চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

গণপিটুনিতে হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার হচ্ছে কি?

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে থেকে নভেম্বর অবধি বাংলাদেশের আকাশে মেঘ থাকে না, আবার সেভাবে পড়ে না কুয়াশার প্রভাবও। ‘না শীত, না গরম’ এই অবস্থার মধ্যে ক্যালেন্ডার থেকে বিদায় নেয় অক্টোবর। শীতের বারতা নিয়ে আসে নভেম্বর মাস। এই মাসটি এলেই উত্তরবঙ্গ বাংলাদেশের গণমাধ্যমে একটি কারণে সংবাদ শিরোনাম হয়। সেটি হলো- ‘খালি চোখে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা’। হ্যাঁ, বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা থেকে প্রতিবছরের মতো এবছরও কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখা মিলেছে, সংবাদ শিরোনামও হয়েছে। কিন্তু কাঞ্চনজঙঘাকে ডিঙিয়ে যে সংবাদটি আরো উঁচু ‘চূড়া’ হয়ে মানুষের মগজে ধাক্কা দিলো সেটি গলো ‘গণপিটুনির পর পুড়িয়ে মারা’র একটি ঘটনা।

শহীদুন নবী জুয়েল

বিজ্ঞাপন

‘পাটগ্রাম এলাকায় শত শত মানুষ একজন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর তার মৃতদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, এক মসজিদে আছরের নামাজের পর ঐ ব্যক্তি ধর্মের অবমাননা করেছেন, এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।’

বাংলাদেশে গণপিটুনির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার, লালমনিরহাট জেলায়। পুলিশের ভাষ্য দিয়ে বিবিসি বাংলা (ধর্ম অবমাননার অভিযোগে লালমনিরহাটে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা, মৃতদেহে আগুন) এই সংবাদটি ব্রেকিং নিউজে জানিয়েছে। ব্রেকিং নিউজ হলো তা- যা অপরাপর সংবাদকে ভেঙ্গেচুড়ে শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। উন্মত্ত জনতা যখন পিটিয়ে কাউকে মেরে ফেলে, তখন সেই ঘটনাটি ‘খবর’ হিসেবে বাংলাদেশের যেকোন সংবাদ মাধ্যমের বার্তাকক্ষের জন্য নতুন কোন বিষয় নয়। কিন্তু নতুন লালমনিরহাটের সংবাদে যেটি নতুন ‘উপাদান’ তা হলো- জনতা কেবল গণপিটুনি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, লাশ পুড়িয়েও ফেলেছে! পিটিয়ে লাশ পোড়ানোর ঘটনা বাংলাদেশে অভূতপূর্ব। পিটিয়ে একজনকে হত্যা এবং রক্তাক্ত একটি মৃতদেহ আগুন দিয়ে পোড়ানোর ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

গণপিটুনির ঘটনা পৃথিবীব্যাপী ‘মব লিঞ্চিং’ নামে পরিচিত। এর আভিধানিক বাংলা ‘গণপ্রহার’, প্রচলিত অর্থে- গণধোলাই। বাংলাদেশ ও ভারতের ‘সামাজিক বাস্তবতা’য় ‘লিঞ্চিং’ মানে শুধু মারধরই বোঝায় না। উত্তেজিত জনতা দ্বারা কোন একক বা একদল ব্যাক্তিকে পেটানো, কোপানো, পোড়ানোও বোঝায়। এই উত্তেজিত জনতার আচরণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিখ্যাত সমাজ মনোবিজ্ঞানী গুস্তাভ লে বোঁ (Gustave Le Bon)-কে স্মরণ করা যায়। যিনি বলেছেন, জনতার ভিড়ে ব্যক্তির ব্যক্তিসত্ত্বার বিলুপ্তি ঘটে এবং প্রতিজন বাক্তি মিলে উত্তেজিত জনতার সমষ্টি তৈরি হয়। জনতার ‘সম্মিলিত মন’ তখন বিপদজনক সিদ্ধান্ত নেয়।

আক্রমণমুখী জনতার হিংস্রতা থেকেই মব লিঞ্চিং এর উৎপত্তি। এর ইতিহাস দীর্ঘ। ‘লিঞ্চ’ শব্দটি এসেছে মার্কিন মুলুক থেকে। গণপিটুনি ও প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা এবং এসব ঘটনায় জনতার প্রতিরোধহীনতা তথা নিষ্ক্রিয়তা ভারত বাংলাদেশের সমাজে দৃশ্যমান। যদিও দুই দেশের সচেতন জনপরিসরে এটি নিয়ে উদ্বেগ লক্ষ্যণীয়। প্রাচীন মার্কিন সমাজে কৃষাঙ্গদের ওপর এভাবেই পপুলার হয়ে উঠেছিল উন্মত্ত জনতার আদালত। সমাজে যখন বলপ্রয়োগ এবং আধিপত্যই হয়ে ওঠে স্বাভাবিক প্রবণতা, তখন মানুষ যুক্তি আর সহিষ্ণুতা ভুলে যায়। আইন ও বিচারব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস হারিয়ে উত্তেজিত জনতা সম্মিলিতভাবে বিচার হাতে তুলে নেয়।

তসলিমা বেগম রেনু

চোখ ফেরাই গত বছরের নিকট অতীতের জুলাই-আগস্ট মাসে। এই দুইমাস জুড়ে দেশে গণপিটুনির ভয়াবহতা দেখা দেয় বাংলাদেশে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনের উদ্ধিৃতি দিলে ব্যাপারটি স্মরণ করা সহজ হবে। গতবছর ডয়েচেভেলে প্রকাশিত এক সংবাদ (গণপিটুনিতে হত্যার বিচার হয় না, ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ডয়েচেভেলে) মতে, ‘২০ জুলাই ঢাকার উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের সন্তানকে ভর্তি করানোর জন্য তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হন তসলিমা বেগম রেনু৷ ছেলেধরা গুজব ছড়িয়ে তাকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়।’

আমরা জানি, এই ঘটনার প্রভাব সমাজের সর্বস্তরে নাড়া দিয়েছিলো। ‘ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি: বাংলাদেশের মানুষ কেন নির্মম হয়ে উঠছে? (সূত্র: বিবিসি বাংলা; ২৪ জুলাই ২০১৯) প্রতিবেদন থেকে জানতে পারি, ‘‘পদ্মা সেতু তৈরির কাজে মানুষের মাথা প্রয়োজন হচ্ছে – এমন একটি গুজব ছড়িযে পড়ার কারণেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছেলেধরা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং গণপিটুনির ঘটনাগুলো ঘটেছে’’। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘২০১১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত গণপিটুনিতে দেশে প্রায় ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে – যেগুলোর কোনটায় ছেলেধরা বা ডাকাত সন্দেহে, আবার কোন কোন ঘটনায় সামান্য চোর সন্দেহেও পিটিয়ে মেরে ফেলার ঘটনা ঘটেছে।’’

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের সমাজে একটি নতুন প্রবণতা খেয়াল করা যাচ্ছে, হত্যা, ধর্ষণ, লুট এবং মাদক ব্যবসার জন্য এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ ‘বিচার’ চাইছে না, মানুষ ‘ক্রসফয়ার’ বা ‘পিটিয়ে মেরে ফেলা দরকার’ বলে পপুলার জাস্টিসে শামিল হচ্ছেন। ভার্চুয়ালি এভাবে উল্লসিত হয়ে নিজের ক্ষোভ ও প্রতিবাদকে সবাই প্রকাশ করছেন। আমরা কি ভেবে দেখছি যে, পরোক্ষভাবে ভার্চুয়াল পরিসরে এ ধরণের মানসিকতাই একচুয়েল পরিসরে গণপিটুনির নিয়ামক শক্তি? অর্থাৎ আমরা বিচার চাইছি না, কারণ আমরা জানি- বিচারের নামে দীর্ঘসূত্রিতা হবে, জামিনের ফাঁক গলে অপরাধী বেরিয়ে আসার আশঙ্কাও আছে। ফলে নিজের ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা হয়ে উঠছে ‘উন্মত্ত বিচার’ তথা জনতার আদালত!

শামছুদ্দিন মিলন

এবার পরিসংখ্যানের দিকে চোখ ফেরাই। বাংলাদেশে ২০১৫ সালে আলোচিত কিছু গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। সারা দেশে একদিনে একযোগে নয় ডাকাত নিহত হওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়, যাতে সারা দেশে আলোড়ন তৈরি হয়। অব্যাহত ডাকাতির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়েই গ্রামবাসী কথিত ‘ডাকাত’দের গণপিটুনি দেয় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের রহিম মিয়ার টেক বাজার এলাকায়। পৃথক আরেক ঘটনায় সিলেটের চেঙ্গেরখালে ফেলে পিটিয়ে শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে হত্যা করা হয়। ২০১১ সালের জুলাই মাসে ঘটে পৃথক দু’টি মর্মান্তিক গণপিটিুনির ঘটনা। শবেবরাতের রাতে ‘ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামে ছয় কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এর রেশ না কাটতেই নোয়াখালীর চরকাঁকড়া টেকারবাজার এলাকায় শামছুদ্দিন মিলন নামের এক কিশোরকে ‘ডাকাত’ আখ্যা দিয়ে নিজেদের ভ্যান থেকে জনতার হাতে তুলে দেয় পুলিশ। তখন পুলিশের সামনেই জনতা নিরপরাধ মিলনকে পিটিয়ে হত্যা করে। এসব ঘটনায় নির্বিকারবভাবে ঘটে চলছে দেশে এবং খেয়াল করুন- গত দশ বছরেও এইসব গণপিটুনি ও খুনের মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হয়নি।

প্রশ্ন হলো, কেন এসব বাড়ছে? সমাজে জনতার হাতে আইন তুলে নেয়ার প্রবণতা দিনদিন কেন ভয়াবহ হচ্ছে? গণপিটুনি বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, রাষ্ট্র পরোক্ষভাবে এমন একটি অবস্থা সৃষ্টি করছে, যখন উন্মত্ত ‘জনতার আদালত’ সর্বস্তরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যদিও কোন কোন গণপিটুনির ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গণপিটুনির পর জনতা নিজ উদ্যোগে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে ভিকটিমকে! অর্থাৎ আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর উপর জনতার আস্থা যে একেবারে ‘উঠে গেলো’ তা কিন্তু পুরোপুরি ঠিক নয়। তবে এটা ঠিক, সহিংসতার মোড়কে বাংলাদেশের সমাজে যেসব গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে এবং যে আকারে তা বিকশিত হয়েছে তাতে সমাজ যাত্রা করেছে দীর্ঘমেয়াদী ভয়ের সংস্কৃতির পথে। সমাজে সহিংসতা ঘটছে, যার ফলে ভয়, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা বাড়ছে। সমাজে অসহিষ্ণুতাও বেড়েছে সমানতালে।

আমি খেয়াল করেছি, ভারত ও বাংলাদেশে গত ১০ বছরে চাঞ্চল্যকর ২০টি গণপিটুনির কোন বিচার হয়নি এবং সঠিক তদন্তও হয়নি। বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে দরিদ্র জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি ভিকটিম হচ্ছে এবং ভারতের ভিকটিম মুসলিম সম্প্রদায় যারা ধর্মীয় সংখ্যালঘু। গণপিটুনি এবং সামাজিক সহিংসতার জন্য মানুষের নির্বিকার হিংস্র মনোভঙ্গি এবং অপরাপর মানুষের নিষ্ক্রিয়তা এখানে অন্যতম দায়ী। ফলে একটি রাষ্ট্রের মধ্যে যখন এসব ঘটনা ঘটে তখন রাষ্ট্র কখনোই এই গণপিটুনির দায় এড়াতে পারে না। প্রশ্ন হলো, সমাজে ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিকাশ এবং আইনের শাসনের প্রতি জনতার অনাস্থায় মানুষ যেভাবে উন্মত্ত হয়ে উঠছে কেন? সমাজে সংগঠিত কোন অপরাধের ‘বিচার’ না চেয়ে ‘ক্রসফায়ার’ চাওয়ার প্রবণতা ‘গণপিটুনি’ নামক এই সামাজিক উন্মত্ততাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে এবং তুলবে। খেয়াল করুন, আগে গণপিটুনির পর উন্মত্ত জনতা অর্ধমৃত ব্যক্তিকে (চোর বা ছেলেধরা সন্দেহভাজন) পুলিশের হাতে তুলে দিতো। তার মানে, পুলিশের প্রতি জনতার আস্থা পুরোপুরি ‘চলে গেছে’ সেটা ঠিক নয়। কিন্তু সর্বশেষ লালমনিরহাটের এই ঘটনা বাংলাদেশের অতীতের সকল গণপিটুনির ধরণ ও পরিণতির ইতিহাসে নৃশংসতার সীমানা ছাড়িয়ে গেলো।

ভারত বাংলাদেশে গণপিটুনির ২০টি ঘটনার কেসস্টাডি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখছি, এসব ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নেই। ‘যত দোষ- জনরোষ’ বলে উত্তেজিত জনতার উপর দায় চাপানো হচ্ছে। কিন্তু নদী বিধৌত, পলি ও সমতল, সাগরের ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যময় এই দেশে জনতা এত উত্তেজিত কেন? এই প্রশ্নটি আমরা করছি কি? ফেসবুকে বা সংবাদ মাধ্যমের অনলাইন কমেন্ট সেকশনে ‘প্রচলিত আইনে বিচার’ চান এমন কোন মন্তব্য এখন আমি দেখি না। যা দেখি, বেশিরভাগ মন্তব্যের ভাষা ‘মব লিঞ্চিং’! অর্থাৎ আদালত ও শাসনব্যবস্থা এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে বা সাধারণ মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রয়েছে তা হলো যেমন খুশি লেখার ‘ফেসবুক’, তাই সেটিই এখন বিচারালয়। সেখানে একদিকে ভার্চুয়ালি মানুষ পিটিয়ে মারা হয়, ট্রোল করা হয়, দোষী প্রমাণের আগেই দোষী ট্যাগ দেয়া হয়; আবার একচুয়েল পিটিয়ে মারার ঘটনার ভিডিও সেখানে ‘ভাইরাল’ হয়। এরপর ‘যত দোষ, জন রোষ’ বলে রাষ্ট্র যেন নির্বিকারভাবে দায় এড়ায় ভয়াবহ সব নৃশংসতার।

মনে মনে ভাবি, একটি বহুল আকাঙ্খিত ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করণার্থে, সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্ররূপে’ যে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো সেই রাষ্ট্রের ভেতর ‘সহিংস’ আরেকটা রাষ্ট্র দিন-দিন বেড়ে উঠছে, এটা কি আমরা টের পাই? পপুলার জাস্টিস সমাজে বৈধতা পাচ্ছে, এটা কি সমাজের কর্তারা বোঝেন? রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন অরাজক হয়ে পড়ছে, এটা কি আমরা বুঝি? ফেসবুকে বিচার চাওয়া একদিকে যেমন দেশের বিচার ও শাসন ব্যবস্থার দুর্বলতাকে প্রকাশ করে, অপরদিকে যারা ফেসবুক পর্যন্ত আসতে পারে না তাদের আইনের আশ্রয় পাওয়ার সম্ভাবনা কমায়, এটা বোঝার মতো ধৈর্য্য তো উত্তেজিত জনতার নেই। তাহলে আমরা এখন কী করবো? ভারতে গণপিটুনির সমস্যা প্রকট আকার নেয়ার পর ‘সমাধানের ক্ষেত্র’ খোঁজা হচ্ছিল। এর বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে গণপিটুনি ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ‘কাউকে পাওয়া না যাওয়া’। অর্থাৎ, বিচারহীনভাবে ‘যত দোষ, জন রোষ’ হিসেবে থেকে যায় এসব ঘটনা। আমাদের এখানেও একেকটি গণপিটুনির ঘটনার পর ‘যত MOB, তত রব’ বলে দায় সারছি। নোয়াখালি, ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লালমনিরহাট… এরপর গণপিটুনি নামক ভয়ের সংস্কৃতি এক্সপ্রেস ট্রেনটি কোন স্টেশনে থামবে? জানেন কি?

কৃতজ্ঞতা: লেখক ভারত-বাংলাদেশে গণপিটুনির প্রবণতা নিয়ে গবেষণারত। এই লেখায় ব্যবহৃত তথ্য সেকেন্ডারি ডাটা হিসেবে মূল গবেষণায় ব্যবহৃত হবে। তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করায় গবেষণা সহকারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সম্মান চূড়ান্ত বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিনের নিকট কৃতজ্ঞ।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)