আচরণের তীব্র সমালোচনায় অমর্ত্য সেন

ভারতে বর্তমান সাম্প্রদায়িক আচার-আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।

তিনি বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতাকে প্রত্যাখ্যান না করলে কেউ রবীন্দ্রনাথের উত্তরাধিকারী হবেন না। বাঙালি অতীতে এর জন্য অনেক ক্ষতির শিকার হয়েছে। তাই এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এ অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, রাজনীতিক দলগুলোর স্বতন্ত্র লক্ষ্য ও আদর্শ ধারণের পক্ষে উপযুক্ত কারণ রয়েছে। তবে সাম্প্রদায়িকতাকে প্রত্যাখ্যান করা না গেলে আমরা ঠাকুর এবং নেতাজি (নেতাজি শুভাষ বসু) এর উত্তরাধিকারী হবো না।

পশ্চিমবঙ্গে বাম ও অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সাম্প্রদায়িকতার কুরুচি থেকে রাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার দিকে গুরুত্ব দেন অমর্ত্য সেন।

তার মতে, প্রত্যেক দলের স্বতন্ত্র লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকতেই পারে। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতা প্রত্যাখ্যানের জায়গা থেকে সবাইকে একমত হয়ে ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলা অসাম্প্রদায়িক। এটাকে অসাম্প্রদায়িক রাখার পক্ষে সবাইকে এক হতে হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দ, কাজী নজরুল ইসলাম সকলেই বাঙালি সংস্কৃতির পক্ষে এক ছিলেন। তারা এক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অন্য সম্প্রদায়ের অবস্থানকে সব সময় প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই ধারা বর্তমানেও অব্যাহত রাখতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ভারতে সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে বক্তব্য রাখার পর ক্ষমতাসীন দল বিজেপি অমর্ত্য সেনের পেছনে লেগেছে।

ধর্মান্তরকরণ বিরোধী যে আইন বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বিদ্যমান, তা অসাংবিধানিক মন্তব্য করে সম্প্রতি অমর্ত্য সেন বলেছেন, এটা খুবই চিন্তার বিষয়। জীবনযাপনের অধিকার তো মৌলিক অধিকার হিসেব স্বীকৃত। মানুষই নিজের ধর্ম বদলে অন্য ধর্মগ্রহণ করতে পারেন। সেটা সংবিধান স্বীকৃত। তাই এই আইন অসাংবিধানিক।’

অমর্ত্য সেনের এই বক্তব্যের পর থেকে বিজেপি তার বিরুদ্ধে কড়া বক্তব্য দিচ্ছে। এমনকি ব্যক্তিগত আঘাত করতেও ছাড়ছে না।

কয়েকদিন আগে শান্তিনিকেতনে অমর্ত্য সেনের বাড়ি ‘প্রতীচী’-র মধ্যে বিশ্বভারতীর নিজস্ব জমি ঢুকে গেছে বলে দাবি উঠেছে।

শান্তিনিকেতন কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, বিষয়টা মৌখিকভাবে অমর্ত্য সেনকে একাধিকার জানানোও হয়েছিলো। কিন্তু তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

এই বিষয়ে তিনি বলেন, প্রায় ৮০ বছর আগে বাড়ি তৈরি করা হলেও এতদিন কোনো অভিযোগ করা হয়নি। কিন্তু আচমকা সে বিষয়ে মুখ খোলা হচ্ছে।

বিশ্বভারতীর অভিযোগ তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে অমর্ত্য সেন বলেন, বিশ্বভারতীর ভাইস চ্যান্সেলর গণমাধ্যমের কাছে মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন। তার এই বেআইনি কাজে আমি বিস্মিত হয়েছি।