চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

রাষ্ট্রের স্বার্থেই চতুর্থ স্তম্ভকে বাঁচাতে হবে

রোজিনা ইসলাম। এই সময়ে দেশের বড় মাপের অনুসন্ধানী সাংবাদিক। তার কাজের ধারাবাহিকতাই আজ তাকে শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে। এক বা একাধিক নয়, অসংখ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে তিনি আজকের রোজিনা ইসলাম। যাকে পাঠক এক নামে চেনেন। তবে গুটিকয়েক মানুষ তার কাজে ভীত-সন্ত্রস্ত। যারা দুর্নীতি-অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সম্পদ আর জনগণের অর্থ লুটে ব্যস্ত। যখনই তাদের মুখোশ খুলে গেছে, তখনই তারা সত্যকে ঢাকতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে।

সেই ভিন্ন কৌশলেরই সর্বশেষ নমুনা আমরা গতকাল দেখলাম। রোজিনা ইসলাম ‘দৈনিক প্রথম আলো’র হয়ে কাজ করেন। তাদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে তাকে সেখানে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ জানায়, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা হয়েছে। তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’ আজকে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দেশের কোনো সাংবাদিক আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে কি না- তা আমরা জানি না। তবে এটা বলতে পারি- হালের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট-সহ নানা আইনের কারণে স্বাধীন সাংবাদিকতা অনেকটাই বাধাগ্রস্থ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব চাপ এড়ানো সম্ভব হয় না। এরপরও যদি কোনো গণমাধ্যম বা গণমাধ্যমকর্মী রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে কোনো সাংবাদ প্রকাশ করেই ফেলে, তারপরের পরিস্থিতি খুব একটা সুখকর হয় না।

অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার তিন মূল স্তম্ভের (নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ) পর গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়। তার ভূমিকা মূলত পাহারাদারের মতো। এই পাহারাদারের কারণেই কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দুর্নীতি-অনিয়মের খবর জনগণের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানতে পারেন। এবং অনেকক্ষেত্রে সেসব বন্ধে পদক্ষেপও নেন। তাই গণমাধ্যম ও তার কর্মীরা কিছু মানুষের বিরাগভাজন হন সব সময়। নিজেদের দুর্নীতি ঢাকতে রাষ্ট্র ও সরকারের দোহাই দিয়ে সেইসব দুর্নীতিবাজরা বাঁচতে চান। আর সমস্যাটা তৈরি হয় সেখানেই।

আমরা মনে করি, রোজিনা ইসলামের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। কেননা তার কাজ রাষ্ট্র বা সরকারের বিরুদ্ধে নয়। গুটিকয়েক অসৎ ব্যক্তির অনিয়মের বিরুদ্ধে। নিজের স্বার্থে বা লাভের জন্য তিনি এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করেননি। করেছেন মানুষের কল্যাণে।

তাই আমরা চাই, এই ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করা হোক। তাদের শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি রোজিনা ইসলামকে রাষ্ট্রের স্বার্থেই দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করা হোক। না হলে ভুল বার্তায় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে রাষ্ট্রেরই।