চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস: আক্রান্তের হার বেড়েছে চট্টগ্রামে, দেশে তিনদিনে মৃত ৪৮

দেশে গত ৭২ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৮ জন। গত ৪৮ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫২১ জন। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের হার রাজধানী ঢাকা কমলেও বেড়েছে চট্টগ্রামে।

দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত তিনদিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৮ জন।

বিজ্ঞাপন

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৫ জন। সাতজন পুরুষ ও আটজন নারী। বয়সের দিক থেকে একজন অনূর্ধ্ব ৩০ বছরের, একজন ত্রিশোর্ধ্ব, আটজন পঞ্চাশোর্ধ্ব, তিনজন ষাটোর্ধ্ব এবং দুজন ৮১ থেকে ৯০ বছর বয়সী।

গত বুধবার করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১৪ জন। তাদের মধ্যে এগারোজন পুরুষ ও তিনজন নারী। বয়সের দিক থেকে একজন অনূর্ধ্ব ৩০ বছরের, একজন ত্রিশোর্ধ্ব, পাঁচজন চল্লিশোর্ধ্ব, পাঁচজন পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং দুজন সত্তরোর্ধ্ব।

গত মঙ্গলবার করোনা আক্রান্ত হয়ে দেশে সর্বোচ্চ মারা যান ১৯ জন। করেছেন। মৃত ব্যক্তিদের ১২ জন পুরুষ ও ৭ জন মহিলা। বয়সের দিক থেকে একজন অনূর্ধ্ব ১০ বছরের, একজন ত্রিশোর্ধ্ব, সাতজন পঞ্চাশোর্ধ্ব, ষাটোর্ধ্ব পাঁচজন এবং পাঁচজন সত্তরোর্ধ্ব।

আক্রান্তের হার ঢাকায় কমলেও বেড়েছে চট্টগ্রামে
শুক্রবার দুপুরে করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘ঢাকা মহানগরী ও এ বিভাগের জেলাগুলোয় করোনায় আক্রান্তে শতকরা হার একটু কমেছে। এর শতকরা হার ৮০ শতাংশের নিচে নেমেছে। আক্রান্তদের ৭৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ এখন ঢাকা বিভাগে। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে ৫৮ দশমিক ১১ শতাংশ এবং বিভাগটির জেলাগুলোতে ২১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে নারায়ণগঞ্জেই সর্বাধিক আক্রান্ত।’

নাসিমা সুলতানা আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিভাগে আমাদের আক্রান্ত বেড়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ এ বিভাগে। তারপরেই রয়েছে ময়মনসিংহ, সেখানে এর হার ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। এরপর রংপুর বিভাগে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, সিলেটে ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ, রাজশাহীতে ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং বরিশাল ১ দশমিক ১০ শতাংশ করোনায় আক্রান্ত।’

অষ্টম সপ্তাহের তুলনায় আক্রান্ত বেড়েছে তিনগুণ, মৃত্যু দ্বিগুণ
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্তের পর বর্তমানে দশম সপ্তাহ চলছে। দশম সপ্তাহের মেয়াদকাল ১০ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ‘আমাদের অষ্টম সপ্তাহ ছিল ২৬ এপ্রিল থেকে ২ মে। সেখানে আমাদের শনাক্ত ছিল ৩ হাজার ৭৯২ জন। সেই সপ্তাহে সুস্থ হয়েছিল ৬৪ জন এবং মারা যায় ৩৫ জন। নবম সপ্তাহে (৩ থেকে ৯ মে) সে সময় আমাদের মোট শনাক্ত হয়েছিল ৪ হাজার ৯৮০ জন। সুস্থ হয়েছিলেন ২ হাজার ৩৩৭ জন। ওই সপ্তাহে মারা যায় ৩৯ জন। দশম সপ্তাহ শেষ হতে আমাদের এখনও একদিন বাকি। ১৫ মে পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ২৯৫ জন। এ সপ্তাহে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৭১০ জন। ১৫ মে পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করল ৮৪ জন।’

সুরক্ষা নিজেদের হাতেই
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজেদের সুরক্ষা আমাদের নিজেদের হাতেই। সবার উচিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা, যথাসম্ভব ঘরে থাকা, জরুরী প্রয়োজনে বাসার বাইরে গেলে সবসময় মাস্ক পরা, বারবার সাবান পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া।

এছাড়াও কোভিড-১৯ প্রতিরোধে নিজেদের পরিচর্যার পাশাপাশি বাড়ির শিশু, বয়োঃজ্যৈষ্ঠ, গর্ভবতী মা, বিশেষ শিশু এবং যদি কেউ অসংক্রামক রোগী থাকে তাদেরকে বিশেষভাবে এই স্বাস্থ্য নিয়মগুলো মেনে চলা ‍উচিত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, যারা ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরকে মানসিক মনোবল ধরে রাখতে হবে। মানসিকভাবে উজ্জ্বীবিত থাকলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

তিনি সকলকে নিয়মিত শরীরচর্চা, বেশি করে পানি, তরল খাবার খাওয়া, টাটকা শাকসব্জি ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল- যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে তা গ্রহণের পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, নিজদেরকে সুস্থ রাখা, পরিবারকে সুস্থ রাখা এবং অসুস্থ হলে সেই অসুস্থতা থেকে সুস্থ হবার জন্য সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। আমাদের অসতর্কতা, অসেচতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানাতে আমরা ঝুঁকির মুখে পড়ছি।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২১২টি দেশ ও অঞ্চলে এখন পর্যন্ত সাড়ে ৪৩ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন দুই লাখ ৯৩ হাজারের বেশি মানুষ। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ১৬ লাখের বেশি মানুষ।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। পরে এ ছুটির মেয়াদ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে চতুর্থবারের মতো ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দেশবাসীকে নিজ বাড়িতে থাকার আহ্বান জানানো হয়। পরে সেটাও বাড়ানো হয় ৫ মে পর্যন্ত। পরে পঞ্চমবারের মতো করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ১৬ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার।

ছুটির সময়ে অফিস-আদালত থেকে গণপরিবহন, সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে থাকছে। জনগণকে ঘরে রাখার জন্য মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীও।