বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সুইফট এবং ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংককে দায়ী করেছেন সরকারি তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ডক্টর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি বলেছেন, রিজার্ভ চুরির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহেলা ছিলো, জ্ঞানের অভাবও ছিলো। তবে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই।
ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘প্রথমত বলতে চাই এই ঘটনাটার জন্য প্রাথমিক ভাবে সুইফট দায়ী। সুইফটই কম্প্রোমাইজড হয়েছে। কাজেই সুইফট যে বলছে সমস্ত দায় বাংলাদেশের, তা ঠিক নয়’।
সুইফট এর মতো ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক এর দায়ও কম নয় বলে মন্তব্য করে সাবেক এ গভর্নর বলেন, ‘১২টি পেমেন্ট ইন্সট্রাকশন (পরিশোধ নির্দেশনা) সম্পর্কে তারা ব্যাখ্যা চাইলো। কিন্তু তাদের জানা উচিৎ ছিলো যে বাংলাদেশে ততোক্ষণে শুক্রবার হয়ে গেছে এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাখ্যা দিতে পারবে না। এরমধ্যেই তারা ৫টি পেমেন্ট করে দিলো। আমরা দেখেছি ওই ৫টি পেমেন্টের চারটিই ব্যক্তির নামে।’
‘ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব পেমেন্ট ইন্সট্রাকশন (পরিশোধ নির্দেশনা) দেয় সেখানে বিশাল অঙ্কের টাকার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক নাম থাকে। ব্যক্তিখাতে যদি থাকে তবে সেগুলোর টাকার পরিমাণ থাকে ছোট। পরিশোধ নির্দেশনায় তারা সন্দেহ করলো, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যাও চাইলো। অথচ ব্যাখ্যা না পেয়েই তাহলে পেমেন্ট করে দিলো কেনো’।’
সরকার চাইলে খোয়া যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের সিংহভাগ অর্থ উদ্ধার সম্ভব, তবে তা সমন্বিতভাবে করার পরামর্শ তার।
ডক্টর ফরাসউদ্দিনের মতে,‘সমস্ত কূটনৈতিক কলাকৌশল এবং আইনি বিষয় সমন্বয় করে কৌশল ঠিক করে এটা উদ্ধার করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে। মামলা করে আমরা সমন্বিতভাবে চেষ্টা করলে বোধ হয় সিংহভাগ অর্থ ফেরত আনা যাবে’।
এখন পর্যন্ত হ্যাকিংয়ের ঘটনায় তিনটি হ্যাকার গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। সিলিকন ভ্যালি ভিত্তিক একটি প্রযুক্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহায়তা দিচ্ছে। তিনটি হ্যাকারগ্রুপের মধ্যে একটি পাকিস্তানি এবং অন্যটি উত্তর কোরিয় বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
রিজার্ভ চুরি যাওয়ার পর গভর্নর ড. আতিউরকে সরে যেতে হয়। এছাড়াও সাময়িক বরখাস্ত বা ওএসডি হতে হয় কয়েকজনকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরির ঘটনা তদন্তে ড. ফরাসউদ্দিনকে আহবায়ক করে ১৫ মার্চ ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে সরকার। প্রায় ১ মাস পর ২০ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীর কাছে অর্ন্তবর্তীকালীন রিপোর্ট জমা দিয়েছে কমিটি।
তবে রিপোর্টে কী আছে তা কখনোই গণমাধ্যমে বলেননি কমিটির কোন সদস্য। অবশ্য দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশকে এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে হেয় করার চেষ্টা চলছে বলে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন তদন্ত কমিটির আহবায়ক।










