চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ভ্যাকসিন কিনতে ৫ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকার প্রস্তাব অনুমোদন

ভারত থেকে দ্রুতই ভ্যাকসিন আমদানি করা যাবে: স্বাস্থ্য সচিব

৫ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কেনা, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে এ তথ্য পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

সভায় করোনা ভ্যাকসিন প্রকল্প ছাড়াও আরো ৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৯ হাজার ৫৬৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৫ হাজার ৭০১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ২০২০ সালের এপ্রিলে অনুমোদন দেয়া, ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ প্রকল্পে সংশোধনী এনে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

করোনা সংক্রমণের শুরুতে মহামারী প্রতিরোধে যে প্রকল্প নেয়া হয়, সেটিকেই সংশোধন করে ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্প অনুমোদন করে একনেক।

গত বছর অনুমোদন দেয়া প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিলো ১ হাজার ১২৭ কোটি ৫১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। সংশোধন করে ৫ হাজার ৬৫৯ কোটি ৭ লাখ ১৯ হাজার টাকা বাড়িয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৬ হাজার ৭৮৬ কোটি ৫৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা।

তবে নতুন করে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়নি, আগের অনুমোদিত সময় ২০২৩ সালের জুনেই শেষ হবে প্রকল্পটি।

প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ঋণের এই অর্থে, করোনা ভ্যাকসিন কেনার সঙ্গে সংরক্ষণ ও বিতরণ করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন প্রদানের অনুমোদিত নীতিমালা সর্বসাধারণের বোধগম্যভাবে সারসংক্ষেপ আকারে প্রণয়ন এবং ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়ার একটি সহজবোধ্য ফ্লো-চার্ট তৈরি করতে হবে। প্রতিটা উপজেলায় ভ্যাকসিন দেয়ার বিষয়ে প্রচারের জন্য ব্যানার, মাইকিং ও প্রকাশনা খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখতে হবে।

এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য একটি করে মোট দুটি মোবাইল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ভ্যানের সংস্থান রাখতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দ্বৈততা পরিহারপূর্বক গঠিত ১০ শয্যার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট এবং ১০টি জেলায় মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করতে হবে বলে জানান তিনি।

সভা শেষে স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান বলেছেন, করোনা ভ্যাকসিনের ব্যাপারে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের শীর্ষ পর্যায় অবগত আছেন। আশা করি দ্রুতই ভ্যাকসিন আমদানি করা যাবে।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন জিটুজি (দুই সরকারের মধ্যে) পর্যায়ে না বেসরকারিভাবে আসবে, সেটা কোনও বিষয় নয়।

একনেকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো

১. জেলা পর্যায়ে আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ১০৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

২. সুন্দরবন সুরক্ষা প্রকল্প। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

৩. ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগকালে অনুসন্ধান, উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং জরুরি যোগাযোগের জন্য যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প। ২ হাজার ২৭৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয় হবে এই প্রকল্পে।

৪. জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প। এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২২ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

৫. চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প। এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা।