ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ওয়াশিংটনের এ ধরনের পদক্ষেপ অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।
শনিবার (২২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঘোষণা জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর ‘বহির্দেশীয় সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। কোনো রাষ্ট্রই বিদেশি ব্যাংক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা বিমানবন্দরকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করতে বাধ্য করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, এমন পদক্ষেপ রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এর পরিণতি হবে জাতিসংঘভিত্তিক আন্তঃরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং ‘পূর্ণমাত্রার ধ্রুপদি ঔপনিবেশিকতায়’ ফিরে যাওয়ার পথ তৈরি হওয়া।
এর আগে বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ চালানোর ঘোষণা দেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব দেশের প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে লেনদেন করবে তাদের ‘বিরাট অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে।
পরদিন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতি ভেঙে দেওয়া। তিনি আরও বলেন, অন্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকতে হবে, নয়তো বিপক্ষে অবস্থান নিতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও নতুন নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে এগুলো ব্যর্থ হবে বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষ্য মতে, ইরান এর আগেও একই ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছে।
এদিকে তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ওই প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে কোনো বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার ছিল না।
তবে ইরান শনিবার কয়েকটি ইরাকি তেলবাহী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরাকের অনুরোধের পর এসব ট্যাংকারকে বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়।
ইরানি সংবাদ সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকি ট্যাংকারগুলোর চলাচলের জন্য বিশেষ অনুমতি পাওয়া ছিল ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ইরাক সফরের সময় বাগদাদের অন্যতম প্রধান অনুরোধ।









