মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নতুন প্রস্তাব তুলেছেন টিউলিপ সিদ্দিক। নতুন এই প্রস্তাব অনুমোদন হলে এমপিরা এ ধরণের ছুটিতে থাকাকালীন ঘরে বসেই সাংসদীয় বিষয়ে ভোট দিতে পারবেন।
এতোদিন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিয়ম ছিলো ভোট দিতে হলে যে কোনো অবস্থাতেই একজন এমপিকে সশরীর উপস্থিত থাকতে হবে। হ্যাম্পস্টিডের লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ এবার সেই বহু পুরোনো নিয়ম পাল্টানোর প্রস্তাব দেন।
টিউলিপের উত্থাপিত প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সন্তান সম্ভবা এমপির সংখ্যা গত এক দশকে তিনগুণ হয়েছে। তাই নিয়ম পরিবর্তন করলে ওই অবস্থায় এমপিরা ‘সাময়িক ছুটি’ নিয়েও নিজস্ব নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।
এছাড়া প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করলে ভুয়া ভোটের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে বলেও প্রস্তাবনায় দাবি করা হয়।
তার এই প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১২ জনের বেশি এমপি।
গত সপ্তাহে সংসদে বিতর্ক চলাকালে দুপুরের খাবার খেতে যাওয়ায় কনজার্ভেটিভ দল থেকে নির্বাচিত নারী ডেপুটি স্পিকার এলিনর লাইং টিউলিপকে তিরস্কার করে বলেন, ‘আমাকে গর্ভবতী হওয়ার অজুহাত দেখাবেন না।
শুধু এটা বলেই ক্ষান্ত হননি স্পিকার এলিনর, টিউলিপ ‘গর্ভবতী’ হওয়ার ছুতো ব্যবহার করে সব নারীকে ছোট করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একজন নারী ডেপুটি স্পিকারের এ ধরণের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক এমপি। যুক্তরাজ্য সংসদে ডেপুটি স্পিকারের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে। তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ চলে বৃটিশ সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমেও।
নতুন প্রস্তাবনার আলোচনায় টিউলিপ বলেন, ওই ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, ‘পার্লামেন্টের রীতিনীতি শুধু গর্ভবতী নারী নয়, সবার জন্যই সেকেলে হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, নতুন ভোট ব্যবস্থায় এ ধরণের ‘অন্যায্য’ সমস্যার সমাধান হবে।
টিউলিপ বলেন, ‘আমি এমন বার্তা ছড়াতে চাই না যাতে সবার মনে হোক পার্লামেন্ট সন্তান প্রত্যাশী এমপিদের প্রতি কঠোর। পার্লামেন্টকে এ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে হবে কেননা এ ধরণের আচরণ নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে এমপিদের সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
কমন্স উইমেন অ্যান্ড ইকুয়েলিটিস কমিশনের প্রধান, কনজার্ভেটিভ এমপি মারিয়া মিলার টিউলিপ সিদ্দিকের প্রস্তাবনায় সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের পার্লামেন্টটি আধুনিক, সময়ের সঙ্গে গতিশীল এবং একুশ শতকের উপযোগী হওয়াটা খুবই জরুরি।’






