ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আবু জাফর নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশসূত্রে জানা গেছে, নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল ‘শিখা ইন’ আবু জাফরের নামেই ইজারা নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় আরও দু’জনকে আটক করা হয়েছে। তবে হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্রের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২০ আগস্ট) রাতেই তাকে আটক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আবু জাফর উত্তর কলকাতার জোড়াসাঁকো এলাকার বাসিন্দা। গত রাতে এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পাশাপাশি আরও দু’জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে জানা গেছে, আটক হওয়া দু’জনের মধ্যে শিখা ইনের পাশের হোটেল ‘যাপন’-এর কর্মীও রয়েছেন। মির্জা গালিব স্ট্রিটের যে হোটেলে আগুন লেগেছিল, তার পাশের হোটেল ‘যাপন’ এবং এই হোটেলটির মালিক বীরেশ্বর মিত্র।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পরে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি হোটেল এবং ৪টি রেস্তরাঁকে আগুন সুরক্ষাবিধি না-মানার অভিযোগে ‘শো-কজ’ করেছে দমকল দপ্তর। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা একটি ভবনে একাধিক হোটেল ও অতিথিনিবাস চলছিল। প্রতিটিতে ঘুপচি ঘুপচি ঘর। ওই ভবনেরই তিনতলায় ১১০০ বর্গফুট জায়গা জুড়ে চলছিল হোটেল ‘শিখা ইন’। বিস্তর গলদ এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে এই হোটেল ঘিরে। দুই কামরাবিশিষ্ট ফ্ল্যাটের সমান জায়গায় ছিল খুপরি পাঁচটা ঘর। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে হোটেলটিতে আগুন ধরে যায়। অগ্নিকাণ্ডে ৫ জন বাংলাদেশিসহ প্রাণ হারিয়েছেন ৯জন।
দমকলের সদর দপ্তরের কাছেই এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে সব মহলে। নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বুধবারই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে লালবাজার। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওই সিট ‘শিখা ইন’-এর লিজ হোল্ডার আবু জাফরকে গত রাতেই আটক করা হয়।
‘শিখা ইন’-সহ ওই ভবনে যেসব হোটেল রয়েছে, সেগুলো সুরক্ষাবিধি না মেনেই চলছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। আবাসিক ভবনকে বেআইনি ভাবে বাণিজ্যিক ভবনে পরিণত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ অগ্নিকাণ্ডের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পূর্ববর্তী সরকারের ‘অবহেলাকেই’ দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, আগের সরকার ইচ্ছাকৃত ভাবে এই বিষয়গুলো থেকে নজর ঘুরিয়ে রেখেছিল।










