জীবনে আর্থিক সংকট বা ঋণের বোঝা অনেক সময় মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য না থাকলে ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয় নানা দুশ্চিন্তা। ইসলাম এমন পরিস্থিতিতে হালাল উপায়ে চেষ্টা করার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে উৎসাহিত করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ঋণ ও দুশ্চিন্তা থেকে আশ্রয় চেয়ে একটি দোয়া করতেন।
দোয়াটি হলো—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَمِّ وَالحَزَنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ العَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ
উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাজান, ওয়া আউযু বিকা মিনাল আজজি ওয়াল কাসাল, ওয়া আউযু বিকাল জুবনি ওয়াল বুখল, ওয়া আউযু বিকা মিন গালাবাতিদ্দাইনি ওয়া কাহরির রিজাল।
অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে আশ্রয় চাই। অক্ষমতা ও অলসতা থেকে আশ্রয় চাই। কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে আশ্রয় চাই। ঋণের ভার এবং মানুষের প্রভাব থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।”
হাদিসে এই দোয়ার গুরুত্ব
এই দোয়াটি সহিহ বুখারি-তে বর্ণিত হয়েছে। এতে শুধু ঋণের বোঝা নয়, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, অলসতা, অক্ষমতা, কৃপণতা ও মানুষের চাপ থেকেও আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, দোয়াটি মানুষের জীবনের বিভিন্ন দুর্বলতা ও সংকটকে একসঙ্গে তুলে ধরে। একজন মুমিন আল্লাহর কাছে শুধু আর্থিক স্বচ্ছলতা নয়, বরং এমন মানসিক ও শারীরিক শক্তিও চান, যার মাধ্যমে তিনি নিজের সমস্যার মোকাবিলা করতে পারেন।
দোয়ার পাশাপাশি করণীয়
ঋণ থেকে মুক্তির জন্য শুধু দোয়া করাই নয়, বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়াও জরুরি। অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো, সামর্থ্য অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা করা এবং হালাল উপায়ে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করা উচিত।
দোয়া মানুষকে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শেখায়, আর চেষ্টা তাকে সমস্যার সমাধানের পথে এগিয়ে নেয়।
তাই আর্থিক সংকট বা ঋণের চাপে থাকলে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করুন এবং একই সঙ্গে দায়িত্বশীলভাবে নিজের পরিস্থিতি মোকাবিলা করুন।










