চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনার প্রথম ঢেউয়ের অভিজ্ঞতায় মোকাবিলা করা হবে দ্বিতীয় ঢেউ: পরিকল্পনা মন্ত্রী

উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে উদ্যোগ নিতে হবে

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা এখনো শক্তভাবে শুরু হয়নি মন্তব্য করে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন: করোনার প্রথম ধাক্কা সামলানোর অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে জীবন এবং জীবিকা বাঁচাতে দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে সরকারের।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত “কর্মসৃজন ও গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন শীর্ষক” মত বিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

এটি ছিল কোভিড-১৯ মোকাবিলা এবং টেকসই অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সরকারের দেয়া প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে ৩ পর্বের ধারাবাহিক আলোচনার ২য় দিনের অনুষ্ঠান।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন: এখনো করোনার দ্বিতীয় ধাপ অতো শক্তভাবে শুরু হয়নি। মৃত্যুও কম। এই ভাইরাস মোকাবিলায় প্রথম ধাপের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই দ্বিতীয় ধাপ মোকাবেলা করা হবে। কারণ, জনসংখ্যা ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় করোনা মোকাবিলায় প্রথমে ও পরে উত্তরণ এই কৌশল সফল হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রণোদনা প্যাকেজের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজের শতভাগ অর্থ ছাড় দেয়া সম্ভব না হলেও ডিসেম্বরের মধ্যে ৯০ ভাগ অর্থ ছাড় দেয়া সম্ভব হবে।

কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে দেয়া প্রণোদনার মাত্র ৪১ শতাংশ উদ্যোক্তাদের হাতে গেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ খাতে দ্রুত অর্থছাড়ে জামানত থেকে সরে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করা হয়েছে। এই স্কিমের আওতায় ৫ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করতে পারলেই প্রণোদনা প্যাকেজের শতভাগ সুবিধা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার।

এতে তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলায় পরিকল্পনা করার সময় চিন্তা করতে হয় যেন, মৃত্যু কম হয়, ক্ষুধার্তের সংখ্যা না বাড়ে, কর্মসংস্থানের সুযোগ অব্যাহত থাকে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল থাকে।

আব্দুর রউফ বলেন, মার্চ থেকে অক্টোবর, করোনা আক্রান্তের ৮ মাসের প্রথম ৪ মাস অর্থনীতি থমকে ছিল। এর পরবর্তী ৪ মাস
আবার ধারাবাহিকভাবে উত্তরণ ঘটেছে। জুলাই থেকে অক্টোবর চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ৯৪ শতাংশ, গত ৫ মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের হিসাবে আমদানি ব্যয় কমেছে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ।

এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন ড. মাসুদুর রহমান বলেন, করোনার কারণে পুঁজি হারিয়েছেন দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা। কিন্তু এ খাতে দেয়া ২০ হাজার কোটি টাকার মাত্র অর্ধেক পরিমাণ অর্থ উদ্যোক্তাদের বিতরণ করা হয়েছে।  ঋণ পেতে বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে না পারায় ৮০ শতাংশ উদ্যোক্তাই ঋণ পাচ্ছে না।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এটা ভালো দিক যে এই মহামারিকালেও বাংলাদেশ খাদ্য সংকটে পড়েনি। তবে আমাদেরকে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এই সংকট উত্তরণে অবশ্যই কৃষিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ, কর্মসংস্থানের ৪০ ভাগই এ খাতের। এছাড়া জিডিপির ১৩ শতাংশের যোগানও দিচ্ছে এই কৃষিখাত। তাই ঋণ সুবিধা, নীতিগত সুবিধা ও পণ্যের বাজারজাতকরণে এই খাতে বেশি দিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক- এডিবি’র বাংলাদেশ প্রতিনিধি মনমোহন প্রকাশ বলেন, করোনার তাণ্ডব শহরের তুলনায় গ্রামে বেশ কম। তাই এই বিপর্যয় থেকে উত্তরণে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সামনে রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে। কারণ দেখা যায়, অনেকক্ষেত্রেই উৎপাদকরা (চাষি এবং কৃষক)  বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে যথাযথ উপায়ে ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছাতে পারে না। এক্ষেত্রে প্রযুক্তি বড় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কৃষকদের পাশে থাকার জন্য কৃষিঋণের পাশাপাশি কৃষি বীমাকে সতর্কতা ও সহজভাবে আমলে নিতে হবে।

সভায় সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সচিব ড. শামসুল আলম বলেন, গত জুলাই থেকে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে আরো গতি আনতে হবে। এজন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। সেজন্য অবশ্যই ক্ষুদ্র অর্থনীতিকে আমলে নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। এশিয়ান প্লাস-সহ জোটভিত্তিক ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রাসারণের দিক নিয়েই ভাবতে হবে।

বিজ্ঞাপন