চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

দেশের সফল নারীরা

একদিকে জো বাইডেনের রানিং মেট হিসেবে জোড়া রেকর্ড গড়েছেন কমলা হ্যারিস।যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী এবং কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের প্রথম নারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও মুখ্য অর্থনৈতিক কর্মকর্তা অংশুলা কান্ত। তিনি এর আগে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ারও মুখ্য অর্থনৈতিক কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে বিশ্বব্যাংকের অর্থ ও ঝুঁকি সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিস্ক, ট্রেজারি, ফান্ডিং, রেগুলেটরি ইত্যাদি ক্ষেত্রেও অংশুলার দক্ষতা রয়েছে।

শুধু অংশুলাই নয়, নিজেদের এমন দক্ষ করে গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশের নারীরাও। নিজেদের দক্ষতা আর যোগ্যতা দিয়ে দখল করছেন দেশের ব্যাংক-বীমা, সেবা, কর্পোরেটসহ প্রশাসন, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনোদন-ফ্যাশন সব অঙ্গণ। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে নারীরা তার দক্ষতার সাক্ষর রাখেন নাই।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এই মাটি থেকে ওই আকাশে সব দিকই নিজেদের যোগ্যতা আর অভিজ্ঞতা দিয়ে দখল করেছেন সফল নারীরা। এই সফলতার কাব্য শেষ হবার নয়।

বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামে, দ্বীপে অথবা বস্তিতেই উন্নয়নশীল কার্যক্রম নারীরা সংগঠিত করছে এবং নেতৃত্ব দিচ্ছে। স্কুল এবং কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনার কাজ করছেন নারীরাই।

রূপালী চৌধুরী
রূপালী চৌধুরী

এমন নারীদের তালিকায় আধুনিককালে যে কয়েকজন সফল নারীর নাম সবার আগে নিতে হবে তাদের তালিকায় উপরের দিকেই অবস্থান বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রূপালী চৌধুরী নাম। যিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-ফিকির-এরও।

নিহাদ কবির
নিহাদ কবির

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির। তিনি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির কেদারপুর টি কোম্পানি লিমিটেড এবং দৈনিক ‘সংবাদ’ পত্রিকার পরিচালক ও শেয়ার হোল্ডার। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীও।

জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রথম নারী সভাপতি হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন দৈনিক ইত্তেফাকের ফরিদা ইয়াসমিন।

আবাসসুম কায়সার নিজ যোগ্যতা এবং দক্ষতায় ট্রিপল অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ দখল করেছেন। তিনি সিটি ব্যাংক লিমিটেড, ফেয়ারহপ হাউজিং লিমিটেড (প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক), পারটেক্স এগ্রো লিঃ (প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক) এবং স্টার জিপসাম বোর্ড মিলস লিমিটেডের বোর্ডেও রয়েছেন।

হুমায়রা আজম
হুমায়রা আজম

ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) হিসেবে যোগ দিয়েছেন করেছেন হুমায়রা আজম। এর আগে তিনি ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডে চিফ রিস্ক অফিসার (সিআরও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট কমিটির প্রথম নারী সদস্য ছিলেন। এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তিনি আইআইডিএফসি ও বিডিআরএএলের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

দেশের তৈরি পোশাক খাতের অন্যতম পথিকৃৎ উদ্যোক্তা আনিসুর রহমান সিনহা। তাঁর সুযোগ্য কন্যা তানজিয়া সিনহা। ওপেক্স এন্ড সিনহা টেক্সটাইলের পাশাপাশি কেএফসির সিইও এর দায়িত্ব পালন করছেন।

১৪ বছর আগে বলতে গেলে শূন্য হাতেই শুরু করেছিলেন ফারহানা এ রহমান৷ সেদিনের সেই অচেনা গৃহিণী এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল, জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃত তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা৷ ইউওয়াই সিস্টেম্স লিমিটেড এর সিইও ফারহানা এ রহমান৷ বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তিতে সফল কয়েকটি নামের প্রথম দিকেই আসে তাঁর নাম৷ আইটি খাতে বিশেষ অবদানের জন্য দেশসেরা নারী উদ্যোক্তার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি৷ তাঁর প্রতিষ্ঠান ইউওয়াই-এর কাজ মূলত আউটর্সোসিং, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং ওয়েবসাইট তৈরি করা৷ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছে ইউওয়াই-এর তৈরি করে দেয়া ই-কমার্স ওয়েবসাইট৷ ইউরোপের ৭ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইটকে রেসপন্সিভ করার কৃতিত্বও ইউওয়াই-এর৷

মিতি সানজানা
মিতি সানজানা

ব্যারিস্টার মিতি সানজানা। শৈশবে হতে চেয়েছিলেন সংগীত শিল্পী কিন্তু বাবার অনুপ্রেরণায় আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে এখন ব্যারিস্টার। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লিগ্যাল স্টাডিজে শিক্ষকতাও করছেন। এখন নারী ও শিশুর অধিকার নিয়ে বিভিন্ন টিভি টকশোতে কথা বলেন। নারী-শিশু অধিকার নিয়ে নিয়মিত কলাম লেখেন।

নাসিমা আক্তার নিশা
নাসিমা আক্তার নিশা

নাসিমা আক্তার নিশা বর্তমানে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করছেন তিনি, বেসিসের সদস্য। বলা চলে একাই ই-ক্যাবকে সফল করে তুলেছেন নিজের সাংগঠনিক ক্ষমতা দিয়ে। মেয়েদের জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ই-কমার্স সাইট উইমেন ই কমার্স ফোরাম (উই), এখান থেকে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা দাঁড় করাতে তাদের নানাভাবে সহযোগিতা করছেন।

এছাড়াও বিভিন্ন সেক্টরে অনন্য ভূমিকা রেখে নারীদের সুনামের রিলে রেসকে গতি দিচ্ছেন রুবাবা দৌলা, সোনিয়া কবীর বশির, মনোয়ারা হাকিম আলী, পারভীন হক শিকদার, তৌহিদা সুলতানা, আমবারীনসহ আরো অনেকে।

বাংলাদেশের পাবলিক সেক্টরে নারীরা অনেক আগেই শীর্ষ আসনে আসীন হয়েছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৫০টি। বর্তমানে ৭০ জন নারী এই গঠনপ্রণালীর অধীনে কাজ করেন যখন স্থানীয় নিয়ন্ত্রক বোর্ডে নারীরা আরও ১৪,০০০ আসন ধারণ করে আছেন। সকল সরকারি চাকরির ১০% নারীদের জন্য বিশেষভাবে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। নারীরা এখন সামরিক বাহিনীতেও অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং ইউএন শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ গ্রহণ করতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়- সবখানেই নারীর জয় জয়াকার। এর বাইরেও প্রশাসনে নিজ দক্ষতা ও যোগ্যতায় স্থান করে নিয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী।

বর্তমানে সচিব ও সচিব পদমর্যাদায় সরকারে রয়েছেন ১০ জন নারী কর্মকর্তা, আর মাঠ পর্যায়ে ৬৪ জেলার মধ্যে আট জেলাই সামলাচ্ছেন নারী জেলা প্রশাসক।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ গত ৪ মার্চের তথ্যানুযায়ী, সরকারের সচিব ও সচিব পদমর্যাদার ৭৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে নারী কর্মকর্তা আট জন, ৫১১ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে নারী ৮৩ জন, ৬৩৬ জন যুগ্ম-সচিবের মধ্যে ৮১ জন নারী কর্মকতা রয়েছেন।

আর এক হাজার ৬৯৫ জন উপসচিবের মধ্যে ৩৪৯ জন নারী, এক হাজার ৫৪৯ জন সিনিয়র সহকারী সচিবের মধ্যে ৪৫৪ জন নারী এবং এক হাজার ৫২৮ জন সহকারী সচিবের মধ্যে ৪৭২ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এর বাইরেও রয়েছে ইউএনওসহ মাঠ প্রশাসনের নারী কর্মকর্তা।

সৈয়দা ফারহানা
সৈয়দা ফারহানা

নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন দেশসেরা জেলা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর-২০১৮ এর জাতীয় শিক্ষা পদকের তালিকায় এবার স্থান করে নিয়েছেন নরসিংদীর এই জেলা প্রশাসক।

আঞ্জুমান
আঞ্জুমান

ফরিদপুর ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুর রউফ মিয়ার মেয়ে আঞ্জুমান আরা নড়াইল জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন।

নাজিয়া শিরিন
নাজিয়া শিরিন

বিজ্ঞাপন

মৌলভীবাজার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। নীলফামারীর ডিসি নাজিয়া শিরিনকে মৌলভীবাজারে বদলি করা হয়েছে। তিনি বিসিএস ২০ তম ক্যাডার। তাঁর গ্রামের বাড়ী বাগেরহাটে।

সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম অ্যাড. সৈয়দ সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। তার ডাক নাম রিতা তাই পরিবারের সদস্যরা তাকে রিতা নামেই ডাকেন। এর আগে ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দিলসাদ বেগম
দিলসাদ বেগম

রাজবাড়ীতে নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দিলসাদ বেগম। তিনি ২০০৩ সালে তিনি বিসিএস ক্যাডার হিসেবে যোগদান করেন।

শাহিদা সুলতানা
শাহিদা সুলতানা

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শাহিদা সুলতানা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উপ-সচিব) শাহিদা সুলতানা গোপালগঞ্জের নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। বেগম শাহিদা সুলতানা ২১তম বিসিএস এ এডমিন ক্যাডারে যোগদান করেন। চাকরির বাইরে শাহিদা সুলতানা একজন খ্যাতিমান কবি। এ পর্যন্ত তার পাঁচটি কবিতার বই (বসন্তের ধ্রুপদি আহ্বান, মৃত্যুকে বিরহ ভেবে ভুল হয়, কলাবতি ফুল, বেড়াজাল, এক বিষন্ন রোববারে) প্রকাশিত হয়েছে।

সাবিনা ইয়াসমিন
সাবিনা ইয়াসমিন

পঞ্চগড়ের নতুন জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন। তবে পঞ্চগড়ে প্রথম নারী জেলা প্রশাসকের মধ্যে তিনিই প্রথম। এর আগে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের উপসচিব ছিলেন। প্রশাসনের উচ্চপদে চাকরির পাশাপাশি তিনি নিয়মিত সাহিত্য চর্চা করেন। কাব্য গ্রন্থ ‘ফেরাবো অঙ্কুশে’ বইয়ের জন্য তিনি মহাকবি মধুসূদন (২০১৮) পদকও পেয়েছেন। এছাড়াও উপকূল সাহিত্য পরিষদের বিশেষ সম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন পঞ্চগড়ের মেয়ে সুলতানা পারভীন। এর আগে তিনি লালমনিরহাটে জেলা প্রশাসকের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শেরপুরের নতুন জেলা প্রশাসক আনারকলি মাহবুব। এর আগে তিনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষন ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার আগে তিনি কুষ্টিয়ার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০ তম বিসিএস ক্যাডার হিসেবে প্রশাসনে যোগদান করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে ১০ জন নারী কর্মকর্তা দক্ষতার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এরমধ্যে সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জুয়েনা আজিজ।

জুয়েনা আজিজ একজন বাংলাদেশী সরকারী কর্মকর্তা যিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক (সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায়) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সহ একাধিক মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) হিসেবে রয়েছেন। বেগম সাহিন আহমেদ চৌধুরী একজন বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা যিনি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) হিসেবে ২৭ মে ২০১৯ সাল হতে ১ জুন ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
সাহিন আহমেদ চৌধুরী ১৯৮৬ সালে কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসন ক্যাডারে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং সেন্টার সহ সরকারের বিভিন্ন সেক্টরে দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে, মিজ শামীমা নার্গিস একজন বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা যিনি বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) হিসেবে ১৮ অক্টোবর ২০১৭ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। মিজ শামীমা নার্গিস ১৯৮৮ সালে সপ্তম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসন ক্যাডারে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। কর্মজীবনে তিনি সহকারী কমিশনার, অতিরিক্ত সচিব সহ ভিন্ন ভিন্ন পদেও দায়িত্ব পালন করেন।

নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন- অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন। ফাতিমা ইয়াসমিন একজন বাংলাদেশি সরকারি কর্মকর্তা যিনি ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সাল থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে ৭ আগস্ট ২০১৯ সাল থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। তিনিই অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম মহিলা সচিব।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার, দেশের প্রথম নারী প্রধান তথ্য কর্মকর্তা যিনি ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তথ্য অধিদফতরের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বেগম কামরুন নাহার বিসিএস ১৯৮৪ নিয়মিত ব্যাচের তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে তিনি গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক, ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যানসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগমঃ ভারপ্রাপ্ত সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম। এর আগে হোসনে আরা অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে আর মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৭ম ব্যাচের (১৯৮৫) একজন কর্মকর্তা। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। যশোর ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলায় মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পরিচালক, বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে উপ-পরিচালক হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন।

ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান উম্মুল হাসনা। এর আগে তিনি ২৭শে মে ২০১৯ তারিখে ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত সচিব) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ০১লা আগষ্ট ২০১৯ তারিখে সচিব পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন। সংস্কার বোর্ডে যোগদানের আগে তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খান। তিনি ২০১৮ সাল থেকে খাদ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব হিসাবে পদে রয়েছেন। ডাঃ মোসাম্মাত নাজমানারা খানুম ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (প্রশাসন ক্যাডার, অষ্টম ব্যাচ) যোগদান করেন। তিনি মাঠ প্রশাসনের সুসজ্জিত কর্মজীবনে তিনি বিস্তৃত সরকারী পদে সহকারী কমিশনার, স্থানীয় সরকারের সহকারী পরিচালক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি নওগাঁর জেলা প্রশাসক ও সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার হিসাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কাছে মাঠ প্রশাসনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমি রেক্টর (সচিব) বদরুন নেছা একজন সচিব যিনি ১ জানুয়ারি ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে তিনি বাংলাদেশ সরকারের সচিব হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।

বাংলাদেশে বেসরকারি খাতে পুরুষের পাশাপাশি নারীর অংশগ্রহণ থাকলেও কোম্পানির শীর্ষপদেও এখন নারীদের অবস্থান দৃশ্যমান।

হুমায়রা আজম ১৯৯১ সালে একটি বিদেশি ব্যাংকে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। এখন বাংলাদেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বাংলাদেশে কর্পোরেট জগতে শীর্ষপদে যে গুটিকয়েক নারী সফল হয়েছেন হুমায়রা আজম তাদের অন্যতম। দেশি বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে সুনামের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।

১৯৮৩ সালে বাংলাদেশের একটি নারী ক্রিকেট দল ইডেন গার্ডেনসে ক্রিকেট খেলে। স্থানীয় দলের বিপক্ষে সেই ম্যাচে বাংলাদেশের দলটির হয়ে খেলেন পারভিন নাসিমা নাহার পুতুল। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ‘পুতুল আপা’ নামেই পরিচিত এই নারী অ্যাথলেট ও সংগঠক। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত পুতুল বাংলাদেশে বিভিন্ন নারী ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেছেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মিসেস সাবিয়া নাহার মূসা, মিসেস মনোয়ারা হাকিম আলী, ডিএসই’র পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, এফবিসিসিআই, ডিএসই’র পরিচালক মো. রকিবুর রহমান, ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশীদ লালী।

ডিএসই’র মহিলা ট্রেকহোল্ডার মিসেস হোসনে আরা বেগম, মিসেস আয়েশা ইকবাল দাদা এবং ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান, লোপা রহমান, আইএফসি’র কর্পোরেট গর্ভাণেন্স অফিসার, অ্যাডভাইজারি সার্ভিসেস ইন সাউথ এশিয়া, মিসেস ফারজানা চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, গ্রীন ডেল্টা ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, শেখ শিরিন মঈনুদ্দিন, ফরমার ভাইস প্রেসিডেন্ট আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংক অ্যান্ড প্রোপ্রাইটরসহ আরও অনেকে।

নারী নেতৃত্বের বিষয়টি যদি আমরা দেখি তবে বলা যায় একটি মুসলিম-প্রধান রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকার চেয়ে অনেক দূরে এগিয়ে আছে।

নারীরা বাংলাদেশের রাজনীতিকে পরিচালনা করছে সেই ১৯৯১ সাল থেকে, যেখানে আমেরিকা এখন পর্যন্ত নারীদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা প্রদান করতে দ্বিধাগ্রস্ত। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত এবং ২০০৯ সালে তিনি আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এবং ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত।

তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের অবস্থান পালাবদল করেছেন যা অন্য যে কোন দেশের সাথে তুলনা করলে বেশ সবিশেষ একটি বিষয়। পৃথিবীর অন্য কোন নেত্রী এত জনসংখ্যাবহুল রাষ্ট্র পরিচালনা করেননি একমাত্র ইন্দিরা গান্ধী ছাড়া যার দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬৫ মিলিয়ন।
বাংলাদেশি এই দুই নেত্রী আরও প্রমাণ করেছেন যে নারীদেরকে পুরুষদের থেকে পিছিয়ে পড়ার কোন প্রয়োজন নেই, বিশেষ করে একটি মুসলিম-প্রধান দেশে।