মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপর সংঘটিত অত্যাচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘ। রাখাইন রাজ্যের এই সমস্যা মোকাবেলায় সরকারী নীতির নিন্দাসহ তা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি তাদের। অপরদিকে, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করবেন বলে জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার জেইদ রা’দ আল হুসেন এক বিবৃতিতে বলেন, রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে মিয়ানমার সরকার হালকাভাবে নিলে তা ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে। সপ্তাহখানেক আগে বিরোধপূর্ণ রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনের জন্য ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেত্রী নোবেলজয়ী অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিলো।
বিদেশি সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের বিরোধপূর্ণ এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেইদ বলেন, রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে সেখানে নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের আবেদন খারিজ করা হচ্ছে, যা নির্যাতিতদের জন্য অবমাননাকর এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের আবেদনও কেন মঞ্জুর হচ্ছে না প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি সেখানে ভয়াবহ পরিস্থিতির শঙ্কা করেন।
কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ) স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে রোহিঙ্গা গ্রাম পুড়ানোর সাথে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ দেয়।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আলোচনা করতে আগমী সোমবার ও মঙ্গলবার যথাক্রমে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফর করবেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি। ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম দৈনিক জাকার্তা পোস্টের অনলাইন সংস্করণে আজ শনিবার খবরটি প্রকাশিত হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার তিনি ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। এর এক দিন আগে সোমবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে।
রেতনো জানান, মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের আমন্ত্রণে ১৯ ডিসেম্বর আসিয়ান দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইয়াঙ্গুনে রাখাইন রাজ্যের অবস্থা নিয়ে বৈঠক করবেন।
রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব না হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন সু চি। প্রতিবেশী মালয়েশিয়া সু চির কঠোর সমালোচনা করেছে ।
![]()
গত ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের তিনটি সীমান্ত পোস্টে হামলায় ৯ সীমান্ত পুলিশ নিহত হওয়ার পর রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত জেলাগুলোতে শুরু হয় সেনা অভিযান। হত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটের মতো ঘটনা ঘটে। মোট ৮৬ জন নিহত এবং ৩০ হাজার বাস্তুচ্যুত হন বলে বিভিন্ন খবরে জানা যায়। এই সময়ে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করে প্রায় ২২ হাজার রোহিঙ্গা।








