নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে আজ থেকে রাঙ্গামাটিতে শুরু হয়েছে চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই ও ত্রিপুরাদের বৈসুক উৎসব। এই উৎসব ‘বৈসাবি’ নামে পরিচিত।
রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার ভোরে চাকমা রাজবাড়ী ঘাটে নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্যে দিয়ে এই উৎসবের সূচনা করেন।
পাহাড়ী সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ফুল ভাসাতে আসেন রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে। এদিকে গর্জনতলীতে নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা করেন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষ।
রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেন, এসব কৃষ্টি, কালচার, সংস্কৃতি চর্চা রাখার জন্য এবং যা কিছু ভালো ভালো আচার সেসব ধরে রাখার জন্য আমরা এসব আয়োজন প্রতিবছর করে আসছি। এবারও এই আয়োজন করেছি।
পাহাড়ীদের রীতি অনুযায়ী আজ ১২ এপ্রিল ফুল বিজু। আগামীকাল ১৩ এপ্রিল মূল বিজু। ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ গোজ্যাপোজ্যে দিন ও বর্ষবরণ উৎসব। আজ নদীর জলে ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা আদায়ের মধ্য দিয়েই শুরু হয় পাহাড়ের সামাজিক উৎসব।
নানান আয়োজনের মধ্যে দিয়ে আজ থেকে
বান্দরবানেও শুরু হয়েছে আদিবাসীদের ৫ দিন ব্যাপী সাংগ্রাই ও নববর্ষ উৎসব বৈসাবি।
বাংলা পঞ্জিকা
অনুযায়ী চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও ত্রিপুরাদের বৈসাবি শুরু
ফুলবিঝু ১২ এপ্রিল। ফুল বিঝুর দিনে তরুণ-তরুণীরা ভোরে বন থেকে বিঝুফুল ও অন্যান্য
বুনোফুল সংগ্রহ করে নদীতে ভাসিয়ে দেন। গৃহস্থরা বছরের সমস্ত কালিমা দূর
করে পূতপবিত্র করার জন্য তাদের ঘরের সবকিছু ধুয়ে মুছে পরিচ্ছন্ন করে তুলবেন। আর
বর্মী বর্ষ পঞ্জিকা অনুসরণকারি মারমা, ম্রো, খিয়াং, চাক
ও অন্যান্য আদিবাসিদের ফুল সাংগ্রাই হবে ১৩ এপ্রিল। তারাও হরেক রকম ফুলের সমারোহে
সাজিয়ে তুলে ঘরদোর। বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধস্নান শেষে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন
প্রকারের পিঠা তৈরির উৎসব আর সন্ধ্যা হলেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বান্দরবানের পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, এটা আদিবাসীদের একার আয়োজন না। এই আয়োজন সবার। এখানে বাঙালি আর আদিবাসী মিলেমিশে সম্প্রীতির বন্ধনকে প্রকাশ করে। আমরা সকল মানুষের মঙ্গল কামনা করি।










