চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

প্রথম করোনা ভাইরাস নির্ণয় করা ডাক্তারের করোনাইতেই মৃত্যু

করোনা ভাইরাস নিয়ে প্রথম সতর্কবার্তা জানানো চিকিৎসক সেই ভাইরাসেই আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা শুধু চীনে ৬৩৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্ত ৩১ হাজারের বেশি।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। দিনে দিনে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। অথচ মহামারী আকার ধারণ করার আগেই এ ভাইরাস নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিলেন চীনের উহান কেন্দ্রীয় হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ লি ওয়েনলিয়াং। চীনা কর্তৃপক্ষ শুরুতে তার মুখ বন্ধ করতে চাইলেও করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ বিস্তারের পর লি ‘বীর’ হিসেবেই প্রশংসিত হয়েছেন সর্বত্র।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবারই আসে তার মৃত্যু সংবাদ। লি যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাতে গ্লোবাল টাইমস, পিপলস ডেইলিসহ অন্যান্য স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানায়।

গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ৩৪ বছর বয়সী লিকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় মৃত ঘোষণা করা হয়। তার মৃত্যু ‘জাতীয় শোক’ বলে উল্লেখ করেছে পিপলস ডেইলি।

গত জানুয়ারির শুরুতে চীনের উহান শহরে নতুন একটি ভাইরাস ছড়ানোর খবর ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল শহর কর্তৃপক্ষ। শহরের এক চিকিৎসক যখন তার সহকর্মীদের সার্স জাতীয় নতুন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে সতর্ক করছিলেন, তখন পুলিশ এসে তাকে বলেছিল এসব কথা বন্ধ করতে।

একমাস পর সেই চিকিৎসক নিজেও করোনা নামের ওই নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। হাসপাতালের বিছানা থেকে নিজের সেই ‘মুখ বন্ধ করানো’ গল্প সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি, যার মধ্য দিয়ে তিনি রাতারাতি হয়ে উঠেছেন জনগণের হিরো।

‘সবাইকে শুভেচ্ছা, আমি লি ওয়েনলিয়াং, উহান সেন্ট্রাল হসপিটালের একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ,’ পোস্টের শুরুটা এরকম। তারপর সেখানে একে একে জানানো হয়েছে শুরুর দিকের ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে উহান কর্তৃপক্ষের ত্রুটিপূর্ণ প্রচেষ্টার হতাশাজনক ছবিই যেন ফুটে উঠেছে।

ডা. লি ডিসেম্বরেই উহান সেন্ট্রাল হসপিটালে কাজ করা শুরু করেন। ওই সময় তিনি হাসপাতালে ৭ জন রোগীকে শনাক্ত করেন যাদের মধ্যে সার্স সংক্রমণের মতো লক্ষণ রয়েছে। এই সার্স ভাইরাস ২০০৩ সালে বিশ্বজুড়ে মহামারীর সৃষ্টি করেছিল।

বিজ্ঞাপন

ধারণা করা হচ্ছিল ওই ৭ জন উহানের হুয়ানান সিফুড মার্কেট থেকে কোনোভাবে অসুস্থ হয়েছিলেন এবং পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য তাদেরকে হাসপাতালে বিচ্ছিন্ন করে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছিল।

গত ৩০ ডিসেম্বর লি একটি গ্রুপ চ্যাটে তার সহকর্মী অন্যান্য চিকিৎসকদের ওই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সতর্ক করেন এবং সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সুরক্ষা পোশাক পরতে পরামর্শ দেন।

কিন্তু ডা. লি তখনও জানতেন না যে, ওই ৭ জনের দেহে যে রোগ ধরা পড়েছে তা একেবারে নতুন একটি ভাইরাস।

এর ঠিক চারদিন পর জননিরাপত্তা ব্যুরোর কয়েকজন কর্মকর্তা তার সঙ্গে দেখা করতে এসে তাকে একটি চিঠিতে সই করতে বলেন। চিঠিতে তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মন্তব্য করে সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যাহত করা’র অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

পুলিশের বক্তব্য অনুসারে, ওই সময় লিসহ আটজনের বিরুদ্ধে ‘গুজব ছড়ানো’র অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছিল।

অবশেষে প্রমাণ হলো যে লি গুজব ছড়াচ্ছিলেন না, বরং তার প্রাথমিক আশঙ্কা আরও বড় রূপ নিয়ে সত্যি হয়েছে। সেখানে সরকারের নেয়া ব্যবস্থাই ছিল দুঃখজনক।

করোনা ভাইরাস যাতে বিশ্বজুড়ে না ছড়াতে পারে তা ঠেকাতে এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে, এমন দেশগুলোকে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রস্তুত করতে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এই অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

অন্যদিকে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে পৃথক অবস্থায় রাখা প্রমোদতরীটির আরও ৪১ যাত্রীর শরীরে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে। এদের নিয়ে প্রমোদতরীটিতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬১ জনে দাঁড়িয়েছে।

একই সাথে হংকংয়ে নোঙর করা প্রমোদতরীটির তিন জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর ৩৬শ’ যাত্রী ও ক্রুকে জাহাজেই অবস্থানের নির্দেশ দিয়ে প্রত্যেককে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।