নেপালে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর গুরুতর অপরাধে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন এবং বিচারব্যবস্থার সংস্কারের দাবি জোরালো হয়েছে।
আজ (২৫ আগস্ট) মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, মানবাধিকারকর্মী ও রাজনীতিকদের পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সদস্যরাও দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছেন। নেপালের মধেশ প্রদেশে গত সপ্তাহে নিখোঁজ হয় শিশুটি। নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এরপরই ঘটনাটি ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশের অবহেলার অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভকারীরা।
বিশেষ করে পুলিশি হেফাজতে থাকা এক কিশোর সন্দেহভাজনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভিডিওটি কীভাবে বাইরে গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।কয়েক দিন ধরে সিমারা শহরে বিক্ষোভ চলার পর ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের সদস্যরা সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে সপ্তাহান্তে পরিবারটির সঙ্গে সরকারের একটি লিখিত সমঝোতা হয়।
সমঝোতার অংশ হিসেবে সরকার গুরুতর অপরাধসংক্রান্ত আইন পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে নিহত শিশুটির স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কথাও জানিয়েছে সরকার। এদিকে ঘটনাটি নেপালে অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের বিচার ও শাস্তির বিধান নিয়েও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ধর্ষণ ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার জন্য আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কয়েকজন অধিকারকর্মী।
নেপাল পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ২৫ হাজার ৫০০টির বেশি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এসব ঘটনায় নারী ও কন্যাশিশু ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী ছিল তিন হাজার ২০০ জনের বেশি।
তিন বছরের শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাটি তাই শুধু একটি নৃশংস অপরাধের তদন্ত ও বিচারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং নেপালের আইন, বিচারব্যবস্থা, পুলিশি জবাবদিহি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীদের শাস্তির বিধান সংস্কারের দাবিকেও সামনে নিয়ে এসেছে।









