চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

নারী সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে ডি ডব্লিউ একাডেমীর মেন্টরশিপ শুরু

নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় একটি গণমাধ্যমে সংবাদকর্মী আফসানা আখতার। সম্প্রতি মা হওয়া এই নারী যখন আমন্ত্রণ পেলেন ঢাকায় একটি আবাসিক কর্মশালায় যোগ দেবার, তখন তাকে ভাবনায় পড়তে হলো। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলেন, সন্তান আর পেশা– দুই দায়িত্ববোধ একসাথে সামলাবেন।

‘মা হওয়ার পর জীবনে অনেক পরিবর্তন আসে। কিন্তু আমি কাজ চালিয়ে যেতে চেয়েছি, আর পরিবারের সমর্থনও পেয়েছ। কর্মশালায় যোগ দিতে চেয়েছি কারণ আমি এখান থেকে কিছু পেতে চেয়েছি, নিয়ে যেতে চেয়েছি। পিছিয়ে পড়তে চাই না,’ বলছিলেন আফসানা।

Reneta June

সারাদেশ থেকে আসা নারী সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, কৌতুহল আর উচ্ছাসের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হল ডি ডব্লিউ একাডেমীর নারী সাংবাদিকদের মেন্টরশিপের। দেশের নারী সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সাংবাদিকতায় দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের গণমাধ্যম উন্নয়ন শাখা ডি ডব্লিউ একাডেমী বাংলাদেশে এই প্রকল্পটি হাতে নেয়।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার গুলশানে একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী এই আবাসিক কর্মশালায় নয়জন সাংবাদিক এবং ১০ জন সাংবাদিকতার ছাত্রী অংশ নেন। এর আগে উন্মুক্ত আবেদন ও যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে মোট ২০ জনকে এই মেন্টরশিপের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

এ বছর ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড এর অদম্য সাংবাদিক পুরস্কারপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী সাংবাদিক, দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রোজিনা ইসলাম এই সাংবাদিকদের আগামী তিন মাস দিকনির্দেশনা দেবেন। এই ২০ জন অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকতার বিভিন্ন কর্মশালায় অংশ নেবেন এবং সাংবাদিক/শিক্ষার্থী জোড়ায় জোড়ায় ভাগ হয়ে বিশেষ সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করবেন। রোজিনা ইসলামের সঙ্গে কর্মশালা পরিচালনা করেন মাইনুল ইসলাম খান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় মাস্টার্সের শিক্ষার্থী কেয়া বোস বলেন, আমরা এর আগে সাংবাদিকতা ক্লাসরুমে শিখেছি। কিন্তু এখানে এসে বুঝেছি ক্লাসরুমের বাইরের অনেক বিষয়। বাস্তব জীবনে সাংবাদিকতার অনেক অভিজ্ঞতাও শুনতে পেরেছি।

কর্মশালার বিষয়ে ডি ডব্লিউ একাডেমীর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (বাংলাদেশ) প্রিয়া এসেলবর্ন বলেন, ডি ডব্লিউ একাডেমী বিশ্বাস করে বিশ্বজুড়ে নারীর ক্ষমতায়নই পারে সামাজিক উন্নয়ন বয়ে আনতে। এই ২০ জন সংবাদকর্মীদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি ও তাদের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে গণমাধ্যমে আরও প্রতিযোগীতামূলক অবস্থানে যাবার জন্য এই আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

নারীদের জন্য তৈরি বিশেষ এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ডি ডব্লিউ একাডেমীর সঙ্গে আর কাজ করছে বাংলাদেশের দুটি সংগঠন ‘কথা’ ও ‘বহ্নিশিখা’।

জার্মানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নের এই প্রকল্পে তারা দেশের নয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জেন্ডার-সংবেদনশীলতার কর্মশালা পরিচালনা ও গণমাধ্যমে নারী বিষয়ক সাংবাদিকতার জন্য একটি রূপরেখা (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর) তৈরিসহ অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নেবে।

ডি ডব্লিউ একাডেমী ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে সাংবাদিকতার শিক্ষা এবং চর্চা উন্নত করার লক্ষ্যে এবং মুক্ত গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সাথে সাংবাদিকতার পাঠ্যক্রম সংস্কার, কমিউনিটি রেডিও সাংবাদিকদের সক্ষমতা উন্নয়ন, সাংবাদিকতা স্নাতকদের জন্য শীর্ষস্থানীয় নিউজরুমে ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা, পেশাজীবী এবং নাগরিক সাংবাদিকদের জন্য একটি অনলাইন কোর্স তৈরি, সাংবাদিকতার শিক্ষক ও সাংবাদিকদের নিয়ে চারটি নেটওয়ার্কিং কনফারেন্স ও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্য অসংখ্য প্রশিক্ষণ আয়োজন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।